খেলাপি ঋণের অধিকাংশই বড় শিল্প গ্রুপ

পোস্ট করা হয়েছে 17/11/2014-07:10pm:    আলোর কণ্ঠ ডেস্ক : ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা খেলাপি ঋণের অংক ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই চলছে। কোন ক্রমেই কমছেনা এ ঋণের বোঝা। গত জুন প্রান্তিকে ঋণের যে হার ছিল তা অক্টোবরে এসে ১ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আগামী ডিসেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আর এ খেলাপি ঋণের অধিকাংশই কয়েকটি শিল্প গ্রুপের হাতে আটকে আছে। সর্বশেষ গত অক্টোবরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটি অর্থিক খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত জুন প্রান্তিকে এ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার কোটি টাকা। যা বিগত ৪ মাসে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এ হার ছিল ৪১ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বলেন, এখন ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ১০ থেকে ১১শতাংশে নেমে এসেছে। এটা ততটা খারাপ নয়। তবে খেলাপি ঋণ ৮ শতাংশে নেমে এলে তিনি খুশি হতেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরোও বলেন, আমরা খেলাপি সংস্কৃতি থেকে পরিত্রান পাচ্ছি। খেলাপি ঋণ নিয়ে সাংবাদিকরা মাঝে মধ্যে লেখে। ঋণ খেলাপি হওয়া সম্মানের জন্য হানিকর। এখন ব্যাবসায়ীরা এটি মনে করেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। খেলাপি ঋণের অধিকাংশই রাষ্টায়ত্ব ব্যাংক গুলোতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র বলছে, রাষ্টায়ত্ব ব্যাংক গুলোর কিছু কর্মকর্তার সাথে ব্যাবসায়ীদের সখ্য থাকার সুবাধে রাষ্টায়ত্ব ব্যাংক গুলোতে খেলাপি ঋন আদায়ের হার অনেক কম। এতে ব্যাবসায়ীরা ঋণ খেলাপীতে আরো উৎসাহিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তুত করা ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগের প্রান্তিকে অর্থাৎ গত জুন শেষে মোট ঋণের পরিমান ছিল ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র মতে, গত ২০১৩ সালের অর্থ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সারা দেশে রাজনৈতিক অসন্তোষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাক্তিদের কেস টু কেস বা প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক বিশ্লেষণ করে ঋণ পুনঃ তপসিলের বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। এ সময় এককালীন জমা বা ডাউনপেমেন্ট শর্ত শিথিল করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সে সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। ওই সময় খেলাপীরাও সুযোগ নিয়ে ঢালাওভাবে ঋণ পুনঃ তপসিল করে নেয়। বলা হচ্ছে এখন আবার সেসব ঋণ খেলাপিতে রুপান্তর হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ