একটি অর্ধ সমাপ্ত গল্প এবং বিএনপির বোধোদয় - কামরুল হাসান বাদল কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 07/01/2016-10:38pm:   
নিজের ডাকা ‘অবরোধের’ মধ্যে গত মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তৃতা করলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের ২য় বর্ষপূর্তিতে এ জনসভায় আয়োজন করে বিএনপি। গত বছর প্রথম বর্ষপূর্তিতে সমাবেশ করতে না পেরে লাগাতার অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। তার ডাকা সেই অবরোধের প্রথম ৯০ দিনে দেশব্যাপি প্রচণ্ড জ্বালাও-পোড়াও ও ব্যাপক পেট্রোলবোমাবাজীর কারণে ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়। বিনষ্ট হয় হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পদ। হোঁচট খায় দেশের অর্থনীতি, ব্যাহত হয় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। বেগম জিয়া সে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা না দেওয়ায় ধরে নেওয়া হচ্ছে তার আহূত সেই অবরোধ ভেঙেই তিনি জনসভা করেছেন এবং তার আগে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। বিশ্বের আন্দোলনের ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। যেখানে নিজেদের আহূত অবরোধের মধ্যেই একটি দল ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। স্বাভাবিক রাজনৈতিক সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সব কাজ নিয়ম মাফিক করে যাচ্ছে। বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিল, যেখানে তারা বাংলাদেশে অবরোধ চলছে বলে উল্লেখ করেছিল। যাই হোক অনেকদিন পর বেগম জিয়া প্রকাশ্য জনসভায় ভাষণ দিলেন। সে জনসভায় তিনি বর্তমান সরকারকে অবৈধ দাবি করে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে নতুন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছেন। সে ভাষণে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে একটি ইতিবাচক কথা বলেছেন তা হলো, ‘আমরা চাই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। গণতন্ত্রের জন্য এক সঙ্গে কাজ করতে’।
বেগম জিয়ার এ কথাগুলো যখন শুনছিলাম তখন আমার মনে হলো এমন কথা আগেও যেন শুনেছি। মনে পড়তে দেরি হলো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবরোধ-হরতাল তুলে নিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য বেগম জিয়াকে ফোন করেছিলেন। সে ফোনালাপের অডিও ভিডিও ক্লিপ সারাদেশের মানুষ শুনেছে, দেখেছে। শেখ হাসিনার আবেদনের উত্তরে বেগম জিয়া কী কী বলেছিলেন তা নিশ্চয়ই জনগণ ভোলেনি। সে ফোনালাপে বেগম জিয়া হাসিনার পদত্যাগের আগে কোনো সংলাপ বা আলোচনা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল হলে বিএনপি তা পুনর্বহালের আন্দোলন শুরু করে। সে সাথে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা করে। এ সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমান নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের কাছে কমিশনারদের নামের তালিকা আহবান করলে তাতে সাড়া দেয়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের পর শেখ হাসিনা একটি জাতীয় সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন এবং সে জাতীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদসহ তাদের পছন্দানুযায়ী পদ গ্রহণের অনুরোধ জানান তৎকালীন বিরোধীদল অর্থাৎ বিএনপিকে। কিন্তু বেগম জিয়া, তার দল ও জোট সে প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুন:প্রবর্তনের দাবিতে অটল থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও তার জোটের দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং তাতে স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। ৫ জানুয়ারির সে নির্বাচনকে দেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, তাদের সমর্থক বিভিন্ন সংগঠন ও সুশীল সমাজের কেউ কেউ সমালোচনা ও অস্বীকার করলেও দেশের বাইরে তা এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা পায়। সে নির্বাচন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার পেছনেও বিএনপির ভূমিকা আছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ- নির্বাচন বর্জন ও তা প্রতিহত করার নামে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক দল জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে দেশে যে নৃশংস ধ্বংসলীলা বিএনপি করেছিল তা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমর্থন লাভ করেনি।
বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও গত বছর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। তবে বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না, তা প্রমাণ করার কৌশল হিসেবে দুপুরের আগেই তারা নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে এই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করে।
জাতীয় নির্বাচন বর্জন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আধা অংশগ্রহণের পর এবারের পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি ‘সিরিয়াসলি’ অংশগ্রহণ করে। শুধু তাই নয় নির্বাচনের আগে থেকেই ঘোষণা দিতে থাকে যে, শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাবে। পৌরসভা নির্বাচান অংশ নিয়ে বিএনপি পুরনো ভুল শোধরানোর চেষ্টা করলেও পরাজয় বরণ করে শোচনীয়ভাবে। যদিও তারা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনেছে।
১৯৯৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি একটি নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিএনপি ছাড়া অন্য দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে পদত্যাগ করে নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করায় সেদিন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু হয়েছিল দেশে। দেড় মাসের কাছাকাছি সময়ের সে সরকার ২৯ মার্চ পদত্যাগ করে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকে বিএনপি ভেবেছিল তারাও আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনে ও পদত্যাগে বাধ্য করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে তা না হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের কাছে হেরে যায় বিএনপি। এরপর থেকে বিএনপির রাজনৈতিক পরাজয়ের শুরু। যেমন- নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় নিজেদের জড়িত না করা, শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত জাতীয় সরকারে যোগ না দেওয়া, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করা, জামায়াতের চাপে সাধারণ নির্বাচনে অংশ না নেওয়া, লাগাতার অবরোধের নামে সারাদেশে পেট্রোলবোমাবাজী করতে গিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমালোচিত হওয়া, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে অতিদ্রুত নিজেদের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নেওয়া, পৌরসভা নির্বাচনের আগে আগে জাতির জনক ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা, শুরু থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা, চিহ্নিত ও আত্মস্বীকৃত যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করা ইত্যাদি কারণে রাজনৈতিকভাবে বিএনপি পিছিয়ে পড়ে অনেক দূর। বলা যায় বিএনপি এ পর্যন্ত যতগুলো কৌশল গ্রহণ করেছে তা প্রতিযোগিতামূলকভাবে বার বার আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে পরাস্ত হয়েছে। এত ভুল করার পর, পদ্মা-মেঘনায় এত জল গড়াবার পর, এত হত্যা, খুন, ধ্বংস, নৈরাজ্যের পর, এত ক্ষয়ক্ষতির পর বিএনপি আবার নতুন করে পুরনো কথা বলছে। এই সরকার ও এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে পৌরসভা নির্বাচন করার দু-সপ্তাহের মাথায় এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে সহসা নির্বাচনের লক্ষে আলোচনার আহবান জানাচ্ছেন তিনি। প্রশ্ন হলো আলোচনাটা কার সাথে হবে? তার কথামতো এই ‘অবৈধ’ সরকারের সাথে? আলোচনাটি কিসের ভিত্তিতে হবে? কোন ইস্যুতে হবে?
বাংলাদেশেতো আর কখনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসবে না। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সংসদই তো তা বাতিল করেছে। কাজেই তারা পুনরায় তা ফিরিয়ে আনবে তা আশা করাটাও বোকামি। আর বিএনপি যদি ক্ষমতায় যেতে পারে তখনও তারা এ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবে না। এখন তারা যা-ই বলুক না কেন। আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে বিএনপি যে বড় ধরনের ‘ধরা’ খেয়েছে তা তাদের বর্তমান কথা শুনলে বোঝা যায়। ইদানিং বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতারা বলছেন, ‘নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ বলেছিল এই নির্বাচন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় করতে হচ্ছে, পরে সবার অংশ গ্রহণে আবার দেওয়া হবে।’ বিএনপি অভিযোগ করছে, বর্তমান সরকার তথা আওয়ামী লীগ এখন কথা রাখছে না। কী ছেলেমানুষী কথা! একই স্বাদের বিরানি দুবার রান্না করা যায় না, তা একটি রাজনৈতিক দল না বুঝলে কিছুই করার নেই। ১৯৯৬ সালের বাস্তবতা আর ২০১৬ সালের বাস্তবতা এক নয়; এটা অনুধাবন করতে যত দেরি হবে তত নিজেদের ক্ষতি হবে।
মেধা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শী রাজনীতির কারণে শেখ হাসিনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আজ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত এক রাষ্ট্র নায়ক। সিদ্ধান্ত প্রণেতা হিসেবে বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের ডিঙিয়ে তিনি আজ প্রথমেই তাঁর নাম খোদিত করেছেন। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বিশ্বের কাছে উন্নয়নের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বিচারের রায় কার্যকর করেছেন। দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বিশ্বব্যাংককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশের টাকায় পদ্মা সেতুর মতো বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো নির্মাণে হাত দিয়েছেন। পক্ষান্তরে বেগম জিয়া এখনও পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আশীর্বাদে বাংলাদেশের মৌলিক চেতনা বিরোধী শক্তিদের নিয়ে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র শক্তিতে পরিণত হচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার লাগাতার হেরে যাওয়া দেখে আমার ছোটবেলার শোনা অর্ধ সমাপ্ত একটি গল্পের কথা মনে পড়ে যায়। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরছি। বাবার চাকরির সুবাদে আমরা রেলওয়ে কোয়ার্টারে থাকতাম। যে কারণে আমাদের খেলাধুলাসহ অবসর কাটানোর স্থান ছিল রেলওয়ে প্লাটফর্ম। রেলওয়ে প্লাটফর্ম ঘিরে যেহেতু সাধারণ মানুষের আনাগোনা থাকতো বেশি সেহেতু ওষুধ বা তাবিজ দাওয়া বিক্রেতা তথা ক্যানভেসারদের পণ্য বিক্রির অন্যতম স্থান হতো এই প্লাটফর্ম বা তার আশেপাশের স্থান। তেমনি এক ক্যানভেসার তার ওষুধ বিক্রির আগে লোক জড়ো করার জন্য কিছু কিছু গল্প বলতো। বালক বয়সে আমি সে সব গল্প খুব মনোযোগ সহকারে শুনতাম। গল্পের চরম ক্লাইম্যাক্সে গিয়ে ক্যানভেসার গল্প থামিয়ে ওষুধ বিক্রি করতো। আমি গল্পের শেষটা শোনার আশায় দাঁড়িয়ে থাকতাম। ক্যানভেসার ওষুধ বিক্রি শেষে পোটলা-টোটলা বেধে অন্য জায়গায় রওনা দিতো। গল্পের শেষটা আর আমার শোনা শেষ হতো না। গল্পটি ছিল এমনণ্ড এক দোকানে চাকরি করে এমন দুজনের খুব বন্ধুত্ব হয়ে গেল। একজন একেবারে টগবগে তরুণ, অন্যজন বয়স্ক। এমনি একদিন তরুণ তার প্রেম ও প্রেমিকা নিয়ে গল্প করছে বয়স্কটির কাছেণ্ড জানো যার সাথে প্রেম করি তার সাথে প্রতিদিন দুপুরে আমি দেখা করতে যাই। ওর মা নাই, ওর বাবা বুড়া একটা দোকানে চাকরি করে। বয়স্কটির সন্দেহ হলো মেয়েটি তার বলে। সে খুব আগ্রহ নিয়ে জানতে চায় মেয়েটির ঠিকানা। ছেলেটি সরল মনে ঠিকানা বলে। বয়স্কটি দেখল তরুণের প্রেমিকাটি তার মেয়ে। সে ভেতরে ভেতরে ক্ষেপে আগুন। পরিকল্পনা করে তাদের হাতে-নাতে ধরবে। কিন্তু বাইরে দেখায় সে খুব খুশি। হেসে হেসে বলে তুই কাল যাবি না? ছেলেটি বলে যাব। বয়স্কটি বলে ভালো, ভালো, অবশ্যই যাবি, তবে যাওয়ার আগে আমাকে বলে যাবি মালিক যদি খোঁজে বলবো কাজে গেছিস। ছেলেটি যায়। আর তার আধঘন্টা পরে বয়স্কটিও যায় হাতে-নাতে ধরতে। ঘরের দরজায় গিয়ে বাড়ি দেয়, ‘এ্যাই ভিতরে কে’। মেয়ে দরজা খুলে বাবাকে দেখে অবাক হয়। বলে, ‘এই অসময়ে তুমি কেন এসেছ বাবা’। বাবা বলে, একটি কাজে এদিকে যাচ্ছিলাম মনে হলে ঘরে তুই কার সাথে কথা বলছিস’। মেয়ে বলে, ‘মাথা খারাপ তোমার, কেউ না তো।’ বাবা ঘরে ঢুকে উঁকি-ঝুঁকি মেরে কাউকে না দেখে বেরিয়ে আসে। সন্ধ্যায় দোকানে দুজনের দেখা হয়। বয়স্ক বলে ‘কিরে গেছিলি’। তখন বলে, ‘গেছিলাম ভাই, কিন্তু যাওয়ার পরপর মেয়েটির বুইজ্যা শয়তান বাবাটা কোত্থেকে এসে হাজির। মেয়েটি আমাকে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছিল। গালিটা হজম করে বুড়ো। কিন্তু মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে, ‘কাল যাবি না’? তরুণ বলে, ‘হ্যাঁ’। বুড়ো বলে, ‘বলে যাস’। তারপর দিনও একই অবস্থা। বুড়ো ঘরে ঢুকেই চৌকির নিচে খুঁজতে থাকে। মেয়ে বলে, ‘কী খোঁজ’। কাউকে না দেখে বাবা বলে, ‘না একটা জিনিস ফেলে গেছিলাম’। সন্ধ্যায় আবার দেখা। বুড়ো বলে, ‘গেছিলি’। তরুণ বলে ‘হ্যাঁ কিন্তু আজও বুড়া শয়তানটা গিয়ে হাজির। বলে কিনা চৌকির নিচে কিছু ফেলে গেছে। বুইজ্জা খাণ্ডাস!’ ‘তো তুই লুকাইছিলি কোথায়, উদ্বিগ্ন বুড়ো জিজ্ঞাসা করে। ‘আমারে মাদুরের সাথে পেঁচায়া দেওয়ালে খাড়া কইরা রাখছিল’। সাবলীলভাবে জবাব দেয় তরুণ। হতাশ কণ্ঠে বুড়ো বলে কাল যাবি না। বলে যাস।’
এ দিন ঘরে ঢুকে এদিক-ওদিক না তাকিয়ে বুড়ো সোজা গিয়ে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে রাখা মাদুরটি জড়িয়ে ধরে বলে, ‘আজ ধরা খাইছস বেটা।’ বিস্মিত কণ্ঠে মেয়ে বলে, ‘বাবা তুমি মাদুর জড়িয়ে ধরছো কেন? বোকামি বুঝতে পেরে বাবা বলে, ‘না মনে করছিলাম বিড়ালটা এই খানে আছে।’ সন্ধ্যায় ক্লান্ত, অবসন্ন বুড়ো তরুণকে জিজ্ঞাসা করে আজ কী হলোরে।
‘আজ বুইজ্যাটা মাদুর জড়াইয়া ধইরা বলতে ছিল, ধরা খাইছস ধরা খাইছস। হালায় পাগল।’ প্রচণ্ড রাগ সামাল দিয়ে বুড়ো বলে তো আইজক্যা ছিলি কোথায়।
তরুণটি খুব উদাসভাবে জবাব দিল সিন্দুকের ভেতর।
[email protected]

সর্বশেষ সংবাদ