বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : বাণিজ্যমন্ত্রী

পোস্ট করা হয়েছে 21/12/2016-07:22pm:    আজ বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে সফররত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত রুশনারা আলী এমপির সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বেক্সিটের কারণে ক্ষতি হবে না বরং ইউকে-বাংলাদেশ বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের সাথে চলমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য। তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে যুক্তরাজ্য একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রাহক। আমেরিকা, জার্মানীর পরই যুক্তরাজ্যের অবস্থান। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের ২০০-এর বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পদ্মা সেতু থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ প্রকল্পে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাজ্য সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চলমান বিনিয়োগ পলিসির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকনমিক জোনে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্য চাইলে যে কোন একটি ইকনমিক জোন বরাদ্দ প্রদান করা হবে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ঐতিহাসিক। রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ এভ্রিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) নীতিতে যুক্তরাজ্যে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা পেয়ে আসছে। ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সাথে রপ্তানি বাণিজ্যে কোন ধরনের প্রভাব পারবে না। উভয় দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়বে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ নীতি খুবই আকর্ষণীয়। যে কোন বিনিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে শতভাগ বিনিয়োগ করতে পারবে, প্রয়োজনে লাভসহ বিনিয়োগকৃত অর্থ ফিরিয়ে নিতে পারবে। বাংলাদেশ আইনদ্বারা এ নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ খুবই নিরাপদ। এ সময়ে বাণিজ্য দূত রুশনারা আলী বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ট ব্যবসায়িক ও উন্নয়ন অংশিদার। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক যুক্তরাজ্যে বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নে যুক্তরাজ্য খুশি। যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িগণ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। একটি রেল সংযোগ প্রকল্পে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। আরো বিনিয়োগের প্রচেষ্টা চলছে। আশা করা যায় বাংলাদেশে আরো বড় বড় প্রকল্পে যুক্তরাজ্য বিনিয়োগ করা হবে। এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং যুগ্মসচিব(এফটিএ) মুনির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ