আজ বিশ্ব ভালোবাসাবাসীদের দিবস

পোস্ট করা হয়েছে 14/02/2020-09:39am:    আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হৃদয়ের ব্যাকুলতা জানানোর যেমন রয়েছে বিভিন্ন উপলক্ষ্য, তেমনি ভিন্নতা রয়েছে প্রকাশ ভঙ্গিতেও।ভালোবাসাকে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। ব্যক্তি বিশেষে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশও ভিন্ন। তাইতো বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রথা বা রেওয়াজ অনুসারে মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব, মমতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে নানা আয়োজনে ১৪ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে । আজ প্রিয়জনকে হৃদয়ের কথা বলার দিন। আপনজনকে ভালোবাসার দিন। জাপানেও ভালোবাসা দিবসে নারীরা চকলেট উপহার দেয়। যদিও সেখানে কিছু তারতম্য আছে। সহকর্মী ও সহপাঠীরা অবলিগেশন চকলেট বা গিরি চকলেট প্রত্যাশা করে। নারীরা তাদের সুইটহার্টদেরকে ট্রু ফিলিং চকলেট বা হনমেই চকলেট গিফট করে যা বেশ দামি এবং প্রায়ক্ষেত্রে গৃহজাত। যদি তারা একমাস পর হোয়াইট ডে-তে পুরুষদের কাছ থেকে প্রতিদানের অপেক্ষায় থাকতে না চায়, ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে জিবুন চকো ট্রিট করে।তবে বিশেষ এই দিনে, স্থান, ব্যক্তিভেদে রয়েছে ভালোবাসার রকমফের। কি প্রাচ্য, কি পাশ্চাত্য- কবিতা, গান আর পংক্তিমালায় অব্যক্ত ভালোবাসা প্রকাশের পথ খুঁজে নেয় শ্বাশত প্রেম। দক্ষিণ কোরিয়া: যুক্তরাষ্ট্রে ভালোবাসা দিবসে বেশিরভাগ উপহার পুরুষেরা দিয়ে থাকে, কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়াতে এর বিপরীতটাই সত্য- এখানে নারীরা তাদের পুরুষ সঙ্গীদের চকলেট উপহার দেয়। এক মাস পর হোয়াইট ডে-তে পুরুষেরা ক্যান্ডি প্রদান করে এই শুভেচ্ছা রিটার্ন করে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়- কখনো কখনো সিঙ্গেল ফ্রেন্ডরা ব্ল্যাক ডে-তে (১৪ এপ্রিল) ব্ল্যাক নুডলস খাওয়ার জন্য একত্রিত হয়। * ইতালি: শোয়াইতজার বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা কার্ড বিনিময় করে, সেখানে ইতালিতে শুধুমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকারা এ দিনটি উদযাপন করে।’ ইতালিতে বাচি পেরুজিনা চকলেট জনপ্রিয় যার ফয়েলের ভেতর রোমান্টিক ম্যাসেজ থাকে। ভালোবাসা নিয়ে অজস্র কবিতা আর গান সুরে-বেসুরে শোনানো হবে প্রিয়জনকে। প্রিয়তমার হাত ধরে কিংবা পাশে বসে অনেকেই রচনা করবে নিজেদের ভবিষ্যত। হয়তো এদিনেই বিভেদ ভুলে মিলন হবে দুই বন্ধুর। কেউবা অণুপ্রাণিত হবে সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসায়। মুঠোফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা ফেসবুকের চ্যাটিংয়ে খুঁজে পাবে নতুন দিনের ঠিকানা। জার্মানিতে কেবলমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ভালোবাসা দিবস নির্ধারিত। এটি যথাযথভাবে পূর্ণবয়স্কদের একটি বিষয়।’ আপনি দিনটিতে রোমান্সের জন্য অনেক শূকর দেখতে পাবেন, কারণ পশুটি ভাগ্য ও যৌনকামনার প্রতীক। দম্পতি বা প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে শূকরের মূর্তি ও ছবি উপহার দেয়, এমনকি শূকর আকৃতির চকলেটও। যেখানে আমেরিকানরা ভালোবাসা দিবসে ডেজার্ট হিসেবে চকলেট পছন্দ করে, সেখানে জার্মানরা রোমান্টিক বার্তাযুক্ত হৃদয়-আকৃতির জিনজার কুকিতে কামড় বসায়। * ডেনমার্ক: ডেনমার্কে লাল গোলাপের বিকল্প হিসেবে স্নোড্রপ নামক ফুলটি জনপ্রিয়। ডেনিশ পুরুষেরা মাঝেমাঝে নারীদেরকে মজার কবিতা পাঠায় যা গায়েক্কেব্রেভ নামে পরিচিত- তারা এসব বেনামে পাঠায়, যেখানে ডটের সিরিজ থাকে। যদি প্রাপক অনুমান করতে পারেন যে কে পত্রটি পাঠিয়েছে, তিনি তাকে ওই বছর ইস্টার এগ প্রদান করেন। * মেক্সিকো: শোয়াইতজার বলেন, ‘মেক্সিকোতে ১৪ ফেব্রুয়ারি শুধুমাত্র কাপলদের জন্য নয়, সেখানে এটি ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।’ ভালোবাসার মানুষ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বেলুন, ফুল, খেলনা প্রাণী এবং কার্ড উপহার দেওয়া হয়। * চীন: চীনে ভালোবাসা দিবস দিনকে দিন আরে জনপ্রিয় হচ্ছে, কিন্তু সেখানে কিশি ফেস্টিভ্যালকে প্রায়ক্ষেত্রে চাইনীজ ভ্যালেন্টাইন’স ডে বা চৈনিক ভালোবাসা দিবস বলা হয়, যা চৈনিক দিনপঞ্জি অনুসারে সপ্তম চান্দ্রমাসের সপ্তম দিনে উদযাপন করা হয়- যা সাধারণত আগস্টে পড়ে। চিরায়ত বন্ধন আর বিশ্বাসের সম্পর্কের নামই ভালোবাসা। ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা, না ভালোবাসা থেকে ভালোলাগা এ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ভালোবাসার গভীরতম উপলব্ধি নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার শুভেচ্ছা শুধু প্রেমিক- প্রেমিকাই নয়, প্রযোজ্য বাবা-মা- ভাইবোন, বন্ধু সকলের ক্ষেত্রেই। দিনটিকে ঘিরে ঢাকাসহ সারাদেশেই বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, বইমেলা চত্বর থেকে শুরু করে এর আশেপাশের এলাকায় থাকছে দিনভর নানা অনুষ্ঠান। এবারের ভালোবাসা দিবস আরও রঙিন হয়ে উঠেছে- কারণ আজ ফাল্গুনেরও প্রথম দিন। বসন্ত উৎসবে মেতেছে সবাই। তাই চারিদিকে রঙিন ভালোবাসা ফুটে উঠবে ফুলের সৌরভে।

সর্বশেষ সংবাদ