আজ পবিত্র শবেবরাত

পোস্ট করা হয়েছে 09/04/2020-08:40am:    আজ বৃহস্পতিবার রাতে পবিত্র শবেবরাত। আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখের এ মহিমান্বিত রাতকে পবিত্র কোরআনে ‘লাইলাতুল মোবারাকা’ বা বরকতময় রাত বলেও অভিহিত করা হয়েছে বলে মনে করেন ইসলামী চিন্তাবিদরা ।। বাংলাদেশে ১৪ শাবানের রাতটি শবে বরাত নামে সমধিক পরিচিত। প্রতিবারের মতো এবারো এ রাতটি যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পালিত হবে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এ রাত অতিবাহিত করবে। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদগুলোতে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে রাতের শেষ পর্যায়ে। তবে এ বছর ভয়াবহ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মসজিদের পরিবর্তে নিজ নিজ বাসস্থানে শবেবরাতের ইবাদত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ উপলক্ষে এবার কোনো কর্মসূচিও নেওয়া হয়নি। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি মোবারকবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘সারা বিশ্ব এখন নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত। বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুবরণ করছে। বাংলাদেশও এই ভাইরাসের আক্রমণের শিকার। তাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে দেশ ও দেশের জনগণকে করোনার ছোবল থেকে রক্ষা করা। আর এজন্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাই আসুন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হয়ে করোনা মোকাবেলা করি। পবিত্র শবেবরাতের রাতে আমরা নিজ নিজ ঘরে বসে আল্লাহর ইবাদত করি। প্রার্থনা করি, পরম করুণাময় যেন বিশ্ববাসীকে এ মহামারি থেকে রক্ষা করেন। পবিত্র শবেবরাত সবার জন্য ক্ষমা, বরকত, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক, মহান আল্লাহর দরবারে এ কামনা করি। মহান আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, ‘পবিত্র শবেবরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবকল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন, সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি। রহমতের এই রাত আমাদের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের বার্তা বয়ে আনুক—এ প্রার্থনা করি।’ মূলত পবিত্র মাহে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে শবেবরাত। ফার্সি ‘শব’ শব্দটির অর্থ রাত, আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ ভাগ্য। হাদিসের বর্ণনা মতে, বিশেষ এ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা আগামী এক বছরের জন্য মানুষের রিজিক, জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় নির্ধারণসহ তাঁর সৃষ্ট জীবের ওপর অসীম রহমত নাজিল করে থাকেন। এ জন্য এই রাতকে শবেবরাত বা ভাগ্যরজনী বলা হয়। আজ সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু হয়ে আগামীকাল শুক্রবার সূর্যোদয় পর্যন্ত শবেবরাতের এ রাতের ফজিলত অব্যাহত থাকবে। বছরে পাঁচটি পুণ্যময় রজনীর মধ্যে শবে বরাত অন্যতম একটি। শবে বরাতের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে মুক্তির রজনী। এ রাতে নিহিত রয়েছে মুসলমানদের মুক্তি ও কল্যাণের বিভিন্ন উপকরণ। তাই এ রাতকে বলা হয়েছে লাইলাতুল বরাত বা মুক্তির রজনী। এ রাতের ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মুসলমানদের গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। হাদিসে এ রাতের বহু কল্যাণ ও ফজিলতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। হজরত মুআয ইবনে জাবাল রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সা: বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে (শবে বরাতে) সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে মাফ করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৫৬৬৫)। হজরত আলী ইবনে আবি তালিব রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করিম সা: বলেছেন যখন শাবানের ১৫তম রাতের আগমন ঘটবে তখন তোমরা সে রাতে কিয়াম করবে তথা রাত জেগে নামাজ পড়বে, আর দিনে রোজা রাখবে। হাদিসে বর্ণিত আছে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা সে দিন সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ তাজাল্লি বর্ষণ করেন এবং ইরশাদ করেন কেউ আছ কি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি ক্ষমা করে দেবো। কেউ আছ কি জীবিকা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি জীবিকা দান করব। কেউ আছ কি মুসিবতগ্রস্ত? তাকে আমি মুক্তি প্রদান করব। কেউ এমন আছ কি? কেউ এমন আছ কি? এভাবে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ পাক তার বান্দাদেরকে ডাকতে থাকেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-১৩৮৮)। হযরত আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন এক রাতে আমি রাসূল সা:কে বিছানায় পেলাম না। তাই (খোঁজার উদ্দেশ্যে) বের হলাম। তখন দেখতে পেলাম, তিনি জান্নাতুল বাকিতে আছেন।আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, তুমি কি এই আশঙ্কা করছ যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করেছেন? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধারণা করেছিলাম, আপনি আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর ঘরে তাশরিফ নিয়েছেন। তখন রাসূল সা: বলেন, শাবানের ১৫ তারিখ রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং ‘বনু কালব’ গোত্রের ভেড়াগুলোর পশমের চেয়েও বেশিসংখ্যক লোককে মাফ করে দেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং-৭৪৪ ও সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ১৩৮৯)। পবিত্র শবে বরাতের বরকতময় রজনীকে কেন্দ্র করে সাত প্রকারের আমল করার ব্যাপারে আলেমরা উৎসাহ প্রদান করেছেন- (১) বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। (২) বেশি করে পবিত্র কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করা। (৩) বেশি বেশি ইস্তিগফার করা অর্থাৎ গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। (৪) বেশি বেশি দান ছাদকা করা। (৫) কবর জিয়ারত করা (৬) মৃত ব্যক্তিদের কবরে ছাওয়াব পাঠানোর ব্যবস্থা করা। (৭) পরের দিন অর্থাৎ ১৫ শাবান রোজা রাখা। এ রাতে নফল নামাজের ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। যত রাকাত ইচ্ছা এবং যেকোনো সূরা দিয়ে অন্যান্য নামাজের মতোই পড়া যাবে।

সর্বশেষ সংবাদ
নগরীর ১২টি স্পটে চসিকর করোনা পরীক্ষা বুথ স্থাপন শুরু কাউন্সিলর মাজহার ও এটলির মৃত্যুতে নগর আওয়ামী লীগের শোক চলমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে -৩১ মে থেকেই অফিস খোলা করোনার জেরে অন্য রোগীরা চিকিৎসা পেতেও নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার ৩০ টাকার সেই ওষুধেই দ্রুত সুস্থ হচ্ছে করোনা রোগী! নিলুফার মঞ্জুরের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক ঈদের দিনেও বিদ্বেষের রাজনীতি থেকে বিএনপি বের হতে পারেনি: তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রামে আরও ১৭৯ জনের দেহে করোনা,প্রকট হয়ে উঠছে আইসিইউ সংকট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা