ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

পোস্ট করা হয়েছে 31/08/2019-10:34pm:    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য চার বছরমেয়াদী ‘পারফরমেন্স-বেজড রক্ষণাবেক্ষণ ও পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পরবর্তী চার বছরের জন্য পারফরমেন্স-বেজড রক্ষণাবেক্ষণ ও পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে সড়কটির পূর্ণ উপযোগিতা ও স্থায়ীত্ব নিশ্চিতকরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। জানা গেছে, প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে গত ১০ জুন প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুর্নগঠন করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় এটি উপস্থাপন করা হতে পারে। সেখানে যদি অনুমোদন মেলে, তাহলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত ১৯২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চার লেনে উন্নীতকরণ শেষে ২০১৬ সালের ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাসড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ রক্ষাকারী এ মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত মাত্রাতিরিক্ত পণ্য বোঝাই যানবাহন চলাচল করছে। যানবাহনের এই চাপের মুখে জাতীয় অর্থনীতির লাইফলাইন এই মহাসড়কটির পূর্ণ উপযোগিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা জরুরি। অধিক সংখ্যক এবং অননুমোদিত ভারবাহী যান চলাচলের কারণে মহাসড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত ভার বহনকারী যানচলাচলের জন্য সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে মহাসড়কটি প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের পরবর্তী ৫ বছরের জন্য ‘পারফরমেন্স-বেজড রক্ষণাবেক্ষণ ও পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৯৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুলাই হতে ২০২৩ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এটির অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণে সম্মতির জন্য সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পটি নেওয়ার যৌক্তিকতা নিরূপণের জন্য ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্মপ্রধানের নেতৃত্বে বুয়েটের প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রতিবেদন পেশ করে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ওপর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সুপারিশ অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে মহাসড়কটির কোর কাটিং পরীক্ষা করে কমিটির প্রতিবেদন চলতি বছরের ৭ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। কমিটির কার্যক্রম চলমান অবস্থায় সড়ক পরিবহন আগের প্রকল্প প্রস্তাবের পরিবর্তে ৫০০ কোটি ৬২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ সালের অক্টোবর হতে ২০২২ সালের জুনে চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ৪ বছরের জন্য পারফরমেন্স-বেজড রক্ষণাবেক্ষণ ও পেভমেন্ট শক্তিশালীকরণ প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। সর্বশেষ প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর চলতি বছরের ১০ জুন পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সড়ক পরিবহন বিভাগ গঠিত কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন ও প্রাপ্ত ডিপিপি পর্যালোচনা করা হয়। পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৭৯৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে ৭৭ হাজার ৮৯০ দশমিক ৬৮ ঘন মিটার সড়ক বাঁধে মাটির কাজ, ৩৭ দশমিক ৭১৯ লাখ বর্গমিটার ট্র্যাক কোট, ১ দশমিক ৮৬৮ লাখ ঘন মিটার ওয়ারিং কোর্স, ১ দশমিক ২১৯ লাখ বর্গমিটার রোড মার্কিং, ১৪ দশমিক ৩২৩ লাখ বর্গমিটার রাট কারেকশন বাই মিলিং মেশিন, ১৬০০টি সাইন পোস্ট এবং একটি স্টিলের ফুট ওভারব্রিজ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ