চট্টগ্রামে পোশাক শিল্পাঞ্চল স্থাপনে জন্য বারবার জমি চেয়েও আমাদের খালি হাতে ফিরতে হয়

পোস্ট করা হয়েছে 05/08/2015-11:16am:    বিশেষ প্রতিবেদনঃ
চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় জমি চেয়ে বিজিএমইএর প্রথম সহ সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার গার্মেন্টেসের আলাদা পল্লী করার জন্য আনোয়ারায় পাঁচশ একর, মিরসরাইয়ে দুই থেকে তিনশ একর এবং পটিয়ায় কিছু জমি দিলে ঢাকার চেয়েও চট্টগ্রাম গার্মেন্টস খাতে বেশি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এতে গার্মেন্টস খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লিডটাইম ৫ থেকে ৭ দিন কমানো সম্ভব হবে। এতে প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়বে। ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্জিত হলে এ খাতে আশি লাখ থেকে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে।
চট্টগ্রামে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া তিনদিনব্যাপী বাংলাদেশ এপারেল এন্ড সেফটি এক্সপো উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর প্রথম সহ সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এই দাবি ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিজিএমইএ’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী, এক্সপো’র চিফ কো-অডিনেটর আ.ন.ম. সাইফুদ্দিন, বিজিএমইএ’র পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মো. আবদুল ওয়াহাব, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অঞ্জন শেখর দাশ, শেখ সাদী, সাব্বির মোস্তফা, সাইফুলাহ মানসুর প্রমুখ।
বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের ৯৫ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। এক সময় মোট পোশাক রপ্তানির ৪০ শতাংশই চট্টগ্রাম থেকে অর্জিত হত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতীয় পোশাক রপ্তানিতে চট্টগ্রামের অবদান ১৫ শতাংশের নিচে চলে এসেছে।’
চট্টগ্রামে পোশাক শিল্পের ‘ধসের’ কারণ জানতে চাইলে নাসিরউদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসাক্ষেত্র ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের যেসব কাজ করতে হয় তার সবই ঢাকা থেকে করতে হয়।’ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে জমির দাম অনেক বেশি। এখানে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায় না। এসব কারণে চট্টগ্রামের অধিকাংশ কারখানা ঢাকায় স্থানান্তর হচ্ছে। এটি চট্টগ্রামের জন্য ভয়ঙ্কর অশনি সংকেত। তিনি বলেন, অবস্থা এমন হয়ে গেছে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ মানে শুধুই ঢাকা। বায়াররা চট্টগ্রাম আসতে চান না। এমনকি মন্ত্রীরাও আসতে চান না। চট্টগ্রামে পোশাক খাতের জন্য আলাদা শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য বারবার জমি চেয়েও আমাদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম গার্মেন্টেসের জন্য ১১ একর জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেননি। সরকারের কাছে আলাদা জোন করার জন্য জমি চেয়েছিলাম পাইনি। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রসারণের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে এক হাজার একর জায়গা দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এই জায়গা থেকে সিডিএ আমাদেরকে একশ একর জায়গা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সিটি মেয়র আ জ ম নাসিরও গার্মেন্টের জন্য জায়গা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যেসব শিল্প এলাকায় কলকারখানা সচল নেই কিংবা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে সেসব শিল্প প্লট গার্মেন্টেসের জন্য বরাদ্দ দেয়া হলে গার্মেন্টস খাতে চট্টগ্রামের অবদান ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী প্রদর্শনীর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান, চট্টগ্রামের পাঁচতারকা হোটেল র‌্যাডিসন বু (রেডিসন বু চিটাগং বে ভিউ)-তে বাংলাদেশ এপারেল এন্ড সেফটি এক্সপো, চিটাগং ২০১৫-র আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের ৭-৯ ডিসেম্বর বিজিএমইএ’র উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ঢাকা এপারেল সামিটে ২০২১ সালের মধ্যে এই শিল্পের রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। আর সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এই বিশ্বাসে এবার প্রদর্শনীর স্থান হিসেবে চট্টগ্রামকে বেছে নেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামীকাল সকাল ১০ টায় চট্টগ্রামের র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলের মেজবান হলরুমে এই এপারেল এক্সপো’র উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ট্রেড মনিটরিং গ্রুপ অব সাউথ এশিয়া’র চেয়ার সাজ্জাদ করিম এমইপি।
এছাড়াও সম্মানিত অতিথি থাকবেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাস্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন পিয়েরে মায়াওডন, বাংলাদেশে মার্কিন রাস্ট্রদুত মার্শিয়া স্টিফেনস বুম বার্নিকাট, বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনয়েট পিয়েরে লারামি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ. জ. ম. নাসির উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে মোট ষ্টল থাকছে ৭৩টি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক সংশ্লিষ্ট ১৭টি, ফেব্রিক্স ১টি, গার্মেন্টস এক্সেরিজ ২টি, গার্মেন্টস ফেব্রিক্স (লোকাল)১টি, মেশিনারী ১৮টি, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদির ২৫টি, সার্ভিস প্রোভাইডার্স ৭টি ও বিজিএমইএ’র ২টি স্টল থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদ