নাড়ির টানে বাড়ির পানে মানুষ,স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

পোস্ট করা হয়েছে 19/07/2021-08:09pm:    ঈদুল আজহায় নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে যেতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ঘরমুখো মানুষ। কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে সব ধরনের দূরপাল্লার বাস, রেল ও লঞ্চ। যে কোনো উপায়ে হোক গ্রামে যেতেই হবে, এমন মনোভাব নিয়ে ঢাকা থেকে দেশের প্রতিটি জেলার উদ্দেশে ছুটছেন তারা। চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নানা বিড়ম্বনার আগাম প্রস্তুতি নিয়েই রওনা হচ্ছেন এসব মানুষ। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, কমলাপুর রেল স্টেশন ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোনো বাধা কিংবা বিধিনিষেধই মানছে না ঘরমুখো মানুষ। যে যেভাবে পারছে বাড়ির পানে ছুটছে। লঞ্চঘাটে হাজারও মানুষের ঢল ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের ঢল সামলাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিমশিম খেতে হচ্ছে। পুলিশি বাধা সত্ত্বেও জোর করে যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে দেখা গেছে। আজ শুক্রবার ভোর থেকেই কমলাপুর রেল স্টেশনে মানুষের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। ঘরমুখো মানুষের চাপে ভোর হতেই কমলাপুর রেল স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে এসব কর্মজীবী মানুষ। সবার চোখে-মুখে বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস। সকাল থেকে কয়েকটি ট্রেন গন্তেব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও রাজশাহীগামী ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে যায়নি। এদিকে, ট্রেনের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বাস টার্মিনালে মানুষের ভিড় ছিলো কম। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। দেখা গেছে, বাস কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। সেই সুযোগে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি পালনের নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে দুই সিটের ভাড়া আদায় করছে বিভিন্ন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে শ্যামলী, নাবিল, ডিপজল ও গ্রামীণ ট্রাভেলসসহ প্রায় সব বাসেই একই অবস্থা। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় দুই সিটেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এছাড়া কাউন্টারে যাত্রীদের গাদাগাদি করে বসে থাকতে হচ্ছে। আর বাস দেখলেই স্বাস্ব্যবিধির বারোটা বাজিয়ে দলবেধে যাত্রীরা উঠে পড়ছেন। শুধু তাই নয়, নারীদের কাউন্টারের বাইরে সন্তানকে কোলে ঘুম পারিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে। সায়েদবাদে শ্যামলী পরিবহনের ৬০ সিটেই যাত্রী ওঠাতে দেখা গেছে। যদিও প্রতি সিটের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৩শ’ টাকা করে। যেখানে সাধারণ ভাড়া ৪০০-৬০০ টাকা। বাসটির সামনের সিটে বসেছিলেন মিল্লাত নামের এক যাত্রী। তিনি বলেন, দুই সিটের জন্য ২১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে টিকিট করেছি। কিন্তু আমার পাশের সিট খালি থাকার কথা থাকলেও সেখানে যাত্রী বসানো হয়েছে। তার কাছ থেকেও দ্বিগুণ ভাড়াই নেওয়া হয়েছে। কাউন্টারের লোকজন স্বাস্থ্যবিধির নামে ভাড়াও ডাবল নিচ্ছে, আবার যাত্রীও নিচ্ছে বাস ভর্তি করে। কিছুই করার নাই, ঈদে বাড়িতে তো যেতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ