মধ্যপাড়া খনি থেকে ট্রেনে পাথর পরিবহণ শুরু

পোস্ট করা হয়েছে 10/04/2015-06:46pm:    দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনি থেকে মালবাহী ট্রেনে পাথর বন্ধ থাকার পর আবার পাথর পরিবহণ শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ রেলওয়ের মালবাহী ট্রেনের ৫৮টি ওয়াগন মধ্যপাড়া খনি থেকে পাথর পরিবহণ করছে। খনি থেকে প্রায় ৬২ হাজার মে. টন পাথর মালবাহী ট্রেনের মাধ্যমে পরিবহণ করা হবে বলে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির একটি সূত্র জানায়। সূত্র জানায়, মধ্যপাড়া পাথরখনি থেকে কম পরিবহণ খরচে পাথর পরিবহণের জন্য পার্বতীপুর-সান্তাহার লাইনের ভবানীপুর স্টেশন থেকে মধ্যপাড়া খনি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণ করা হয় ২০০৭-২০০৮ সালে। মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে দেশের চাহিদা মতো পাথর উত্তোলন না হওয়ার ফলে পাথর বিক্রি কম থাকায় ট্রেনের মাধ্যমে পরিবহণ ছিল না বললেই চলে। খনি থেকে বাণ্যিজিক উৎপাদন শুরুর পর প্রায় ৭ বছর ধরে আশানুরুপ উৎপাদন না হওয়ায় দেশে পাথরের চাহিদা থাকলেও খনি কর্তৃপক্ষ চাহিদা মতো পাথর সরবরাহ করতে না পারায় পাথরের বিক্রি ছিল কম। ফলে ট্রেনে পাথর পরিবহণ বেশি না থাকায় রেল লাইনটি প্রায় অচল অবস্থায় পড়েছিল। খনি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার গত ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর মধ্যপাড়া পাথর খনিটিকে অব্যাহত লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেলারুশ সরকারের প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়া জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) সঙ্গে ৬ বছর মেয়াদি খনির পরিচালনা, উৎপাদন এবং রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করে। বর্তমানে খনি থেকে প্রতিদিন ৩ শিফটে প্রায় ৪ হাজার মে. টন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। খনি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত সর্বশেষ ৫৪ হাজার মেট্রিক পাথর মালবাহী ট্রেনে পরিবহণ করা হয়। বজ্রপাতে ট্রেনের ওজন স্ক্রেলের ডায়নামিক সিস্টেম বিকল হয়ে গেলে বর্তমানে খনির উৎপাদন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) বিকল্প পথে ওয়াগন স্ক্রেল সচল করে ট্রেনে পরিবহণকৃত পাথর ওজন করছে। তারা বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে ডায়নামিক পদ্ধতি চালু করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন পাথর বিক্রি হচ্ছে যা সড়ক পথে পরিবহণ করা হচ্ছে। শুক্রবার ট্রেনে ২ হাজার মে. টন বিক্রিত পাথর পরিবহণ করা হয়েছে। বর্তমানে খনিতে বিক্রিযোগ্য প্রায় ৫ হাজার মে. টন পাথর মজুত আছে বলে সূত্র জানায়। এ ব্যাপারে মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল বাশার জানান, জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) খনির পরিচালনা, উৎপাদন এবং রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির পর পাথরের উৎপাদন প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় খনিটি আশার আলো দেখছে।

সর্বশেষ সংবাদ