রেলের বেহাত জমি ও একটি শিশু হাসপাতাল

পোস্ট করা হয়েছে 13/07/2021-08:04am:    »কামরুল হাসান বাদল কবি,সাংবাদিক লেখক টিভি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব » ১। একটানা দুই মাস উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর মাত্র ২০ ভাগ স্থাপনা অবৈধ দখলকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই জমির পরিমাণ ৪৫ একর। এই জায়গা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের। উচ্ছেদকৃত অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা ৮ হাজার। রেলের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আরও কী পরিমাণ জমি বা স্থাপনা বেদখলে রয়েছে তা কল্পনাতীত। তারা জানান, বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে বছর পার হয়ে যেতে পারে। রেলের এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ সংকট আছে। যথাসময়ে উচ্ছেদ অভিযানের বিল পাওয়াতেও রয়েছে ভোগান্তি। একটি অভিযানের বিল পেতে অপেক্ষা করতে হয় এক মাস। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এস্টেট বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম জোনে এখনো শত শত একর জমি অবৈধ দখলদারদের কাছে রয়ে গেছে। এই তালিকায় বেশিরভাগই রেলের শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা। তাদের পাশাপাশি আছে প্রভাবশালীরা। এক কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আরও কী পরিমাণ অবৈধ স্থাপনা আছে তা বলা সম্ভব নয়। যেদিকে যাই দেখি রেলের জায়গায় শত শত অবৈধ বস্তিঘর। (সূত্র-দৈনিক আজাদী, ১৪ ডিসেম্বর) ২। রাজধানী পূর্বাচলে সরকারি উদ্যোগে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর জমিতে এই হাসপাতাল গড়ে উঠছে। অথচ চট্টগ্রামে মাত্র দুই একর জমির অভাবে ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল গড়ে তোলা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ওয়াদার অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে দেশের প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে সরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময় সভায় নগরে এই শিশু হাসপাতাল গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। চট্টগ্রামে এই হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ২ একর জায়গার সন্ধান করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তখন ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ পায়। এই প্রকল্পের স্থান খোঁজার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী চমেক হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি নগরের সরকারি সিটি কলেজের সামনে রেলওয়ের খালি জায়গায় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সাড়ে তিন একর জায়গা চিহ্নিত করে গত বছরের ২৫ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু ওই জায়গা নিয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে প্রস্তাবটি আটকে যায়। এর আগে শিশু হাসপাতাল প্রকল্পের জন্য নগরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিনটি জায়গা চিহ্নিত করেছিল। এগুলো ছিল, আগ্রাবাদ আমেরিকান হাসপাতালের সীমানায়, সিনেমা প্যালেসের দক্ষিণ পাশে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সীমানা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গোঁয়াছি বাগান এলাকায়। কিন্তু সেসব জায়গা বেদখল হয়ে থাকার কারণে সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের আগ্রহ দেখায়নি প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। গত এক বছর ধরে এই শিশু হাসপাতাল প্রকল্পটির জন্য আর জায়গা খোঁজা হয়নি। বর্তমানে চমেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার আগে যিনি এ প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন তিনি অনেক জায়গা দেখেছিলেন। আমিও একবার খোঁজ নিয়েছিলাম; কিন্তু এ হাসপাতালের জন্য শহরের কোথাও সরকারি খালি জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। চমেক হাসপাতালেও খালি জায়গা নেই। তাই আমি এ প্রকল্প নিয়ে আর মাথা ঘামাচ্ছি না। তিনি বলেন, এটা আর আলোর মুখ দেখবে বলে মনে হয় না। (সূত্র-সুপ্রভাত বাংলাদেশ ৪ ডিসেম্বর) ৩। ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি জায়গার মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র। আর সংবিধান মোতাবেক এই রাষ্ট্রের মালিক হলো জনগণ। অর্থাৎ পক্ষান্তরে এই দেশের প্রতি ইঞ্চি জমির মালিক জনগণ। নিয়ম হলো রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যেকোনো বৈধ সরকার যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা ক্ষতিপূরণ দিয়ে অধিগ্রহণ করতে পারে। দেশের বড় বড় নগরগুলোর অভিজাত আবাসিক এলাকা, বিভিন্ন অবকাঠামো এবং শিল্প এলাকাগুলো গড়ে তোলা হয়েছে সাধারণ মানুষের জমি অধিগ্রহণ করে কিংবা সরাসরি খাস জায়গা লিজ দিয়ে। সরকারি সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি জমির মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলের দুই জোন পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল মিলে রেলের কত হাজার হাজার একর জায়গা আছে সম্ভবত তার সঠিক হিসাব রেল মন্ত্রণালয়ও জানে না। এর অন্যতম কারণ রেলের বিপুল পরিমাণ জায়গা অনেক আগে থেকে অবৈধ দখলদারের হাতে থাকায় সে জায়গার মালিক যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তা তারা বুঝতেও পারে না। এক সময় অবিভক্ত বাংলা ও আসাম মিলে বিশাল এই পরিবহন সংস্থার সদর দপ্তর ছিল চট্টগ্রামে। একারণে চট্টগ্রামে রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিপুল সম্পত্তি। রেল এবং বন্দর এক সময় একই ব্যবস্থাপনায় ছিল। পরে বন্দর আলাদা কর্তৃপক্ষের অধীনে চলে গেলে বন্দরের হাতেও থেকে যায় চট্টগ্রামের বিশাল এলাকা। রেলওয়ের পরে বিপুল-বিশাল ভূসম্পত্তি রয়েছে বন্দরের মালিকানায়। স্বাধীনতার পূর্বকাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি সরকার রেলের জায়গায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা গড়ে তুলেছে। এমন কি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও রেলের সরকারি জায়গা লিজ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বৈধভাবে লিজ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা চট্টগ্রামে কম নয় তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, বৈধভাবে লিজ দেওয়া জায়গার চেয়ে কয়েক শত গুণ জায়গা আছে অবৈধ দখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে। এরকম কত কত একর জায়গা অবৈধ দখলকারীদের হাতে তার সঠিক পরিসংখ্যান রেলের হাতে নেই। তদ্রুপ বন্দরেরও বহু জায়গা অবৈধ দখলকারীদের হাতে আছে। অবৈধ দখলকারীরা এতই ক্ষমতাবান যে, এদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে এই দুই প্রতিষ্ঠান প্রায়ই ব্যর্থ হয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে মুনীর চৌধুরী বন্দরের বিপুল পরিমাণ জায়গা দখলমুক্ত করে প্রশংসিত হয়েছিলেন। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রেলের সম্পত্তির যখন এই ‘হ য ব র ল’ অবস্থা সে সময় মাত্র দুই একর জায়গার অভাবে চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না এমন একটি সংবাদে ক্ষুব্ধ না হয়ে পারা যাচ্ছে না। মেনে নিলাম সিটি কলেজের সামনে রেলের খালি জায়গাটি রেলওয়ে মন্ত্রণালয় দেবে না। এখানে কিছু করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে তাদের। কিন্তু অন্য কোথাও? যেমন আমবাগান, পাহাড়তলী, ফয়’স লেকের কাছাকাছি কোথাও। সেখানে তো প্রচুর জায়গা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ফয়’স লেক প্রাকৃতিক সুশোভিত স্থানটিও একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে লিজ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে নগরের মানুষ সেখানে একটু অবসরের আশায় ঘুরতে যেতে পারতো বিনা পয়সায় এখন সেখানে যেতে হলে প্রচুর টাকা খসাতে হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে যন্ত্রপাতির আড়ালে। শেষ পর্যন্ত রেলওয়ের জায়গার এতই অভাব হয়ে গেল মাত্র দুই একর জায়গা তারা একটি শিশু হাসপাতালের জন্য দিতে পারলো না? বেশ কয়েক বছর আগে সদ্য প্রয়াত সাংসদ মাইনুদ্দিন খান বাদল একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের জন্য (একটি বিদেশি হাসপাতালের সাথে সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায়) বন্দরের কাছে জায়গা চেয়েছিলেন কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল। ৪। দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামে চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া এখনকার বিপুল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসা করার মতো ভালো ব্যবস্থা নেই। চমেক হাসপাতালও এখন অধিক রোগীর ভার বহন করতে করতে নিজেই রুগ্ন হয়ে গেছে। বেসরকারিভাবেও এখানে বড় ও আধুনিক হাসপাতাল নেই। ঢাকায় বহু হাসপাতাল আছে। সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল ছাড়াও ঢাকায় বেসরকারি উদ্যোগে অনেক হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। তার তুলনায় চট্টগ্রামে কিছু নেই। এখানে পূর্ণাঙ্গ কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই। হৃদরোগ, কিডনি, লিভার বক্ষব্যাধি, শিশুরোগ চিকিৎসায় পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল নেই। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় যদিও একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছিল তা সরকারি প্রতিষ্ঠানেরই অসহযোগিতার কারণে সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের নেতাদের ভূমিকার প্রশ্নটি সামনে এসে দাঁড়ায়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ১১ বছরের এই দীর্ঘ সময়ের অনেকে মন্ত্রী হয়েছেন। এখনো মন্ত্রীত্বে আছেন। দলের নেতৃত্বেও অনেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জানতে ইচ্ছে করে তাদের কেউ কি এ বিষয়ে জানেন না? মেনে নিলাম তাঁরা জানেন না। কিন্তু এমন একটি উদ্যোগ বা প্রস্তাব তারাও কি প্রধানমন্ত্রী বরাবর উপস্থাপন করতে পারতেন না? চট্টগ্রামে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার যে এই করুণ অবস্থা তারা কি তা জানেন না? এ বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ গড়ে তুলতে তারা কেউ কি ভূমিকা রেখেছিলেন কখনো? এখনো কি রাখার ইচ্ছে আছে তাদের? রেলপথ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি চট্টগ্রামের একজন সংসদ সদস্য। তিনি রেলের এবং সিআরবি এলাকা উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। এ বিষয়ে কি তিনি কিছু জানতেন? তিনি কি হাসপাতালটি গড়ে তোলার জন্য রেলের বিপুল-বিশাল সম্পদ থেকে মাত্র দুই একর জায়গার ব্যবস্থা করে দিতে পারতেন না? আমরা জানি চট্টগ্রামের উন্নয়নের বিপক্ষে সরকারের মধ্যেই একটি চক্র আছে। এরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামকে গুরুত্বহীন করে তোলা, এই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার কাজটি করে আসছেন। এক সময় সরকারি চাকরিতে চট্টগ্রামের লোকজনকে খুঁজে পাওয়া যেত না। এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। প্রচুর লোক সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদেও চাকরি করেন। কিন্তু তারপরও সরকারের বিভিন্ন মহলে চট্টগ্রাম বিদ্বেষী মানুষের দাপট কমলো না। ৫। লোক দেখানো, বাহবা পাওয়া উন্নয়ন কাজের প্রতি আমাদের নীতি নির্ধারকদের আগ্রহ বেশি। উড়াল সড়ক, অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, বুলেট ট্রেন ইত্যাদির মতো প্রকল্প হলে কথা নেই। কিন্তু যে উন্নয়ন চোখে পড়ে না বেশি, কিন্তু তা মানবিক উন্নয়ন, তেমন কাজের প্রতি কর্তাদের আগ্রহ কম। যেমন আমার ধারণা, সিটি কলেজের সামনে রেলের খোলা জায়গায় হাসপাতালের প্রস্তাব না দিয়ে যদি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স যেখানে শপিং মল, বাণিজ্যিক কার্যালয়, আবাসন ব্যবস্থা ইত্যাদির মতো অধিক লাভজনক প্রস্তাব থাকতো তাহলে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় বেশ খুশি মনে প্রস্তাবটি গ্রহণ করে নিতো। সরকারি একটি শিশু হাসপাতাল, যেখানে আর দশটি সরকারি হাসপাতালের মতো সেবা গ্রহণ করতে যাব আমরা সাধারণ এবং বিত্তহীন মানুষরা। মন্ত্রী-এমপি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানদের এখানে চিকিৎসা নিতে হবে না কখনো। তাদের জন্য আছে রাজধানীর নামি-দামি হাসপাতাল। আছে ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুযোগ। কাজেই গরিবের জন্য হাসপাতাল নির্মাণে তাদের খুব বেশি দরদ থাকার কথা নয়। এ ছাড়া প্রকল্পটির সঙ্গে ভোট বৃদ্ধির সম্ভাবনাও নেই। কাজেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোনো মন্ত্রী-এমপি বা নেতার আগ্রহ তেমন নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাসপাতালটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত এক বছর ধরে প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি হয়নি। তার কারণ আগেই উল্লেখ করেছি। হাসপাতালটির জন্য জায়গা পাওয়া যায়নি। “জায়গা পাওয়া যায়নি” অন্তত এই খবরটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর দায়িত্বটি চট্টগ্রামের কোনো নেতা নেবেন কি? লেখক : কবি ও সাংবাদিক দৈনিক আজাদী ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯

সর্বশেষ সংবাদ