শীর্ষ সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ের অভয়াশ্রমে অবাধে চলছে মা মাছ নিধন

আব্দুল কাদের জিলানী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃদেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে জেলার টাঙ্গন নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে গড়ে তোলা হয়েছে অভয়াশ্রম। এসব অভয়াশ্রমে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে অবাধে বিভিন্ন প্রজাতির মা ও পোনা মাছ ধরা হচ্ছে। এব্যাপারে কর্তৃপক্ষও তেমন নজরদারি করছে না। এতে বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তা বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে দেশি প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  জেলায় ১১টি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সাতটি অভয়াশ্রমের নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার পৌর এলাকার টাঙ্গন নদে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পশ্চিম পাশে ও শুক নদের বুড়িরবাঁধ এলাকায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তীরনই নদীর পাইলট বিদ্যালয়ের পেছনে রূপপুওে, রানীশংকৈল উপজেলার রাজবাড়ী এলাকার কুলিক নদে, হরিপুর উপজেলায় ধীরগঞ্জ এলাকায় এবং পীরগঞ্জের টাঙ্গন নদের গাঞ্জনদহ ও কদমতলী এলাকায় মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে। আরো জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১১টি মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণার পর নদের তীরে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বেড়া দিয়ে স্থানগুলো ঘিরে দেওয়া হয়। বাঁশের খুঁটির মাথায় লাগিয়ে দেওয়া হয় লাল নিশান। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পাশাপাশি সরকারিভাবে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। অভয়াশ্রম বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তোলা হয়। সরকারিভাবে উপজেলা গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের আওতায় ২০১৮ সালে ঠাকুরগাঁও শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত টাঙ্গন নদের ১ দশমিক শূন্য ৫ হেক্টর এলাকায় মৎস্য রানি অভয়াশ্রম ঘোষণা করে মৎস্য বিভাগ। কিন্তু নজরদারির না থাকায় কিছুদিনের মধ্যে তা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এখন সেখানে একটি সাইনবোর্ড ছাড়া অভয়াশ্রমের আর কোনো চিহ্ন নেই। ওই সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। মৎস্য অভয়াশ্রম নির্ধারিত এলাকার বাইরে মৎস্য সংরক্ষণ আইন মেনে চলুন। মৎস্য সংরক্ষণ আইন অমান্যকারীর জেল অথবা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত অপরাধ।’ সরেজমিনে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পশ্চিম পাশে টাঙ্গন নদ ও বুড়িরবাঁধ এলাকার শুক নদের অভয়াশ্রমে দেখা যায়, বড়শি ও ফিকা জাল দিয়ে ছোট (পোনাজাতীয় মাছ) ও বড় মাছ শিকার করছেন কয়েকজন। নদপারের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলে ও শৌখিন মাছশিকারিরা জাল দিয়ে মাছ ধরেন। রুই, কাতলা, ট্যাংরা, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ ধরা পড়ছে। মৎস্য বিভাগের নজরদারি না থাকায় লোকজন অবাধে জেলার বিভিন্ন অভয়াশ্রমে মাছ ধরছেন। জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পশ্চিম পাশে টাঙ্গন নদে অভয়াশ্রমে ফিকা জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন আরিফুল আলম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘মৎস্য অভয়াশ্রমটি যখন ঘোষণা করা হয়ছিল, তখন আমরা এখানে মাছ ধরতাম না। পরে অনেকেই সেখান থেকে মাছ ধরা শুরু করেন। তাঁদের দেখাদেখি আমিও মাছ ধরছি। আমি মনে করেছিলাম, এই অভয়াশ্রমের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।’ সম্প্রতি সদর উপজেলার বুড়িরবাঁধ এলাকার শুক নদের মৎস্য অভয়াশ্রম থেকে মাছ ধরার অভিযোগে আটজনকে কারাদন্ড ও দুজনকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে শহরের কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমজাদ আলী বলেন, অভয়াশ্রম থেকে মা মাছ শিকার করা উদ্বেগের বিষয়। অভয়াশ্রমই যদি মাছ শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা না পায়, তাহলে মাছ রক্ষা হবে কেমন করে। আর মা মাছ রক্ষা না পেলে দেশীয় মাছের সংরক্ষণ সম্ভব হবে না। টাঙ্গন নদের মৎস্য রানি অভয়াশ্রমের স্থানীয় ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, গত বছরের বর্ষায় অভয়াশ্রমের খুঁটি ও বেড়া বিলীন হয়ে যায়। বরাদ্দ না থাকায় পরে সেখানে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আফতাব হোসেন বলেন, অভয়াশ্রম স্থানীয় মৎস্য সমিতির সদস্যরা দেখভাল করেন। অভয়াশ্রমে মাছ ধরার কোনো সুযোগ নেই। সেখান থেকে যাঁরা মাছ ধরছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সদস্যদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের রাষ্ট্রপতির আহবান

আজ শুক্রবার(৩০ অক্টোবর)পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ।আগামীকাল ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০’ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে তিনি জানান পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই নীতির আলোকে কমিউনিটি পুলিশিং পরিচালিত হচ্ছে। মানুষের মন থেকে পুলিশভীতি দূর করতে হবে। পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে সামাজিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশ আয়োজিত ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০’ পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এবার ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০’ এর প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের মূলমন্ত্র কমিউনিটি পুলিশিং সর্বত্র’ অত্যন্ত যথার্থ ও সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন, গণতন্ত্র রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। বিশেষভাবে করোনাক্রান্তিকালে মানবসেবার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যগণ দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার যে অনুপম নিদর্শন স্থাপন করেছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বহুলাংশে উজ্জ্বল করেছে। মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের যথাযথ প্রসার ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিকল্পে সকলের মধ্যে স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি ও বাস্তব ক্ষেত্রে তা প্রয়োগের ক্ষমতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পুলিশ ও জনগণকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার যে যাত্রা আমরা শুরু করেছি, ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সে যাত্রায় সফলতা অর্জন করতে পেরেছি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশও একান্ত সারথী হিসেবে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে জনগণের পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ সদস্যদের সদা সচেষ্ট থাকতে হবে। একটি জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

পুলিশের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

আজ শুক্রবার(৩০ অক্টোবর)মুজিববর্ষে পুলিশ সদস্যরা জনতার পুলিশে পরিণত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আগামীকাল শনিবার ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০’ উপলক্ষে এ বাণী দেন প্রধানমন্ত্রী।এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি- মুজিববর্ষে নতুন স্পৃহা ও আদর্শে উদ্দীপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যগণ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জনতার পুলিশে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশ দেশ ও জাতির সেবায় প্রতিনিয়ত তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব একনিষ্ঠভাবে ও সাহসিকতার সঙ্গে পালন করছে। জনগণ ও পুলিশের পারস্পরিক আস্থা, সমঝোতা ও শ্রদ্ধা কমিউনিটি পুলিশিং এর মূলকথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাপনায় জনগণের সঙ্গে প্রাণবন্ত সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক সমস্যাদির উৎস উদ্ঘাটনপূর্বক তা সমাধান ও অপরাধ ভীতি হ্রাস করে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পাঁচবছরের মধ্যে ৬০ হাজার ৯১৮টি কমিটির মাধ্যমে ১১ লাখ ১৭ হাজার ৮০ জন কমিউনিটি পুলিশিং সদস্য পুলিশের সঙ্গে একযোগে অংশীদারেত্বের ভিত্তিতে কাজ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে উল্লেযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশে রেলওয়ে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং হাইওয়ে পুলিশেও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে অপরাধ দমনে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। আগামীতেও নারী নির্যাতন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে সহজলভ্য প্রযুক্তি অপরাধকে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক পরিসরে দ্রুত বিস্তৃত করছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধ উদ্ঘাটনে পুলিশকে উন্নত প্রযুক্তিজ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি জনগণ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করে সকলের সহায়তায় একযোগে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে সাইবার ক্রাইম, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন, মানিলন্ডারিং ইত্যাদি সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তার সরকার অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট, সাইবার ইউনিট গঠনসহ সবধরনের সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সরকারপ্রধান বলেন, একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দেশগড়ার লক্ষ্যে পুলিশের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে জনবল ও বাজেট বৃদ্ধিসহ সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আওয়ামী লীগ সরকারের নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সম্প্রীতিময়, শোষণমুক্ত, জঙ্গি, মাদক ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত মানবিক দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে পুলিশের সব সদস্য আরও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ৩১ অক্টোবর ‘কমিউনিটি পুলিশিং দিবস-২০২০’ উদযাপিত হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। তিনি এ উপলক্ষে পুলিশের সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। ‘কমিউনিটি পুলিশিং দিবস-২০২০’ এর সব আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

না ফেরার দেশে চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমানুল হক সেন্টু

আজ শুক্রবার(৩০ অক্টোবর)মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমানুল হক সেন্টু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি.......রাজিউন)। শহরের ফুলবাড়িয়াস্থ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি, ৩ ছেলে, ২ মেয়ে ও স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীসহ সকলের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাকে এক নজর দেখার জন্য সুহৃদরা তার বাড়িতে ভীড় করে।  বাদ জুম্মা টেংকের পাড় মাঠে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদাশেষে ও জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহন করে। পরে সদর উপজেলার বিজেশ্বরে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।   

দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১৯ জনের মৃত্যু

আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে পাঁচ হাজার ৯০৫ জনের।আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা  এ তথ্য জানানো হয়।গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ১৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০৪ জনের দেহে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৬ হাজার ৩৬৪ জন। এতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে মুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪২২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩ লাখ ২২ হাজার ৭০৩ জন। নতুন যারা মারা গেছেন তাদের ১১ জনই ষাটোর্ধ্ব। এছাড়া পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুইজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন। এদের মধ্যে পুরুষ ১২ জন ও নারী সাতজন। বিভাগ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ১৯ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রামে দুইজন, রাজশাহী একজন ও খুলনায় দুইজন ও বরিশালে একজন রয়েছেন। সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে কোনো মৃত্যু নেই। এ পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতের মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৫৪১ জন (৭৬.৯১ শতাংশ) এবং নারী এক হাজার ৩৬৪ জন (২৩.০৯ শতাংশ)। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

আজ ভাষা শহীদ রফিকের জন্মদিন

আজ শুক্রবার(৩০ অক্টোবর)ভাষা সৈনিক রফিক উদ্দীনের জন্মদিন।১৯২৬ সালে আজকের দিনে ভাষা শহীদ রফিকের জন্ম।বায়ান্নর ভাষা আন্দোলণে প্রথম মৃত্যুবরণ করেন।তিনি প্রথম ভাষা শহীদ ছিলেন।শহরে এসে শুনেন মা বলে আর ডাকা যাবে না, রক্তে শিহরণ জাগে রফিকের। মায়ের মুখের ভাষা কেড়ে নিবে এরা কারা?  মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে ঢাকা এসেছিলেন বিয়ে বাজার করতে। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখিরত ঢাকায় প্রাণ যায় ভাষার জন্য। সামনে বিয়ে। হবু বউয়ের জন্য শাড়ি, গহনা, আলতা, স্নো নিতে এসেছিলেন শহরে। বাড়ি ফিরেই বসবেন বরের বেশে। মা, হবু বউ আর সবার অপেক্ষা, উপেক্ষা করে রফিক চললেন মিছিলে।  ৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ধরেন স্লোগান। পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত গুলি বর্ষণ। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কত যুবক। মাথায় গুলি লাগে রফিকের। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মস্তক।      বাংলা ভাষার মর্যাদার লড়াইয়ে প্রাণ হারান বিয়ের বাজার করতে আসা রফিক উদ্দীন। তার মরদেহও নিতে দেয়নি পাকিদস্যুরা, কবর দিয়ে দেয় ঢাকায়। বায়ান্নতে ভাষার জন্য জীবন দিয়ে ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান রফিক। 

বেকিং নিউজ » ফেনীতে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফেনীর দাগনভূঁঞা-বসুরহাট সড়কে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফাজিলপুরে এ পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুটিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ফেনী-নোয়খালী আঞ্চলিক সড়কের দাগনভূঁঞা-বসুরহাট অংশে দাগনভূঁঞা বাজারের পাশে একটি দ্রুতগামী বাস একটি সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান এবং তিনজন আহত হন। নিহত দুজন হলেন: সিরাজগঞ্জের ফুলবাড়ী গ্রামের মো: সোলায়মানের ছেলে মো: জাকারিয়া (৩৫) ও নেত্রকোনা জেলার আটপাড়ার নবাবপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আইনুল হক (৩০)। এ ঘটনায় আহতরা হলেন: নেত্রকোনা জেলার আটপাড়ার মাজু মিয়ার ছেলে আনিস(২২), একই গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে মাসুদ (২৩) এবং নোয়াখালী জেলার কবির হাটের নলুয়া গ্রামের আবদতুল বাতেনের ছেলে সুজন (৩০)। অপরদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফাজিলপুরে একটি কাভার্ডভ্যান অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে কাভার্ডভ্যান হেলপার সাদ্দাম হোসেন (২৫) নিহত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লার অহিদুর রহমানের পুত্র।

রাজধানীসহ সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঈদে মিলাদুন্নবীর শোভাযাত্রা হচ্ছে।   রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চ এলাকায় ঈদে মিলাদুন্নবীর বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। আয়োজিত র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার মহানগর নাট্যমঞ্চে এসে শেষ হয়। এছাড়াও রাজধানীর রমনা এলাকায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চলছে আলোচনা সভা। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নেয়া হয়। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারা দেশে ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান চলছে। এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ রাজধানীতে আশেকানে মাইজভান্ডারি অ্যাসোসিয়েশন, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারিয়া, নারিন্দা দরবার শরিফ, আহলা দরবার শরিফ, রেজভিয়া দরবার শরিফ ও ইসলামী যুবসেনা পৃথক জশনে জুলুশ বের করে।   হিজরি সনের ১২ই রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাত দিবস হিসেবে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। 

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুসে লাখো ভক্তের ঢল »

এস,আহমেদ ডেক্স প্রতিবেদনঃ» আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাসে একাকার হওয়াদিন।আজ ১২ রবিউল আউয়াল, শুক্রবার। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। এবার কোভিড ১৯ মহাদুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার চট্টগ্রামের  ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ময়দান থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের করা হয়। শুক্রবার, অক্টোবর ৩০,ভোর থেকেই  বিভিন্ন স্হান থেকে মিছিল সহ জশনে জুলুস যোগ দিতে আসেন মাদ্রাসা ময়দান এলাকায়।প্রধান সড়কগুলোসহ  বিভিন্ন স্থানে ‘কলেমা তৈয়ব’ খচিত পতাকা, জাতীয় পতাকা ও রঙিন পতাকায় সাজানো হয়েছে     ।নগরীর ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়াম মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা থেকে জশনে জুলুশ শুরু হয়। এদিকে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন জামেয়া ময়দানে এসে জড়ো হতে থাকেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা লোকজন বিবিরহাট, মুরাদপুর থেকে জুলুসে যোগ দেন। জুলুস শুরুর আগে খানকায়ে কাদেরীয়ায় মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন তারা শুভেচ্ছা জানান এবং রাসুলের (সা.) আদর্শ নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।জানানো হয়েছে, জশনে জুলুস বিবিরহাট, মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, প্যারেডের উত্তর পাশ হয়ে সিরাদ্দৌল্লা, আন্দরকিল্লা, জামালখান, কাজির দেউড়ি, ষোলশহর দুই নম্বর গেইট পুনরায় মুরাদপুর হয়ে জামেয়া মাঠে গিয়ে শেষ হয় এরপর মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শেষ হয়।  পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে চট্টগ্রামে আনজুমানে রাহমানিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে দেশের সর্ববৃহৎ জসনে জুলুসের র‍্যালিতে ছিলেন   পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান, আনজুমান-ই রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ সিরাজুল হক, 

একুশে থেকে একাত্তর এবং ধর্মান্ধদের হুক্কাহুয়া» কামরুল হাসান বাদল বিশিষ্ট কবি সাংবাদিক, সংগঠক লেখক,ও টিভি ব্যক্তিত্ব

১. একুশে টিভির পদযাত্রা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার টিভি জার্নালিজমের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। শুধু টিভি জার্নালিজমই নয় টেলিভিশন বলতে আমরা যা বুঝি সে বোঝার জগতে একটি বিপ্লব। গতানুগতিকার বাইরে আধুনিক, উদার, মুক্ত, অসামপ্রদায়িক টিভি চ্যানেল হিসেবে একুশে টিভি খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এদেশে। প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু, মুক্তিযোদ্ধা সাইমন ড্রিঙ্কের দীর্ঘ স্বপ্নের বাস্তবায়ন ছিল একুশে টিভি। ব্রিটিশ হলেও সাইমন ড্রিঙ্ক ছিলেন বাঙালি জাতি ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরক্ত ও শ্রদ্ধাশীল। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত টিভি চ্যানেলটির নাম রেখেছিলেন বাঙালির অনন্য গৌরবের বায়ান্নের একুশের নামে- একুশে টেলিভিশন। ২০০০ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন চালু হয় বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলটি। অভিজ্ঞ সাংবাদিক সাইমন ড্রিঙ্কের নেতৃত্বে বাংলাদেশের এক ঝাঁক তরুণ সাংবাদিক রাতারাতি একুশে টেলিভিশনকে জনপ্রিয়তা তুঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। সম্পূর্ণ “সেক্যুলার” (এদেশের কিছু মানুষ চোর, বাটপার, ভেজালকারী, দুর্নীতিবাজ, ধর্ষকদের চেয়েও এই শব্দটিকে বেশি ঘৃণা করে) দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালিত এই টিভি চ্যানেলটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বৈরীতারও মুখোমুখিতে পড়ে। দেশের প্রগতিবিরোধী ধর্মান্ধ, সামপ্রদায়িক গোষ্ঠী শুরু থেকে এই চ্যানেলের বিরুদ্ধে নানা প্রকার কটূক্তি, নিন্দা ও কুৎসা রটনা করতে থাকে। এই সামপ্রদায়িক শক্তির আশ্রয়স্থল ও প্রকাশ্য প্লাটফর্ম বিএনপি-জামায়াতের প্রবল নিন্দা ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় একুশে টিভিকে। তাই ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রথম আক্রোশের শিকার হয় একুশে টিভি। নানা প্রকার চাপ, মামলা ইত্যাদি সৃষ্টি করে একুশে টিভির সমপ্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহান বন্ধু সাইমন ড্রিঙ্ককে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ যাদের পছন্দ নয়, প্রগতি, মানবতা, নারীর প্রতি সম্মান প্রদান যাদের পছন্দ নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসামপ্রদায়িকতা যাদের পছন্দ নয় তাদের সংখ্যা এদেশে কম নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধু বিএনপি জামায়াত নয়, আওয়ামী লীগেরও অনেকে উপরিভক্ত বিষয়গুলোকে পছন্দ করে না। ফলে যে ব্যক্তি, দল, প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যম এসবের বিরুদ্ধে তাদের প্রতি বিরূপ হয়ে ওঠে এই-অপশক্তি। যেসব কারণে একদিন একুশে টিভি আক্রমণের শিকারে পরিণত হয়েছিল দুই দশক পর একই কারণে একাত্তর টিভি বা অন্যান্য কয়েকটি গণমাধ্যম যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসামপ্রদায়িকতার প্রতি অবিচল এবং একই সঙ্গে ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ ও অপসংস্কৃতি বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে তারা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। জনগণের বিশাল একটি অংশ মুক্তবুদ্ধি, নারী স্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা তথা অসামপ্রদায়িকতার ঘোরতর বিরোধী তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এদের মনোজগৎ মধ্যযুগীয় অন্ধকারে নিমজ্জিত। যা কিছু সত্য, সুন্দর ও শোভন তার বিরোধিতা করাই যেন তাদের প্রধান লক্ষ্য। এরা ধর্মীয়ভাবে চরম অসহিষ্ণু। অন্য ধর্মের প্রতি তো বটেই নিজ ধর্মের ভিন্ন তরিকার মানুষের প্রতিও এদের আচরণ অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অমানবিক।
২. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। আইইডিসিআরের পরিচালক। তিনি ফাউন্ডেশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ফেলো। বিখ্যাত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী এই অধ্যাপক এমবিবিএস করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে। কোভিড-১৯ শুরুর দিকে তিনি প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত হয়ে প্রতিদিন আপডেট দিতেন। ব্যস শুরু হয়ে গেল কিছু মানুষের বিকৃত অভিরুচির নগ্ন আক্রমণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রসঙ্গের বাইরে এই নারীর পোশাক নিয়ে ঘৃণ্য ও আপত্তিজনক মন্তব্য। সেব্রিনার অপরাধ কী? আমরা ধরে নিতে পারি সাধারণ বাঙালির সাজসজ্জাই হয়েছে অনেকের চক্ষুশুল। তিনি হিজাব পরেননি। এবং সম্পূর্ণ আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাষায় তিনি তাঁর বক্তব্য তুলে ধরতেন।
এই অপশক্তি বারবার নারীর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ধর্ষণের জন্য এরা ধর্ষকের বিরুদ্ধে যত না সোচ্চার তার চেয়ে বেশি নারীর পোশাক, জীবনযাপন নিয়ে। এরা ধর্ষণের জন্য দায়ী করে নারীর পোশাককেই। কিন্তু যখন কোনো শিশু ধর্ষিত হয়, যখন হিজাব পরা কোনো নারী ধর্ষিত হয়, যখন ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কোনো নারীকে ধর্ষণ করা হয় তখন তার কোনো সদুত্তর তারা দিতে পারে না। যখন মাদ্রাসায় শিশুরা বলাৎকারের শিকার হয় তখন তারা সে ধর্ষক ইমাম বা শিক্ষকের ওপর শয়তান ভর করেছিল বলে যুক্তি দেখায়।
একাত্তর টিভিসহ দেশের প্রগ্রতিপন্থী মানবিক উদার দৃষ্টিভঙ্গির সংবাদমাধ্যমগুলোকে আক্রমণ করছে যারা তারাই সমাজে সামপ্রদায়িকতা, মৌলবাদ, দুর্নীতি ও ভণ্ডামীকে লালন করেন। ধর্মের নামে অধর্মের কথা বলেন। এরাই ওয়াজ-নসিহতের নামে ধর্মীয় মিথ্যাচার প্রচার করেন। ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করেন। নারীদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য প্রদান করেন। এরাই ধর্মকে অন্যদের কাছে হাস্যকর করে তোলেন-সাঈদিকে চাঁদে দেখা গেছে, করোনার সঙ্গে আলাপ আলোচনা হয়েছে, বিল গেটসের সঙ্গে কথা হয়েছে, ইংলিশ লিগে ফুটবল খেলেছে ইত্যাদির মতো, মিথ্যা, বানোয়াট গুলতানিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে। আর এসব নিয়ে যখন প্রশ্ন তোলা হয় তখন সে মিডিয়াকে বর্জনের ডাক দেয় তারা।
একাত্তর টিভির অপরাধ তারা এ ধরনের ওয়াজকারী তথাকথিত মাওলানাদের জনতার মুখোমুখি করে। তারা মাদ্রাসা শিক্ষার পশ্চাদপদতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করে। তারা নারী ও শিশুর প্রতি সহিংস অপরাধের তীব্র প্রতিবাদ করে। এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।
একাত্তরসহ কয়েকটি টেলিভিশন এবং মিডিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মকে কটাক্ষ করার অভিযোগ যারা তোলে তারা নিশ্চুপ ও প্রতিবাদহীন থাকে যখন তথাকথিত মাওলানারা করোনাভাইরাস বলে কিছু নেই, করোনাভাইরাস আছে বিশ্বাস করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে, করোনাভাইরাসের সঙ্গে আলাপ হয়েছে ইত্যাদি বলে পক্ষান্তরে ধর্মকেই বিতর্কিত এবং হাস্যকর করে তোলে। এইসব তথাকথিত মাওলানাদের যখন মিডিয়ার মুখোমুখি করে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করা হয় তখন তাকে ধর্মীয় অবমাননা বলে প্রচার করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হয়। আসলে তো ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা উচিৎ তাদের বিরুদ্ধে যারা অন্তসারশূন্য ও মিথ্যা তথা দিয়ে ইসলাম ধর্মকে খাটো করছে।
৩. এইসব অপপ্রচারকারী কারা? আমরা তাদের চিনি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে এরা ফতোয়া দিয়েছিল নৌকায় ভোট দিলে বউ তালাক হয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধকে শিরিক বলেছিল। সংখ্যালঘুদের সম্পত্তিকে মালে গণিবত বলে আখ্যা দিয়েছিল। পাকিস্তান রক্ষায় রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গঠন করেছিল। এরাই পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি গঠন করেছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে তদবির করেছিল। এরা বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করেছিল। সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাদ দিয়েছিল। বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্থলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল। সংবিধান ও রাষ্ট্রের সকল পর্যায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দিয়েছিল। সংবিধান ও রাষ্ট্রকে সামপ্রদায়িক করে তুলেছিল। বাংলাকে আফগানিস্তান বানাতে চেয়েছিল। দেশে জঙ্গি গড়ে তুলেছিল। আইএস স্টাইলে ইসলামিক স্টেট গড়ার চেষ্টা করেছিল। এরা ওয়াজের নামে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে। জনগণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে দেশের সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করে। নারীদের অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করে। আর এই কথাগুলো যারা তুলে ধরে, প্রতিবাদ করে উল্টো তাদের ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারী, ধর্মবিদ্বেষী বলে প্রচার করেন।
এই গোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হতে হয়েছিল একুশে টিভিকে (বর্তমানে একুশে টিভির নীতি, পরিচালনা ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই)। এখন শিকার হয়েছে একাত্তর টিভি। নামের কারণে প্রথমেই এ দুটি চ্যানেল তাদের পছন্দ হওয়ার কথা নয়। আর নীতি ও লক্ষ্যের কারণে প্রতিক্রিয়াশীলদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। শুধু একাত্তর নয়, দেশের যেসব সংবাদমাধ্যম মুক্তচিন্তা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তার সবকটিই ওই অপশক্তির আক্রমণের শিকার।
একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ৭১ টিভির বিরোধীরা মূলত একাত্তরের চেতনাবিরোধী। তবে এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম লক্ষ্য করেছি। যা প্রত্যক্ষ করেছিলাম দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচারের সময়ে। অনেক আওয়ামী লীগ ঘরানার মানুষকে দেখেছি তারা সাঈদীকে একজন ইসলামিক স্কলার বা ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে মনে করতেন। একাত্তর টিভি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরু। তারপর এর সঙ্গে গলা মিলিয়ে সামিল হয়েছে আজহারী থেকে শুরু অনেকে। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম সে তালিকায় অনেক আছেন, ফেসবুকের আইডিতে যাদের ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা বর্তমান সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিতি বা স্ট্যাটাস আছে।
এই বিষয়টি আমাকে হতাশ করেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধারণ করে। সংবিধানে সকল ধর্মের সমান অধিকারের কথা আওয়ামী লীগই সন্নিবেশিত করেছে। এই দলের গঠনতন্ত্রেও তার উল্লেখ আছে। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যার মূলমন্ত্র শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি। কিন্তু দুঃখজনক হলো সে দলের অনেকেই এই চেতনায় বিশ্বাস করে না। সম্ভবত ছাত্রলীগের বর্তমান সদস্যদের অধিকাংশই জানে না ছাত্রলীগের মূলমন্ত্র কী। কিংবা জানলেও তার তাৎপর্য বোঝার ক্ষমতা তাদের নেই। ফলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ করলেও তাদের আচরণে সামপ্রদায়িক আচরণ বিদ্যামান। বঙ্গবন্ধু যে লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে সংগঠনটি।
এ কথা এখন স্বীকার না করে উপায় নেই যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ থাকলেও, রাষ্ট্রীয় দর্শনে এখনো ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধারণ করলেও সমাজ এখন পুরোটাই জামায়াতি ভাবধারায় বিশ্বাসীদের দখলে। মানুষ এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ধর্মান্ধ, রক্ষণশীল, প্রতিক্রিয়াশীল ও সামপ্রদায়িক। সমাজ আগের চেয়ে অনেক বেশি অসহিষ্ণু, দুর্নীতিপরায়ণ, নিষ্ঠুর, ধর্ষণপ্রবণ অমানবিক হয়ে পড়লেও এর থেকে পরিত্রাণের পরিবর্তে কে কার চেয়ে বেশি ধার্মিক তা দেখানোর প্রতিযোগিতা বেড়েছে সমাজে। মানুষকে মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষার পরিবর্তে সমাজে বকধার্মিক বৃদ্ধিরই প্রতিযোগিতা চলছে।
আজ তারা একাত্তর টিভি বয়কটের ডাক দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা চালাচ্ছে। এটাতে সফল হলে অন্য টেলিভিশন বা মিডিয়ার পেছনে লাগাবে একইভাবে। কাজেই দেশের প্রগতিমনস্ক মিডিয়াগুলোকে একযোগে এবং একজোট হয়ে এই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে। এরাতো দৃশ্যত অপশক্তি। সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা মৌলবাদী গোষ্ঠীটিকেও চিহ্নিত করে তাদের মুুখোশও উন্মোচন করা দরকার দেশ ও জাতির স্বার্থে। মনে রাখতে হবে চিন্তার স্বাধীনতা যারা চায় না, মুক্তচিন্তাকে যারা বাধাগ্রস্ত করে তারা শুধু গণতন্ত্রেরই শত্রু নয়, তারা মানবতারই শত্রু। চেহারাটি ভিন্ন হতে পারে কেবল।
এক্ষেত্রে জার্মান ধর্মযাজক কবি ও লেখক মার্টিন নিম্যোলারের বিখ্যাত কবিতা ‘ফার্স্ট দে কাম’ বা ‘ওরা প্রথমে এসেছিল’ স্মরণ করতে চাই।
কারণ কবিতাটি থেকে অনেক শিক্ষা নেওয়ার বিষয় আছে। “যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিল, আমি কোনো কথা বলিনি
কারণ আমি কমিউনিস্ট নই।
তারপর যখন ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকদের ধরে নিয়ে গেল আমি নীরব ছিলাম
কারণ আমি শ্রমিক নই।
তারপর ওরা যখন ফিরে এলো ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে আমি তখনও চুপ হয়ে ছিলাম,
কারণ আমি ইহুদি নই।
আবারও আসল ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে আমি টু শব্দটিও করিনি
কারণ আমি ক্যাথলিক নই।
শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,
আমার পক্ষে কেউ কোনো কথা বলল না কারণ, কথা বলার মতো তখন আর কেউ বেঁচে ছিল না।”

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী সমাজকর্মী, স্কাউট আন্দোলন এর কর্ণধার ও আলোর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শিশু কিশোর সংগঠন এর উপদেষ্টা আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, প্রিয় স্যারের প্রতি আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, বলেন আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

মেসির গোলে আর্জেন্টিনার জয় বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব জয় দিয়ে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে লিওনেল মেসি নেতৃত্বাধীন দলটি। দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন অধিনায়ক নিজেই।আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হয় ম্যাচটি। বুয়েনস আয়ার্সের লা বোমবোনেরা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৩তম মিনিটে পেনাল্টির মাধ্যমে গোল তুলে নেন বার্সেলোনা মহাতারকা।জুনিয়র্সের মাঠে ১-২-৩-৪ ফরম্যাটে দল সাজিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি।ইন্টার মিলানের লাউতারো মার্টিনেজ ছিলেন ফরোয়ার্ড লাইনে। মেসি ও সেভিয়ার লুকাস ওকাম্পোস ছিলেন দুই উইংয়ে। ডিফেন্সে রিভার প্লেটের গঞ্জালো মন্টিয়েল, ফিওরেন্টিনার লুকাস মার্টিনেজ, ম্যানচেস্টার সিটির নিকোলাস ওটামেন্ডি ও আয়াক্স নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো ছিলেন। গোলকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন রিভার প্লেটের ফ্রাংকো আরমানি।   ঘরের মাঠে দাপট দেখিয়ে খেলা শুরু করে আলবিসেলেস্তেরা। ১১ মিনিটের মাথায় ওকাম্পোসকে ফেলা দেয়া হয় ইকুয়েডরের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে। মেসি শট নিলে আর্জেন্টিনার হয়ে ক্যারিয়ারের ৭১ তম গোলটি তুলে নেন। বলের নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিকদের কাছে থাকলেও এদিন খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি লাউতারো মার্টিনেজ।ওকাম্পোস, রদ্রি পল ও গঞ্জালো মন্টিয়েলের পারফরমেন্স ছিল উজ্জ্বল। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে পারেদেস থেকে পাওয়া বল লাউতারো ওকাম্পোসের কাছে দিলে একটি সুযোগ নষ্ট নয়। শেষ পর্যন্ত কোনও গোল না হলে ২০২২ বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার লড়াই জয় দিয়েই শুরু করে মেসিরা। আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় কাতার বিশ্বকাপের বাছাইয়ের দ্বিতীয় ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আকাশী-সাদারা।

সর্বশেষ সংবাদ
ঠাকুরগাঁওয়ের অভয়াশ্রমে অবাধে চলছে মা মাছ নিধন পুলিশ সদস্যদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের রাষ্ট্রপতির আহবান পুলিশের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে: প্রধানমন্ত্রী না ফেরার দেশে চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমানুল হক সেন্টু দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১৯ জনের মৃত্যু আজ ভাষা শহীদ রফিকের জন্মদিন বেকিং নিউজ » ফেনীতে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ রাজধানীসহ সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুসে লাখো ভক্তের ঢল » একুশে থেকে একাত্তর এবং ধর্মান্ধদের হুক্কাহুয়া» কামরুল হাসান বাদল বিশিষ্ট কবি সাংবাদিক, সংগঠক লেখক,ও টিভি ব্যক্তিত্ব