মন্দা কাটছে আবাসন খাতের

পোস্ট করা হয়েছে 22/12/2014-09:41pm:    ঢাকা অফিস : দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছে দেশের আবাসন খাতে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মন্ত্রণালয়ের নানা বিধি-বিধান, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও পানি সঙ্কট, নিবন্ধন ও ছাড়পত্রের নামে হয়রানি, নকশা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা, দুর্নীতি এবং আইন-কানুনের মারপ্যাঁচসহ নানা কারণে এসব সমস্যায় ভুগতে হয়েছে খাতটিকে। তবে সম্প্রতি সে মন্দা কেটে উঠছে আবাসনে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিদ্যুৎ-গ্যাস সঙ্কটসহ কিছু সমস্যার সমাধান হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে আবাসন মালিকরা বলছেন, ‘এ খাতের কিছুটা উন্নতি হলেও প্রতিবন্ধকতাগুলো এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। দ্রুত সেগুলো দূর করা না গেলে আবারো বিপর্যয়ে পড়তে পারে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এ খাতটি। প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে সরকারের সুদৃষ্টি দরকার।’ আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘২০১৩ সালের শুরু থেকে নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে আবাসন খাতে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সমস্যা ছিল। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী এ খাতে শিল্পমালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস ও পানি সংযোগ পাওয়া গেছে। বেচা-বিক্রিও ভালো চলছে। বর্তমানে সমস্যগুলো কিছুটা কাটিয়ে উঠছে আবাসন খাত।’ জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে একটি মেলা করেছিল রিহ্যাব। মেলাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ওই মেলায় প্রবাসীরা ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। রিহ্যাব আরো জানায়, আবাসন খাতে সৃষ্ট সঙ্কটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। এ সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটেছে। কিন্তু এর পরও সরকারি বিভিন্ন পলিসির জটিলতা আছে। এর মধ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, মন্ত্রণালয়ের নানা বিধি-বিধান, নিবন্ধন ও ছাড়পত্র গ্রহণে হয়রানি, নকশা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা, দুর্নীতি তো আছেই। গত শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে রিহ্যাবের শীতকালীন মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রবিউল হক বলেন, ‘রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ইমারতের নকশা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা আছে। ফলে রিহ্যাবের কার্যক্রমকে গতিশীল করা যাচ্ছে না। এজন্য আমরা রাজউকে একটি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেল’ চালুর জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করছি।’ এদিকে রিহ্যাব সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ১০ হাজার ৬০০টি ফ্ল্যাট অবিক্রীত ছিল। ২০১৩ সালে ছিল চার হাজার ১২৪টি। ২০১২ সালে ছিল তিন হাজার ৫৮৪। আর ২০১৪ সালে ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৪৭৭টি। ২০১৩ সালে হয়েছিল এক হাজার ৮৬৩। ২০১২ সালে বিক্রি হয়েছিল দুই হাজার ২৯৩টি। এছাড়া গত তিন বছরে ছয় হাজার ৩৭টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০১৪ সালে হস্তান্তর হয়েছে এক হাজার ৭১৭টি ফ্ল্যাট। ২০১৩ সালে দুই হাজার ২৫৩ ও ২০১২ সালে হস্তান্তর হয় দুই হাজার ৬৭টি ফ্ল্যাট। সম্প্রতি রিহ্যাবের ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে রিহ্যাবের পাঁচ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রিত আছে। জানা গেছে, আবাসন খাতে বিনিয়োগে ক্রেতাদের স্বল্প সুদে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয় রিহ্যাব। এর প্রেক্ষিতে ২০০৭-২০০৮ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৯ শতাংশ সুদে আবাসন খাতের ক্রেতাদের ঋণ দিতে ৭০০ কোটি টাকার থোক দেয় সরকার। কিন্তু ওই বছর থেকে বরাদ্দটি বন্ধ আছে। এ সুবিধাটি চালু করার জন্য রিহ্যাবের নেতারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা প্রক্রিয়াটি পুনরায় চালু করতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। বেশ কিছু প্রস্তাবসহ অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। এটি চালু হলে আবাসনে আরো গতি ফিরবে।’ জানা গেছে, রিহ্যাবের অনুরোধে আবাসন খাতের উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এজন্য তিনি চলতি বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। চিঠির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ হলেই আবাসন খাতে আরো গতি ফিরবে বলে মনে করছেন আবাসন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সংবাদ