মুনাফা করেছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

পোস্ট করা হয়েছে 03/01/2017-09:29am:    ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলিয়ার কার্গো নিষেধাজ্ঞা সামগ্রিকভাবে প্রভাব পড়লেও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মুনাফা করেছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নিষেধাজ্ঞার কারণে কার্গো পণ্য পরিবহনে আয় কমেছে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিমানের কার্গো থেকে আয় হয়েছে ৩১৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে যা ছিল ৩৯২ কোটি টাকা। গত ২০ ডিসেম্বর বিমানের বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত বার্ষিক প্রতিবদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিমানের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়,২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বিমান কার্গোর মাধ্যমে ৪০ হাজার ৯১১ টন মাললামাল পরিবহন করে। এতে আয় হয় ৩১৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে কার্গো হ্যান্ডেলিং এর মাধ্যমে বিমান আয় করে ১১৮.৭৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছর থেকে বিমানের সামগ্রিক রাজস্ব আয় ০.৪৫ শতাংশ বেড়ে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা।২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বিমানের রাজস্ব আয় ছিল ৪ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বিমানের রাজস্ব ব্যয় ছিল ৪ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। এছাড়া, বিমানের২০১৫-১৬ অর্থ বছরে নেট মুনাফা ২৭৬ কোটি টাকা, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৩২৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য দূত রুশনারা আলী এমপির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকা-লন্ডন কার্গো ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের জবাবে রুশনারা আলীও জানান, ‘ঢাকা থেকে লন্ডন সরাসরি কার্গো-ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন।’ বিমানের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে উড়োজাহাজে গার্মেন্টস পণ্য নর্থ আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে যায়। এছাড়াও ওষুধ, সবজি, শুকনো খাবার, ফলমূল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যায়। আমদানির ক্ষেত্রে বিমানের কার্গো সেবার মাধ্যমে চীন, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান থেকে দেশে আসে মোবাইল ফোন,গার্মেন্টস পণ্য, কাপড়, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ। এছাড়া টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ আসে ইউরোপ থেকে। ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল আসে ভারত ও চীন থেকে। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও ব্যক্তিগতভাবে আমদানি করা পণ্য আসে। সমপ্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে ঢাকা-লন্ডন সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে কিন’ তারপরও কেন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে না এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’ সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বর মাসে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট বিভাগের উচ্চ পদস’ কর্মকর্তা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া এ বছর বিভিন্ন সময়ে বিট্রিশ ট্রান্সপোর্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস’া পর্যবেক্ষণ করেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে লন্ডনে সরাসরি কার্গো পাঠানোর ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। এর আগে যুক্তরাজ্যের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ থেকে কার্গো সার্ভিসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যুক্তরাজ্যের পরামর্শে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার মান বাড়াতে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের সঙ্গে চুক্তি সই করে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। ব্রিটিশ এই কোম্পানিকে দুই বছরে ৭৩ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে ৫ মে চিঠি দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানায় ঢাকাস’ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন। ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল একাধিকবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করলেও নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার করেনি। এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র শাকিল মেরাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমানের কার্গো সার্ভিসের মাধ্যমে আয় কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে বিমান মুনাফা করেছে। কার্গোতে নিষেধাজ্ঞা না থাকলে মুনাফার পরিমাণ আরও বাড়তো। সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করানোর চেষ্টা করছে। আশা করছি, সেটি প্রত্যাহার হলে বিমানের আয় আরও বাড়বে

সর্বশেষ সংবাদ