পাটপণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক

পোস্ট করা হয়েছে 05/04/2015-02:52pm:    অর্থনীতি প্রতিবেদক : সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাজে পাট ও পাটপণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও পাটের রফতানি ও ব্যবহার বাড়াতে পলিথিন পণ্যের প্রবেশ রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে গত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় । এ জন্য পাটপণ্য রফতানিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাটপণ্য ব্যবহার হলে উৎপাদিত পাটের অর্ধেকের বেশি এ খাতে ব্যবহার হবে। পাটের তৈরি কাপড়, কম্বল, জুট টেপ, জুট রট, ফাইল কভার, ইউনিয়ন ক্যানভাস, ব্যাগ, পর্দা, সোফার কভার, বিজনেস কার্ড, হস্ত ও কারুশিল্পপণ্য, শিকা, কুশন কভার, পিলো কভার, বেড কভার, ওয়ালম্যাট, টিস্যু বক্স, টেবিল রানার, গারবেজ ব্যাগ, প্লেস ম্যাটসহ বিভিন্ন পণ্য সরকারি সংস্থাগুলোতে ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে কয়েক বছর থেকেই চেষ্টা চলছে । এর আগে চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি প্যাকেটজাতে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও সেগুলো কাজে আসেনি। পাট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে সরকারি কাজে পাটপণ্যের ব্যবহার করা হলে দেশে পাটের ব্যবহার অনেক বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং সেনাবাহিনীর বিশেষ কজে বহুমুখী পাটপণ্য ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আওতায় রাস্তা ও রেলপথ নির্মাণ, নদীর পাড় সংরক্ষণ ও পাহাড় ধস রোধসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে পাটের বস্তা বা চট ব্যবহার করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আমদানি করা সার সরবরাহের ক্ষেত্রেও পাটের বস্তা ব্যবহার ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কারখানাগুলোয় উৎপাদিত সার প্যাকেটজাত করতে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পস্তাব করেছে পাট মন্ত্রণালয় ।এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে সেসব দেশ থেকে বাংলাদেশে অর্থ পাঠাতে অসুবিধা হচ্ছে। এ কারণে পাটপণ্য রফতানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ জন্য অর্থ, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে চিঠি দিয়েছে পাট মন্ত্রণালয়। পাট অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে সরকারি পাট সংস্থাগুলো উৎপাদিত পাটপণ্য বাজারজাত করা হয়েছে ৮ হাজার ২৪১ কোটি টাকার। এর মধ্যে আট লাখ টন পাট রফতানি থেকে ৬ হাজার ৫২২ কোটি টাকা এসেছে। একই সময়ে স্থানীয় বাজারে ২ লাখ টন পাট ও পাটপণ্য ১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া পাটের ব্যবহার বাড়াতে উৎসে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) তুলে নেয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে পাট মন্ত্রণালয়। পাট কৃষিপণ্য হওয়ায় এ পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষকরা সরাসরি জড়িত। এ জন্য পাট ও পাটজাত পণ্য তৈরির জন্য লাইন্সেস গ্রহণ ও নবায়নের জন্য ১৫ শতাংশ মূসক তুলে দেওয়ার প্রস্তাব এনবি আরে পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কাঁচা পাট কেনার ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ হারে মূসক থেকে অব্যাহতি দিতেও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি প্যাকেটজাতের ক্ষেত্রে পাটের মোড়ক ব্যবহারের আইন রয়েছে। এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। তারা শতভাগ পাটের বস্তা ব্যবহার করছে। চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন ৫০ শতাংশ পাটের বস্তা ব্যবহার করছে। তবে বেসরকারি চিনিকলগুলোর শতকরা ৫০ ভাগ পাটের বস্তা ব্যবহারের কথা থাকলেও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে শুরু হয়নি। অন্যদিকে চালে পাটের বস্তা ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে বার্ষিক পাটের ব্যাগের চাহিদা বেড়ে ৮৪ কোটি পিসে উন্নীত হবে। এ বিষয়ে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, পাটের সোনালি গৌরব ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে পাটের ব্যবহার করতেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাটপণ্য রফতানির প্রতিবন্ধকতা দূর করতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ