পদ্মায় ঠিক রেখে এডিপি বরাদ্দে কাটছাঁট

পোস্ট করা হয়েছে 10/03/2015-04:25pm:    নিজস্ব প্রতিবেদক : ৭৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দেয়া হয়েছে আজ মঙ্গলবার। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৫০ হাজার ১০০ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এতে মূল এডিপি থেকে বরাদ্দ কমে যাচ্ছে ৮ হাজার ৩১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮০ হাজার ৩১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মূল এডিপির সরকারি তহবিল থেকে কমছে ৫ হাজার ৫১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে কমছে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এ সময় অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব শফিকুল আজম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা কমানো হয়েছে। মূল এডিপির এক হাজার ২২৪টি প্রকল্প থেকে কমিয়ে করা হচ্ছে এক হাজার ১৯৭টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প থাকছে একশ হাজার ৮টি, কারিগরি প্রকল্প ১৬৮টি এবং জাপানী ঋন মওকুফ সহায়তা তহবিলের (জেডিসিএফ) ২১টি প্রকল্প। সংশোধিত এডিপিতে খাত ভিত্তিক বরাদ্দ হচ্ছে, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ৭ হাজার ৫ কোটি ৫লাখ টাকা, ভৌত পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে ৬ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ খাতে ৪ হাজার ৭৪১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৬৩০ কোটি ২৭ লাখ, কৃষি খাতে ৪ হাজার ১৯৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ৭ হাজার ৫ কোটি টাকা, পানি সম্পদ খাতে ২ হাজার ৮৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, শিল্প খাতে ১ হাজার ৮৬৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা, তৈল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে ১ হাজার ৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যোগোযোগ খাতে ৭৪৩ কোটি ৫৮ লাখ, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে ৬ হাজার ৮৪৪ কোটি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে ১৬৬ কোটি ৯২ লাখ,গণসংযোগ খাতে ১০৯ কোটি ৯৫ লাখ, সমাজকল্যাণ, মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন খাতে ৪০৯ কোটি ৪ লাখ, জনপ্রশাসন খাতে ১ হাজার ৭০১ কোটি ৪৬ লাখ, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৬৩০ কোটি ২৭ লাখ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে ৪৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে না পদ্মা সেতু প্রকল্পে। মূল এডিপিতে এই সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এটিই ঠিক থাকছে । এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, দ্রুত এগিয়ে চলছে দেশের সর্ববৃহৎ অবকাঠামো পদ্মা সেতুর কাজ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল সেতু, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, তদারকি ও পরিবেশ কার্যক্রমসহ অন্যান্য অংশ মিলে বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৪ দশমিক ১২ শতাংশ কাজ। চলতি বছরের জুনের মধ্যেই শেষ হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ, এর পরেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শেষ হবে পূর্নবাসনের কাজও। পদ্মা সেতুর সময় ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা এবং অর্জিত ফলাফল শীর্ষক এক প্রতিবেদনে অগ্রগতির এ চিত্র উঠে এসেছে। এ জন্যই বরাদ্দ বাড়ারার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। অগ্রগতি বিষয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মূল সেতু নির্মাণসহ প্রধান কার্যক্রমগুলো ধরলে এখন পর্যন্ত সেতুর কাঙ্খিত বাস্তবায়ন হয়েছে। বর্তমানে যে ভাবে কাজ এগিয়ে চলছে এতে করে আমরা আশাবাদী ২০১৮ সালের মধ্যেই এ সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে। বর্তমানে আমাদের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য অনুযায়ীই কাজ এগিয়ে চলছে। এ অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট। হরতাল ও অবরোধের মধ্যেও চলতি অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এ সময় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থব্যয় হয়েছে ৩৩ শতাংশ, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩১ শতাংশ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হয়েছে ২৫ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে মোট এডিপির বাস্তবায়ন হার ছিল ৩১ শতাংশ। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরে এক শতাংশ বাস্তবায়ন হার বেড়েছে।’

সর্বশেষ সংবাদ