হাতিদের ক্ষোভ কি বোঝার চেষ্টা করছি - কামরুল হাসান বাদল কবিও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 28/11/2019-08:47am:    মূলত খাদ্যের সন্ধানেই হাতিগুলো নেমে এসেছিল লোকালয়ে। নয়টি হাতির এই পালকে দেখে ভড়কে গিয়েছিল গ্রামবাসী। গত শনিবার ভোর থেকে এই হাতির দল চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল ইউনিয়নে অবস্থান নিয়েছিল। দিনভর স্থানীয় প্রশাসন, বনবিভাগ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন হাতিগুলোকে সরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। উপজেলার জৈষ্ঠ্যপুরা ও করলডেঙ্গা পাহাড় থেকে হাতির দলটি প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে লোকালয়ে অবস্থান নেয়। সে হাতিগুলোকে দেখার জন্য সেখানে প্রচুর লোকজন জড়ো হয়। হাতিরা এত মানুষ দেখে এক সময় স্থানীয় বায়তুল ফালাহ মসজিদের সুপারি বাগানে অবস্থান নেয়। হাতি তাড়াতে মানুষের বিভিন্ন আয়োজনে অতিষ্ঠ হাতিরা এক সময় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক অংশ গভীর রাতে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। আরেকটি অংশ তাদের সাথীদের দেখতে না পেয়ে এবং দলছুট হয়ে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। তারা তাণ্ডব শুরু করে। ফিরে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ হাতিদের আক্রমণে তিন বৃদ্ধ প্রাণ হারায়।
২। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস, বর্তমানে যেটি ‘শহীদ জিয়া জাদুঘর’ বানানো হয়েছিল ব্রিটিশ লাটদের জন্য। দেশ-বিভাগের পর গভর্নর হাউস এবং পরে সার্কিট হাউস নামে অভিহিত করা হয় ভবনটিকে। ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের মধ্যে প্রধান হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ভবনটি হয়ে উঠেছিল অন্যতম কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প। পাকিস্তানি বাহিনী এই ভবনে বসে তাদের হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার পরিকল্পনা করতো। অনেক মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠককে এখানে ধরে এনে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হতো। স্বাধীনতার পর এই ভবনটি মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর করার প্রস্তাবও দাবি করেছিলেন অনেকে। স্বাধীনতার পর ভবনটি রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের থাকার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৯৮১ সালে এই ভবনে থাকাবস্থায় এক সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। সে বছরের জুন মাসে এই ভবনকে একটি জাদুঘরে পরিণত করার প্রস্তাব করা হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে এবং ১৯৯৩ সালে পুরনো সার্কিট হাউসকে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে’ পরিণত করে।
১৯৮৯ সালে দেশে প্রথমবারের মতো বিজয়মেলা অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয় মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিবাহী তৎকালীন সার্কিট হাউসের সামনের খোলা জায়গাতে। এই খোলা চত্বরটি ছিল শহরের এক খণ্ড হৃদপিণ্ডের মতো। বছরের অন্যান্য সময়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি মানুষ সেখানে যেতো একটু খোলা হাওয়ায় দম নেবার ইচ্ছায়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নেতা ও তৎকালীন সিটি মেয়র মীর নাছিরের উদ্যোগে আগ্রহে সে খোলা চত্বরটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দিয়ে তাতে একটি শিশুপার্ক গড়ে তোলা হয়। শিশু পার্কটির নামকরণও করা হয় জিয়ার নামে। খোলা চত্বরটিকে শিশুপার্ক হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে তৎকালীন বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কয়েকটি উদ্দেশ্য ছিল। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিজয়মেলার স্মৃতিচারণের স্থানটুকু কেড়ে নেওয়া। দ্বিতীয় উদ্দেশ্যে ছিল, জিয়া জাদুঘরের সামনে একটি শিশুপার্ক গড়ে তুলে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে শিশু এবং তাদের সঙ্গে আগত বড়দের মনে জিয়ার সম্পর্কে আগ্রহ জাগিয়ে তোলা। শিশুপার্ক গড়ে তোলার সময় থেকেই নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তি, পরিবেশ ও নগরবিদ এবং রাজনৈতিক মহল থেকে বিরোধিতা করা হয়েছিল। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনেকে এখান থেকে শিশু পার্কটি অপসারণ করে মাঠটিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি করেছিল। তাতে কাজ হয়নি। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১৫ বছরের জন্য শিশু পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আবারও চুক্তি নবায়ন করেছে। কাজেই নগর ও পরিবেশবিদদের দাবি অনুযায়ী এই স্থানটি ‘বিশেষ সবুজায়ন এলাকা’ হিসেবে গড়ে উঠছে না।
৩। বাতাসে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ ধুলা বা ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তাকে সহনীয় পর্যায়ে বলা যায় শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই তার চেয়ে ৭ গুণ বেশি অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ভাসছে বন্দর শহর চট্টগ্রামের বাতাসে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া সূত্র ধরে সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, চট্টগ্রাম নগরের জিরো পয়েন্ট খ্যাত চেরাগি পাহাড় মোড়ে বর্তমানে বাতাসে বস্তুকণার পরিমাণ ১০৪০ পিএম অথচ সহনশীল মাত্রা পরিমাণ হওয়া উচিত ২০০ পিএমের কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারই শীত মৌসুমের আগেই বাতাসের মান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েছে।
এ মাসের শুরুতে ভারতের রাজধানী দিল্লির বায়ুদূষণের খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার এসেছে। দূষণের কারণে সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে সে দেশের সরকার। গত রোববার রাত পৌঁনে নয়টার দিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে দিল্লির অবস্থান ছিল চতুর্থ। সে সময় দিল্লিকে পেছনে ফেলে ঢাকার অবস্থান ছিল শীর্ষে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জন্য আরেকটি দুঃসংবাদ হলো, দূষণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক সবুজ গাছপালাও কমে আসছে। কোনোভাবে টিকে থাকা সে গাছপালা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, যানবাহনের ক্ষতিকর গ্যাস ও অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার দূষণের মাত্রা এতটাই যে, ঢাকা শহরের গাছপালা টিকে থাকার ক্ষমতা হারাচ্ছে। যতটুকু সবুজ টিকে আছে তা দূষণের মধ্যে আর কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে আশঙ্কা আছে।
একটি পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যে জানা গেল, গত পাঁচ বছরে দেশে ইটভাটার সংখ্যা বেড়েছে ৫৯%। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন (সংশোধিত) অনুযায়ী, আবাসিক, সংরক্ষিত ও বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর এবং কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। ইটভাটা হতে হবে এসব এলাকা থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে।
৪। চট্টগ্রামের পটিয়ায় চারটি গ্রামকে “পানি সংকটাপন্ন এলাকা” ঘোষণা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি পটিয়ার চরকানাই, হুলাইন, পাচুরিয়া এবং হাবিলাসদ্বীপ গ্রামে অব্যাহতভাবে সুপেয় পানি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার উল্লেখিত এলাকায় কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তারা গভীর নলকূপের মাধ্যমে অধিক পরিমাণ ভূ গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করার কারণে ভূগর্ভে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে ওই চার গ্রামের অন্তত চারশ নলকূপে আর পানি ওঠে না। এমনকি ওসব গ্রামের পুকুর-জলাশয়গুলোও শুষ্ক মৌসুমে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ওই চার গ্রামের মানুষ দীর্ঘসময় ধরে পানীয় জলের অভাবে ভুগছে।
৫। কয়েকটি খণ্ডচিত্র ও তথ্য তুলে ধরলাম। ঘটনাগুলো আলাদা আলাদাভাবে ঘটলেও ঘটনা ও সংকটের মূল একটিই। তা হলো, বহুল কথিত পরিবেশ বিপর্যয়। বহুল কথিত বললাম এ কারণে যে, কথাটি এখন সর্বমহলে উচ্চারিত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু বহুল উচ্চারিত হলেও তার বিপরীতে আমাদের সতর্কতা একেবারেই কম। উদ্যোগও যথেষ্ট নয়।
বোয়ালখালীতে যে হাতির তাণ্ডবে তিন ব্যক্তি প্রাণ হারাল সে ধরনের ঘটনা নতুন নয়। আজ বেশ কয়েকবছর ধরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মধ্যে হাতিরা তাণ্ডব চালায়, লোকালয়ে নেমে এসে সবকিছু তছনছ করে দেয়। এর আগে হাতির আক্রমণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আমরা হাতি নিয়ে, তার তাণ্ডব নিয়ে শংকিত হচ্ছি বটে কিন্তু এর কারণ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছি না। পাহাড়ে হাতিদের আবাস ও খাদ্যের উৎসগুলো নির্মূল করা হয়েছে। গাছ ও পাহাড় কেটে কেটে বনাঞ্চল ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। বিপন্ন হতে চলেছে। সংরক্ষিত পাহাড়গুলো লিজ দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাবান মানুষরা সে পাহাড় লিজ নিয়ে সেখানে নিজের পছন্দানুযায়ী খামার গড়ে তুলেছে। প্রাকৃতিক নিয়ম ও পরিবেশ পরিবর্তন করে সেসব পাহাড় কেটে কুটে আম, লেবুসহ নানা ফলের বাগান বা খামার গড়ে তুলেছে। এভাবে দিনদিন পাহাড়গুলোর নিজস্বতা খর্ব করে বন্যপ্রাণিদের জীবন হুমকি ও বিপন্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অন্য প্রাণিরা দুর্বল ও সংঘবদ্ধ নয় বলে তারা পারছে না। কিন্তু হাতি এই অনিয়মের, এই অনাচারের, এই প্রকৃতিবিরুদ্ধ কাজের প্রতিবাদ করে গেছে। তাদের সে প্রতিবাদ, ক্ষোভকে যদি এখনো ধর্তব্যে না আনি তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের অনেক মূল্য পরিশোধ করতে হবে। অনেক প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
উন্নয়নের সঙ্গে প্রকৃতির একটি বিরোধ আছে। অর্থাৎ উন্নয়ন মানেই কোনো না কোনোভাবে প্রকৃতিবিরুদ্ধ কাজ করা। গত শতাব্দি থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব এই বিষয়ে সচেতন হয়েছে। এখন তারা তাদের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা ঠিক করে সর্বাগ্রে পরিবেশকে দূষিত না করে। বর্তমানে তারা উন্নয়নের চেয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি হুমকির মধ্যে থাকা বাংলাদেশে সে সচেতনতা তৈরি করা যায়নি। বরং পরিবেশ বেশি ক্ষতি হওয়ার পেছনে আছে সরকারি উন্নয়ন কর্মকান্ড, সে সাথে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন কাজের প্রকৃতি।
চট্টগ্রাম নগরে বাতাসে এই বস্তুকণা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং ওয়াসার পাইপলাইনের কাজ। বছরের পর বছর ধরে সারা শহরে চলছে-একদিকে সড়ক, উড়ালসড়ক ইত্যাদি নির্মাণের কাজ। অন্যদিকে চলছে ওয়াসা ও মাঝেমধ্যে গ্যাস কোম্পানির খোঁড়াখুঁড়ি। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে নগরের প্রায় ৭০ লাখ মানুষের বর্জ্য, উন্মুক্ত নালা ও খাল যা বস্তুত আবর্জনার ভাগাড় এবং রাস্তার পাশে তুলে রাখা নালার ময়লার স্তূপ। এই ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই পৃথিবীর ধনী, আধুনিক ও সভ্য নগর ও দেশগুলো গড়ে উঠেছে। এখনো ওসব দেশে এ ধরনের কাজ হয় তবে সে কাজের জন্য জনজীবন থমকে যায় না। তাদের বাতাস বা পরিবেশ বিষাক্ত হয় না। তাদের নাগরিকদের প্রবল স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয় না।
আমরা উন্নয়ন করছি কী জন্যে? মানুষই যদি সুস্থ না থাকে, মানুষই যদি না বাঁচে তাহলে সে উন্নয়ন কাদের জন্য? আগে মানুষ রক্ষা করতে হবে। তারজন্য পরিবেশ বাঁচাতে হবে। তারপর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
প্রকৃতি নিষ্ঠুর নয়। প্রকৃতি বরাবরই তার সন্তানদের রক্ষা করতে চায়। বরং প্রাণিদের মধ্যে সবচেয়ে সুচতুর মানুষই প্রকৃতিকে বিপন্নের মুখে ঠেলে দিয়ে তাকে রুষ্ট করে তোলে। তখনই কেবল প্রকৃতি রুদ্র হয়ে ওঠে। কিন্তু তারপরও প্রকৃতিই এগিয়ে আসে তার সন্তানদের বাঁচাতে। যেমন আমাদের সুন্দরবন প্রতিবার বুক পেতে দেয় রুদ্র প্রকৃতির সামনে।
সুন্দরবন থেকে অন্তত এই শিক্ষাটুকু নিতে পারি। লেখক-কবি সাংবাদিক।

সর্বশেষ সংবাদ