শীর্ষ সংবাদ

চাঁদ দেখা গেছে, ভিন্ন মাত্রায় আগামীকাল ঈদ-উল-ফিতর

দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে এবার ভিন্ন মাত্রার ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে তা নির্ধারিত হয় শনিবার রাতেই। এদিন চাঁদ না দেখা যাওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে ৩০ রোজা শেষে আগামীকাল সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের দিন নির্ধারণ করা হয়।এই ঈদের উপলক্ষে সাধারণত তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটিতে স্বজনদের সাথে ঈদ করার জন্য কয়েক দিন ধরেই নাড়ির টানে গ্রামে ছুটে যায় লাখ লাখ মানুষ। রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। কারোনা পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই সাধারণ ছুটি চলছে। গণপরিবহন বন্ধ। ব্যক্তিগত গাড়িতে কিছু সংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িমুখো হলেও অধিকাংশ মানুষই এবার যেতে পারছে না। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে। নিজ বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। ঈদের শুরুটা হয় ঈদগাহে সবাই মিলে নামাজ পড়তে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। করোনার কারণে স্মরণকালে এই প্রথম ঈদের জামাত হবে না ঈদগাহে। গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জাতীয় ঈদগাহে নেই জামাতের আয়োজন। করোনার বিস্তার রোধে দেশের কোথাও এবার ঈদগাহে জামাত হবে না। মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাত করার পরামর্শ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় হবে। পরের জামাতগুলো হবে ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং পৌনে ১১টায়। অন্যান্য মসজিদেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাত আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঙালির কাছে ঈদ শুধু আনন্দের নয়, সব ভেদাভেদ ভুলে পরম শত্রুকেও বুকে টেনে নেওয়ার দিন। কিন্তু করোনার সংকটে এখানেও বাধা রয়েছে। ঈদ জামাতের পর কোলাকুলি করা যাবে না, হাত মেলানো যাবে না

ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঈদ শুভেচ্ছা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রার্থনা ও আরাধনা তাদেরকে করোনাভাইরাস সংকট থেকে উত্তরণে শক্তি জোগাবে বলে মনে করেন তিনি।ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন,মুসলমানরা ঈদুল-ফিতর উদ্‌যাপন করছে। আমরা আশা করি, প্রার্থনা ও আরাধনা দিয়ে তারা করোনা সংকট কাটিয়ে ওঠার শক্তি পাবে।” গত কয়েকটা সপ্তাহ ও মাস ধরে আমরা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়েছি। এই অনভিপ্রেত সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে সহযোগিতা পেতে আমরা আমাদের বিশ্বাস, পরিবার ও সুহৃদদের ওপর নির্ভর করেছি।”  মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, কঠিন এই সময়ে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা যাতে ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে শান্তি খোঁজে নিতে পারে সে জন্য উপসনাগুলো খুলে দিতে নতুন গাইডলাইনের আশ্বাস দেন ট্রাম্প। ঈদ বার্তায় ডোনাল্টড ট্রাম্প বলেন, ‘বর্তমান কঠিন সময়ে পরিস্থিতিতে যে কোনো সময়ের চেয়ে মানুষের শান্তিটা বেশি চাওয়া, যা ধর্ম চর্চার মাধ্যমে পাওয়া যায় ‘ “সবাইকে শুভ ও আনন্দপূর্ণ ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।”

শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদ পালন করুন : সেতুমন্ত্রী

শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ পালন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।আজ রবিবার তার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক  সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তিনি জানান,সামাজিক দায়বদ্ধতা ও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হোক এবারের ঈদ। এবারের ঈদ শেষ ঈদ নয় অপেক্ষা করি পরবর্তী সুরভিত সমাজের বর্ণময় ঈদের জন্য।পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ মুসলিম জাহানের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান । সেতুমন্ত্রী বলেন,আমরা কামনা করছি করোনা আক্রান্তদের নিরাময়। প্রত্যাশা করছি সুস্বাস্থ্য, নিরবচ্ছিন্ন, শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি।সৌহার্দ্য সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে গড়ে উঠুক মহামারী করোনাসহ সব সংকট জয়ের সুসংহত বন্ধন। করোনা সংকট কেটে যাবে এমন আশা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতীতে বাংলাদেশে যেভাবে সংকট পেরিয়ে আশার সুবর্ণ প্রদীপ জ্বালিয়েছে, ঠিক একইভাবে করোনা সংকট জয় করে আবারো নব উদ্যোমে কাঙ্খিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আসুন মনের গহীনের আলো জ্বেলে অমানিশার আধার দূর করি। সহমর্মিতা সহজাত বাঙালি চেতনায় জাগিয়ে তুলি নিজেকে, সমাজকে ও দেশকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বে আমরা অতীতের মতো এবারও নিকটে সাগর পেরিয়ে তীরে পৌঁছাবো ইনশাল্লাহ। ওবায়দুল কাদের ভিডিও বার্তায় করোনা যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধা এবং সুপার সাইক্লোন আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন কাজে নিয়োজিতদের ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান

করোনার শুরু থেকেই ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা

করোনা থেকেই শুরু করে প্রায় সব সংসদ সদস্য নিজ এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।আজ রবিবার সরকারি বাসভবনে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন।করোনা মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের আন্তরিক ভূমিকা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জানান,দেশে একটি চিহ্নিত মহল আছে, যারা বিরাজনীতিকরণ করতে চায় এবং তাদের অনেকেই ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সমর্থক ও সুবিধাভোগী। এই মহলটি রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্যদের হেয় প্রতিপন্ন করার অশুভ উদ্দেশ্যে এধরণের বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট পরিবেশন করে, যা সমীচিন নয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন,সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ঘরে থাকার অনুরোধ জানান।সেটি সবার জন্যই প্রযোজ্য। আর সংসদ সদস্যরা এলাকায় গেলে কিছু লোকসমাগম হয়ই। সেটি যথাসম্ভব এড়ানোরও প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ, যাদের বাসায় থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল তারা ও দু’একজন ব্যতিক্রম বাদে প্রত্যেক সংসদ সদস্যই নিজ এলাকায় ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। ত্রাণ তৎপরতা চালানোর জন্য এলাকায় গিয়ে বসে থাকতে হয় না বা নিজের হাতেও ত্রাণ দিতে হয় না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এলাকায় না গিয়েও লোকজনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা যায় এবং সেটি প্রত্যেক সংসদ সদস্য শুরু থেকেই করে আসছেন। মন্ত্রীদের কথা উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বন্ধের মধ্যেও বেশিরভাগ মন্ত্রীরই সরকারি কাজ ছিল এবং আছে। প্রত্যেকেকেই বিভিন্ন কাজ তদারক করতে হয়েছে। নিজ মন্ত্রণালয়ের উদাহরণ দিয়ে ড. হাছান বলেন, আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই খোলা, পূর্ণ বন্ধের মধ্যেও আমরা প্রতিদিন অফিস করেছি। আরো কিছু মন্ত্রণালয়ও করেছে। নিজ এলাকায় করোনা মোকাবিলার কথা বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান জানান, এরমধ্যেই বেশ কয়েকবার আমাকে এলাকায় যেতে হয়েছে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভাগীয় সমন্বয় সভা করতে হয়েছে। এলাকায় থেকে ত্রাণ তদারক ও বিতরণের পাশাপাশি ঢাকা থেকেও আমি যেমন প্রতিদিন এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছি, তেমনি অন্য সংসদ সদস্যরাও নিচ্ছেন। এসময় দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানান তথ্যমন্ত্রী। করোনার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবারের ঈদ উদযাপনে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করমর্দন ও কোলাকুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোতেই ঈদ অর্থবহ হবে, বলেন হাছান মাহমুদ।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, ঈদের শুভেচ্ছা

মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের জনগণসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ঈদ মোবারক।আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার নেতার প্রতি। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। শ্রদ্ধা জানাই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। আমি স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালরাতে ঘাতকদের হাতে নিহত আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের ছোট্ট শেখ রাসেলকে- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা বধূ- সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ সকল শহিদকে। প্রিয় দেশবাসী, কথায় আছে ‘বিপদ কখনও একা আসে না’। করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে গত বুধবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আঘাত হানে। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং আমাদের আগাম প্রস্তুতির কারণে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে জন্য বিভিন্ন দ্বীপ, চরাঞ্চল এবং সমুদ্র-উপকূলে বসবাসকারী ২৪ লাখেরও বেশি মানুষকে এবং প্রায় ৬ লাখ গবাদিপশু আমরা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি। সর্বাত্মক প্রস্তুতি সত্বেও গাছ ও দেয়াল চাপায় বেশ কয়েকজন মানুষ মারা গেছেন এবং বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আমরা ইতোমধ্যেই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছি এবং ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।করোনা নামক এক প্রাণঘাতী ভাইরাস সারা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এ বছর আমরা সকল ধরনের গণ-জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছি। কাজেই স্বাভাবিক সময়ের মত এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা সম্ভব হবে না। ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  সবাইকে আমি ঘরে বসেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই দুঃসময়ে আপনি আপনার দরিদ্র প্রতিবেশী, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর কথা ভুলে যাবেন না। আপনার যেটুকু সামর্থ্য আছে তাই নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। তাহলেই ঈদের আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে আপনার ঘর এবং হৃদয়-মন। প্রিয় দেশবাসী, পবিত্র ঈদুল ফিতরে উপলক্ষে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের যারা সামনে থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শুভেচ্ছা জানাই পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ সরকারের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। অনেকক্ষেত্রে করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থাও তাদের করতে হচ্ছে। সংবাদকর্মীরা সংক্রমনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরছেন এবং মানুষকে সচেতন করতে সহায়তা করছেন। তাদেরও ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এসব কাজ করতে গিয়ে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মী এবং সংবাদকর্মী করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।  ইতোমধ্যে আমরা চিকিৎসা সক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি করেছি। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাসপাতালকেও আমরা করোনাভাইরাস চিকিৎসায় সম্পৃক্ত করেছি। জরুরিভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। হাসপাতালগুলোতে সকল ধরনের রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রিয় দেশবাসী, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে সারা বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। অগণিত মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও এই মহামারী মানুষের রুটি-রুজির উপর চরম আঘাত হেনেছে। সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য জরুরি কিছু সেবা ছাড়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে অফিস-আদালত, কল-কারখানা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু। লাখ লাখ মানুষ আজ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। হারিয়েছেন তাদের রুটি-রুজির সংস্থান। এসব কর্মহীন মানুষের সহায়তার জন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খাদ্য সহায়তা ছাড়াও দেওয়া হচ্ছে নগদ অর্থ। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মে মাসে দরিদ্র পরিবারের জন্য অতিরিক্ত ৫০ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে তারা এই চাল কিনতে পারবেন। কাজ হারিয়েছেন কিন্তু কোন সহায়তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত নন এ ধরনের ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে মোট ১২৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।  এছাড়া সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অনেক সদাশয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দরিদ্র জনগণের সহায়তায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে এগিয়ে এসেছেন। আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এইবার ঈদে তৈরি করুন নওয়াবি সেমাই

স্বর্ণালী প্রিয়া ডেক্সঃকরোনা ভাইরাসের সংক্রম কারণে মধ্যেই পালিত হতে যাচ্ছে ঈদ।এবারের ঈদ অন্যরকম। সবাই সবার বাসাতেই থাকতে হবে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কারণে।তাই এবারের ঈদ অন্যরকম হলেও নিজেদের জন্যই সব আয়োজন। তাই ঈদে বানিয়ে ফেলতে পারেন মজার ডেসার্ট। ডেসার্ট হিসেবে নওয়াবি সেমাই কেমন হয়? এটির উপরের অংশ মচমচে থাকে ও ভেতরে থাকে ক্রিমের লেয়ার, খেতেও ভীষণ মজা। কীভাবে তৈরি করা যাবে এই মজাদার ডেসার্ট নওয়াবি সেমাই? উপকরণ: লাচ্ছা সেমাই- ১ প্যাকেট,ঘি- দেড় টেবিল চামচ,কিসমিস- ২ টেবিল চামচ,বাদাম কুচি- ২ টেবিল চামচ,গুঁড়া দুধ- ১/৩ কাপ ও ১ কাপ,চিনি- স্বাদ মতো,কনডেন্সড মিল্ক - ১/৩ কাপ,কর্ন ফ্লাওয়ার - ২ টেবিল চামচ ইত্যাদি। প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে প্যানে ঘি গরম করে কিসমিস ও বাদাম কুচি ভেজে নিন। লাচ্ছা সেমাই ভেজে দিয়ে দিন প্যানে। সামান্য নেড়েচেড়ে চিনি ও ১/৩ গুঁড়া দুধ দিন। চুলার আঁচ কম থাকবে। খুব সামান্য পানি ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে চিনি দ্রুত গলবে ও সেমাই অতিরিক্ত মচমচে হবে না।এবার প্যানে পৌনে এক কাপ পানি ও ১ কাপ গুঁড়া দুধ দিন আরেকটি প্যানে। চাইলে ১ লিটার তরল দুধ জ্বাল দিয়ে অর্ধেক করে নিতে পারেন। ঘন দুধে কনডেন্সড মিল্ক ও কর্ন ফ্লাওয়ার দিন। সামান্য পানিতে গুলে তরল করে তারপর ধীরে ধীরে মেশাবেন কর্ন ফ্লাওয়ার মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করুন। সার্ভিং ডিসে সার্ভ করুন। ছোট গ্লাস কাপ কিংবা বড় পাত্রে সার্ভ করতে পারেন। প্রথমে অর্ধেক অংশ লাচ্ছা সেমাই দিয়ে উপরে দুধের ফিলিং দিন। উপরে আরেক লেয়ার করে দিয়ে দিন সেমাই। পরিবেশনের আগে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিতে পারেন।

গরমে ব্রণের সমস্যা দূর করবে বরফ

স্বর্ণালী প্রিয়া ডেক্সঃগরমে ফুসকুড়ি আর ব্রণের সমম্যা হওয়া স্বাভাবিক। তবে মানসিক ও শারীরিক চাপে থাকলে ব্রণ হতে পারে। চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। যেহেতু গরমের সময়টাতে এসব সমস্যা বেশি হয়ে সেহেতু ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন বরফ।ত্বকের ফুসকুড়ি, সানবার্ন কমাতে এবং ত্বকে রক্ত চলাচলে বরফ খুবই উপকারী।বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি থাকায় নিজের একটু যত্ন করার সুযোগ মিলেছে। তাহলে নিজের যত্নে একটু সচেতন হোন। ত্বকে বরফ কীভাবে ব্যবহার করা যায়। ব্রণ ও ফুসকুড়ির প্রতিকার গ্ল্যান্ডের থেকে অতিরিক্ত তেল বেরোনোর কারণে ত্বকে ব্রণ হয়। বরফ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ফুসকুড়ি ঠিক হবে না; কিন্তু ব্রণ রোধ করতে সাহায্য করে। তবে এই বরফ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ ত্বক সংবেদনশীল হলে আইস ম্যাসাজ ব্যাকটেরিয়াল কর্ম বৃদ্ধি করতে পারে। ব্যবহার প্রথমে মুখ ধুয়ে সুখিয়ে নিন। একটি পরিষ্কার কাপড়ে আইসকিউব রেখে কাপড়টি ১ মিনিটের জন্য ফুসকুড়ির ওপরে রাখবেন। ৫ মিনিট পর এ প্রক্রিয়া আবার করবেন।ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমায় ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমাতে বরফ ব্যবহার করতে পারেন। বরফ ব্যবহারে আপনি পাবেন তাজা ও তেলমুক্ত ত্বক।ব্যবহার মুখ ধোয়ার পর পাতলা কাপড়ের মধ্যে বরফ রেখে মুখে মৃদুভাবে ঘষবেন। তেল ভাব কমলে সামান্য ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এছাড়া সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের জন্য প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ফল ও সবুজ শাক-সবজি থাকা দরকার। পুরো শরীরের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদাও পূরণ করে এই খাবারগুলো। ফলমূল ও সবজির পুষ্টি উপাদানগুলো ত্বকের ব্রণ ও র‌্যাশ কমাতে সাহায্য করে।পানি শরীরের অতিরিক্ত টক্সিন দূর কর ত্বক পরিষ্কার রাখে ও ত্বক নমনীয় রাখে। সুস্থ থাকতে ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যায়াম স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি ত্বকও সতেজ রাখে।

বাংলাদেশের জনগণকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ঈদের শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানান এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ফলে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন ও প্রাণহানিতে সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ তথ্য জানান।প্রেস সচিব জানান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শনিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছিলেন। ১৫ মিনিটের কথোপকথনের সময় তিনি বাংলাদেশের জনগণকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন এবং ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন।ফোন করা এবং আম্ফানের ফলে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সমবেদনা জানানোর কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, চলমান করোন ভাইরাস পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিষয়টিও দুই নেতার মধ্যে আলোচনার জন্য উঠে এসেছে।

আজ কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী বব ডিলানের জন্মদিন

আজ রবিবার(২৪মে)নোবেলবিজয়ী কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী বব ডিলানের জন্মদিন।এতে  ১৯৪১ সালের ২৪শে মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সারা বিশ্বের অসংখ্য সংগীত শিল্পী আর মানবতাবাদীদের প্রেরণার উৎস তিনি। বব ডিলান মানবতাবাদী গায়ক হিসেবে বিশ্ব ব্যাপী পরিচিত মুখ। গিটার আর হারমোনিকা বাজিয়ে গানে গানেই প্রতিবাদ জানান ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রতিটি মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে। কনসার্ট ফর বাংলাদেশের’ মাধ্যমে পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের মহান মুক্তি সংগ্রামের সময়।  তিনি গীতিকার, সুরকার, গায়ক, সংগীত পরিচালক, চিত্রশিল্পী ও লেখক হিসেবে ফুল ফুটিয়ে তুলেছেন মানবতাবাদ আর যুদ্ধবিরোধী চেতনার।ব্লোইং ইন দি উইন্ড, নকিং অন হ্যাভেনস ডোর, টাইমস দে আর আ চেঞ্জিং এর মত অজস্র গানে তিনি মশাল জ্বালিয়েছেন ক্ষমতাবানদের যুদ্ধবানিজ্যের বিরুদ্ধে।অর্জন করেছেন নোবেল সাহিত্যপুরস্কার গ্র্যামি এওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব, হল অব ফেম সহ অজস্র সম্মাননা। বিংশ শতকের সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় বব ডিলানের নাম প্রকাশিত হয়। ২০০৪ সালে রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন প্রকাশিত সর্বকালের সেরা ১০০ গায়কের তালিকায় বব ডিলান দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর সুইডিশ একাডেমি সাহিত্যে নোবেল জয়ী হিসেবে বব ডিলনের নাম ঘোষণা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি প্রথম গীতিকার যিনি নোবেন পুরষ্কারে ভূষিত হন। ,

আজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আজ রবিবার(২৪মে)  পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই ২৫ মে, সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। ধর্মসচিব নুরুল ইসলাম বলেন,সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪১ সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।আজ রোববার (২৪ মে) রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) শাওয়াল মাসের প্রথম দিন দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।    এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ভিন্ন আবহে এসেছে ঈদের বারতা। যেখানে দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর দেশের মুসলমানদের ঈদের আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায় থাকার কথা, সেখানে করোনা থেকে বাঁচতে লকডাউন ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতে দুই মাস ধরে কাটছে বন্দিদশায়।এদিকে সৌদি আরবসহ আশপাশের দেশগুলোতে আজ রবিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে।  

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী সমাজকর্মী, স্কাউট আন্দোলন এর কর্ণধার ও আলোর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শিশু কিশোর সংগঠন এর উপদেষ্টা আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, প্রিয় স্যারের প্রতি আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, বলেন আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

তামিম-লিটনের রেকর্ড জুটিতে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে লিটন দাস ও তামিম ইকবালের বিশ্ব রেকর্ড গড়া জুটির ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হেরে গেল জিম্বাবুয়ে।এর আগে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারী জিম্বাবুয়ে। আগামী ৯ ও ১১ মার্চ মিরপুর শেরেবাংলায় টাইগারদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে অতিথিরা। হারলেই হোয়াইটওয়াশ। এমন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ করে জিম্বাবুয়ে। সিলেট আন্তজার্তিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। বিকাল চারটায় বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে ৩৩.২ ওভারে ১৮২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তামিম-লিটন। দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফের যখন খেলা শুরু হয় তখন ম্যাচ নির্ধারণ হয় ৪৩ ওভারে। ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন লিটন দাস। বৃষ্টির আগে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেয়া লিটন ছাড়িয়ে যান দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিজের আগের গড়া ১৫৪ রানের ইনিংসের রেকর্ড ভেঙে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। দুই দিনের ব্যবধানে তার সেই রেকর্ড ভেঙে দেন লিটন দাস। শুক্রবার ইনিংস শেষ হওয়ার ১৩ বল আগে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৪৩ বলে ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের এই ইনিংস খেলার পথে শুধু তামিম ইকবালকেই নয়, কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিং ও কুমার সাঙ্গাকারার মতো তারকা ব্যাটসম্যানদের ছাড়িয়ে যান লিটন। লিটনের বিদায়ের আগেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩তম সেঞ্চুরি করেন তামিম ইকবাল। ইনিংসের শুরুতে ওপেন করতে নেমে শেষ বল পর্যন্ত খেলে যান তামিম। আগের ম্যাচে ১৩৬ বলে ১৫৮ রান করা তামিম এদিন খেলেন ১০৯ বলে ৭টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১২৮ রানের ইনিংস। লিটন-তামিমের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩২২ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে সিকান্দার রাজার ৬১ আর ওয়েসলি মাধেভার ৪২ রানের ইনিংসে ভর করে ৩৭.৩ ওভারে ২১৮ রানে অলআউট হয়। ১২৩ রানের সহজ জয় পায় বাংলাদেশ।

সর্বশেষ সংবাদ