শীর্ষ সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে সীমিত পরিসরে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রা

আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল)‘কাল ভয়ঙ্করের বেশে আসে ঐ সুন্দর’ স্লোগান নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে সীমিত পরিসরে প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৮। করোনা সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউনের শুরুর দিন উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।আজ চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন মুখোশ নিয়ে অনুষদ প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সংক্ষিপ্তভাবে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রতীকী এ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। প্রতীকী এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়াসহ চারুকলা অনুষদের স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আবহমান কাল থেকে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার যে বর্ণিল উৎসব ও ঐতিহ্য, সেটি অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন। নানা বিবেচনায় বাংলা-১৪২৮ গুরুত্ববহ একটি বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সন্ধিক্ষণে বাংলা নববর্ষের আগমন ঘটল। কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত মঙ্গল শোভাযাত্রা। কিন্তু চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে এ বছর পহেলা বৈশাখ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আশা করি, আগামীতে করোনা উত্তর বাংলাদেশে আগের রূপে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে সক্ষম হবো। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সংক্ষিপ্তভাবে প্রতীকী এ মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করায় আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

আজ থেকে মহারাষ্ট্রে ‘জনতা কার্ফু’

আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল) করোনা সংক্রমণে ভারতের মধ্যে কঠিন অবস্থা পার করছে মহারাষ্ট্র। রাজ্যটিতে লকডাউন নয়, কড়া ‘জনতা কার্ফু’ জারি করা হয়েছে। আজ রাত ৮টা থেকে ১ মে সকাল ৭টা পর্যন্ত এই কার্ফু জারি থাকবে। তিনি জানান, ‘মহারাষ্ট্র সরকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতিতে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু যেভাবে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর প্রবল প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখন রাজনীতি করার সময় নয়। প্রতিনিয়ত অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ছে, হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা কমে আসছে, ওষুধের চাহিদাও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। তাই সরকার ‘জনতা কার্ফু’ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ কার্ফুর নির্দেশনায় বলা হয়, বিশেষ কারণ ছাড়া বাইরে বেরুনোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবা, প্রতিষ্ঠান, কাজকর্ম বন্ধ রাখতে হবে। তবে চালু থাকবে জরুরি পরিষেবা। খোলা থাকবে থাকবে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্যবীমা অফিস, ওষুধের দোকান ও ওষুধ-কারখানা। এছাড়া স্যানিটাইজার, মাস্ক, টিকা সরবরাহ ও দেয়ার কাজ চলবে। বিমান, ট্রেন, ট্যাক্সি, অটো, বাস চলবে। বন্ধ থাকবে শপিং মল, সিনেমা হল। তবে রেস্তোরাঁ থেকে শুধু খাবার কিনে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। রাজনৈতিক সভা, বিয়ে বাড়ি ও শ্রাদ্ধের মতো অনুষ্ঠান করতে হবে নামমাত্র লোক নিয়ে। রাজ্যটিতে ইতিমধ্যেই দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে, সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন

আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল)করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশব্যাপী ৮ দিনের কঠোর লকডাউন চলছে। আজ ভোর ৬টা থেকে লকডাউনের বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। ঢাকার রাস্তায় যানবাহন খুবই কম। পুলিশী তৎপরতা চোখে পরার মত। একটু পর পরই ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। সেখানে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনকে থামিয়ে দিচ্ছে, কাগজপত্র চেক করতে দেখা গেছে। গত সোমবার (১২ এপ্রিল) কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না। খোলা স্থানে কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যদি কেনা-বেচা করা যাবে ৬ ঘণ্টা। প্রজ্ঞাপনে ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়, তা হলো- ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। ২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। ৩. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না। ৪. শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। ৫. আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে। ৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে। ৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। ৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। ৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে। ১০. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লেখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদপেক্ষ গ্রহণ করবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে। ১১. স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন। ১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবির নামাজে জমায়েত বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে। ১৩. উপরোক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

সর্বাত্মক লকডাউন ব্যাংকে লেনদেন ১০টা থেকে ১টা

আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল) সর্বাত্মক লকডাউনের দিনগুলোতে (সরকারি ছুটি ছাড়া) ব্যাংক খোলা থাকবে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। তবে লেনদেন চলবে আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এই সময়ে ব্যাংকের স্থানীয়, প্রধান শাখাসহ সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখা ও জেলা সদরের ব্যাংকের প্রধান শাখা খোলা রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি দুই কিলোমিটারের মধ্যে একটি শাখা (এডি শাখা না থাকলে) খোলা রাখতে হবে। এদিকে ব্যাংক খোলা থাকায় শেয়ারবাজারের লেনদেনও চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে আরো বলা হয়, এই সময়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি ব্যাংকের একটি শাখা রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার খোলা রাখতে হবে। ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অফিসে আনা-নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিধি-নিষেধ চলাকালে যেসব শাখা বন্ধ থাকবে সেগুলোর গ্রাহকসেবা কার্যক্রম খোলা রাখা শাখার মাধ্যমে সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে গত ১২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিধি-নিষেধের আওতায় সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা বলেছে সরকার। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। কিন্তু এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার পর মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক একদম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি যুক্তিযুক্ত ছিল না। কারণ ব্যাংক বন্ধ থাকলে শুধু ব্যক্তি গ্রাহক অসুবিধার সম্মুখীন হয় না, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আজ পহেলা বৈশাখ

আজ বুধবার(১৪ এপ্রিল)এসো হে বৈশাখ এসো এসো...মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’আজ পহেলা বৈশাখ। আজ সূর্যের নতুন আলোর সঙ্গে এসেছে ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। চৈত্রের রুদ্র দিনের পরিসমাপ্তির মাধ্যমে মঙ্গলবার ১৪২৭ সনকে বিদায় জানিয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আজ যুক্ত হয়েছে নতুন বছর। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই বাঙালির জীবনে আরো একবার এলো পহেলা বৈশাখ। গত বছরও মানুষ ঘরে আবদ্ধ ছিল, এবারও বৈশাখ বরণে মেতে ওঠা হবে না। এবারের বৈশাখে নিশ্চয়ই বিশ্ব জুড়ে করোনার সংক্রমণের কারণে যে ‘লকডাউন’ চলছে তা থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান ফুটে উঠবে সবার প্রার্থনায়। সবার মনে পহেলা বৈশাখের সেই চিরায়ত গান গুঞ্জরিত হলেও এবারে তার আবেদন ভিন্ন। আর এই আশঙ্কার মধ্যেই জাতির জীবনে এসেছে বাংলা নতুন বছর। প্রতি বছর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মানুষ পথে নেমে আসে। সকালের প্রথম আলোয় সঙ্গীত সমাবেশ আর মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বরণ করে নতুন বছরকে। ভোরে সূর্যের আলো ফোটার সময় থেকেই রমনা বটমূল মানুষের পদচারণায় ভরে ওঠে। এবার সেই প্রাঙ্গণ থাকবে জনশূন্য। শাহবাগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের প্রতিটি উত্সব কেন্দ দেখা যাবে জনমানবহীন। এমন অনাড়ম্বর পহেলা বৈশাখ আর কখনোই আসেনি জাতির জীবনে। এর আগে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পহেলা বৈশাখের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নতুন করে লোকসমাগমে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এবার তাই কোনোরকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নতুন বর্ষকে বরণ করে নেওয়া হবে। ঐতিহ্যবাহী রমনার বটমূলে হচ্ছে না ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। তবে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারে নববর্ষের বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। এদিকে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এবং লকডাউনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পহেলা বৈশাখ বরণ উপলক্ষ্যে সশরীরে মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হচ্ছে না। তবে, প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রদর্শন ও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণজমায়েত করা যাবে না।

ব্রেকিং নিউজ » কোভিড১৯ সংক্রমণ রোধে চট্টগ্রাম নগরীতেও সর্বাত্মক লকডাউন

সামাজিক দূরত্ব মাস্ক ব্যবহারের বালাই নেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আজ বুধবার ভোর ৬টা থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে আটদিনের কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত ।সাধারণ ছুটির আওতায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাকি সবরকম সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সার্বিক বিষয়ে তদারকি ও কঠোরভাবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে থাকবে প্রশাসন।তার পরও লোকজন অহেতুক বের হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি দূরে থাক, মানুষের মাস্ক পরতেও অনীহা। ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত চলমান এই লকডাউনকে সামনে রেখে বেশকিছু বিধিনিষেধ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এসব বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালন করতে বলা হয় সারা দেশের মানুষকে। এগুলো হলো: -জরুরি সেবাদানকারীরা ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সব বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট অফিস এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

তীব্র যানজট, দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে নাকাল পথের যাত্রীরাও

যানবাহনের দীর্ঘ চাপে নগরজুড়েই তীব্র যানজট, দুর্ভোগ পথের যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে শত শত যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি নগরীর ব্যস্ততম রাস্তার দুই দীর্ঘ গাড়ীর সারি।গণপরিবহন থাকলেও এখন শুধু রিকশা ও প্রাইভেট যানবাহন।স্বাভাবিক সময়ের মতো এখানে দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট। যার ফলে বেড়েছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও। বুধবার থেকে করোনা পরিস্থিতির নতুন বিধি-নিষেধের কারণে নানা প্রয়োজনে মানুষের সমাগম বেশি ছিল।সরেজমিন দেখা নগরীর প্রতিটি শপিং সেন্টারে ছিল উপচে পড়া ভিড়। মুদি দোকান থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারে লেগেছিল ক্রেতাদের ভিড়। এদিন ব্যস্ততম সময় পার করেছেন দোকানিরা। নিজেদের পরিবারের জন্য কেনাকাটার পাশাপাশি অনেককে আত্মীয়-স্বজনদের জন্যও রমজানের ছোলা-চিনি, চাল-ডাল কিনতে দেখা গেছে। সোমবার থেকে লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও সাধারণ যাত্রীর সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। কেউ ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। কেউ ফিরেছেন শহরে। এ ছাড়া নগরীর অনেকে এক সপ্তাহের জন্য কাঁচাবাজার, ভোগ্যপণ্য কেনাকাটা করতে বেরিয়েছেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নগরীর দেওয়ান হাট মোড়, নিউমার্কেট মোড়, কদমতলী, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ বারেক বিল্ডিং, চকবাজার ও মাঝির ঘাট এলাকায় যানজট। সকালে স্টেশন রোডে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে, রিকশা, প্রাইভেট কার এবং বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ীর দীর্ঘ যানজট। রিয়াজ উদ্দিন বাজার ও নিউমার্কেট এলাকায় বিভিন্ন পাইকারী সবজি ও ভোগ্যপণ্য পাওয়া যায় বলে এ ধরণের যানজট হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। অন্য দিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গণপরিবহণগুলো নতুন বিধি-নিষিধের আওতায় চলায় অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করছে। এ কারণে শহরে যানজটের ধকল থাকলেও গণপরিবহণ সংকটে মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।সরেজমিন ঘুরে দেখা নগরের বেশকিছু এলাকার প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে তীব্র যানজট ছিল। আর গণপরিবহণের জন্য মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। একদিকে গাড়ির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে, অন্যদিকে যানজটের কারণে আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা।

লালখান বাজার ওয়ার্ড এলাকায় ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে:মেয়র নাছির

আজ ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার লালখান বাজার ওয়ার্ড এলাকায় চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা শ্রমিক লীগ আয়োজিত ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা শ্রমিক লীগ নেত্রী সেলিনা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ সহসভাপতি শফর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদিকা রুবা আহসান চৌধুরী, চসিক প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন, নগর আওয়ামীলীগ সদস্য বেলাল আহমেদ, লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম, নগর শ্রমিক লীগ নেতা কামাল উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, বেসিক ইউনিয়ন সমন্বয় পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক মো আলমগীর, উজ্জ্বল বিশ্বাস, শ্রমিক নেতা আবদুল হালিম, ভাস্কর উল্লাহ চৌধুরী, বক্সিরহাট ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা এস এম মামুনুর রশিদ, লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সদস্য আনিসুর রহমান চৌধুরী, শেখ আমিনুর রহমান সুমন,নগর মহিলা শ্রমিকলীগ নেত্রী আনোয়ারা আলম, মুক্তা জামান,নাসিমা আকবর,কানিজ ফাতেমা লিমা,তাহমিনা আকতার, রুনা আকতার,সুমি আকতার, রেহেনা আকতারসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মহানগর এলাকার ৩০০ জন মহিলা শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীর মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি দেশের বাণিজ্যিক এলাকা খাতুনগঞ্জে দাম বাড়াচ্ছে

ছবি বিপ্লব সেন কাল শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান রমজানের আগেই বেশ কিছুদিন ধরে অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। বেড়েই চলেছে চাল, ডাল, তেল, ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ, চিড়া, নারকেলসহ রোজার প্রধান অনুষঙ্গ আরও বেশকিছু পণ্যের দাম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোগ্যপণ্যের মজুদ ভালো থাকায় দাম না বাড়ার কথা বললেও উল্টো চিত্র খাতুনগঞ্জে। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দামে সয়াবিন তেল মিলছে না বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। আবার পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে। এ সময়ে ছোলার চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ভালো মানের ছোলা খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৪ থেকে ৬৬ টাকায়। যা আগে বিক্রি হয়েছে ৫৮ থেকে ৬১ টাকায়। মাঝারি মানের যেসব ছোলা কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬১ টাকায় বিক্রি হয়েছে, একই মানের ছোলা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৩ থেকে ৬৫ টাকায়। অস্থির চালের বাজারও। প্রায় সকল মানের চালের দাম বেড়েছে প্রতিবস্তায় (৫০ কেজি) ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১২৮ থেকে ১৩০ টাকা। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে মানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা। প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। কিছুদিন আগেও প্রতিটি নারকেল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গত সাত মাসে ৬০ হাজার ৩৩১ টন চিনি আমদানি হলেও বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৭ থেকে ৬৮ টাকা।কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক পণ্য মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে । এ জন্য মনিটরিং করা দরকার এখন থেকে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে মত তাদের। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি- আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৯ হাজার ২১৮ টন ছোলা খালাস হলেও এরই মধ্যে প্রতি কেজিতে ছোলার দাম বেড়েছে ৫থেকে ৭ টাকা। রমজানকে টার্গেট করে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

আজ সীতাকুণ্ডে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত ১

আজ মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নুর জাহান বেগম (৫৫) নামে এক নারী রিকশা যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সীতাকুণ্ড বাজার সংলগ্ন বায়তুশ শরফ মসজিদের সামনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের সূত্রে বলেন,নিহত নুর জাহান একই উপজেলার শেখনগর উত্তর মহাদেবপুর এলাকার আবুল কালামের স্ত্রী বলে জানা গেছে। জানা যায়, সীতাকুণ্ড বাজার থেকে বাজার করে রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নুর জাহান। রিকশাটি বায়তুশ শরফ মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পৌছালে পেছন থেকে একটি কাভার্ডভ্যান তার আরোহিত রিকশাকে ধাক্কা দেন। এতে রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন নুরজাহান। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তথ্যটি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া। তিনি বলেন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী সমাজকর্মী, স্কাউট আন্দোলন এর কর্ণধার ও আলোর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শিশু কিশোর সংগঠন এর উপদেষ্টা আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, প্রিয় স্যারের প্রতি আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, বলেন আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

নিগারের শতকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ আজ রোববার দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দলের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যেই পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। এবার হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে মাঠে নেমেছে নিগার সুলতানা বাহিনী। ম্যাচে অধিনায়কের অনবদ্য শতকে চড়ে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং নারী দল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০১ রান করেন নিগার সুলতানা জোতি। অধিনায়কের ১৩২ বলের এই ইনিংসে ছিল ৮টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কার মার। এছাড়া সর্বোচ্চ ৪৫ রান আসে শোভানা মোশতারির ব্যাট থেকে। তার ৫২ বলের সময়োপযোগী এ ইনিংসে ছিল তিনটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কার মার। ওপেনার মুরশিদার ব্যাট থেকেও আসে মূল্যবান ৪১টি রান। আর শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন লতা মণ্ডল। তার ১৬ বলে ২৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসেই মূলত সোয়া দুইশ ছাড়ায় দলের স্কোর। একটি করে চার ও ছয় হাঁকান লতা।আজ সকালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। যদিও দলীয় মাত্র ১৬ রানেই প্রথম উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। ২১ বলে ১০ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার শারমিন সুলতানা। তবে এরপর ৭২ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন মুরশিদা খাতুন ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা। এ পর্যায়ে রান আউটে কাটা পড়ে বিচ্ছিন্ন হন ওপেনার মুরশিদা। ফেরার আগে ৪১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। তার ৭৮ বলের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চারের মার। এরপর ক্রিজে এসে থিতু হতে পারেননি ফারজানা হক। মাত্র ১ রান করেই নবুলুমকো বেনিতেই এর শিকার হন প্রথম ম্যাচের নায়িকা। যাতে ১০৫ রানেই তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পরে শোভানা মোশতারিকে নিয়ে দলের রান বাড়াতে মনযোগী হন নিগার সুলতানা। সিরিজে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির লক্ষ্যেই ছুটতে থাকেন অধিনায়ক। চতুর্থ উইকেটে শোভানাকে (৪৫) সঙ্গে নিয়ে গড়েন অনবদ্য ৯৭ রানের জুটি। দলীয় ২০২ রানে শোভানা ফিরলে নিগারের সঙ্গী হন লতা। এই ব্যাটারের ঝড়ে শেষ ২৩ বলে ৩৪ রান যোগ করে বাংলাদেশ। যাতে দলের স্কোর দুইশ ত্রিশ ছাড়ায়। প্রোটিয়া নারীদের পক্ষে মিকেলা অ্যান্ড্রিউস, নবুলুমকো বেনিতেই ও লিচ জোনস একটি করে উইকেট লাভ করেন। এর আগে ফারজানা হক, নিগার সুলতানা জোতি এবং রাবেয়া খাতুন ও মুরশিদা খাতুনের যৌথ নৈপূণ্যে প্রথম তিন ওয়ানডেতে যথাক্রমে ৫৪ রানে, ৭ উইকেটে ও ৬ উইকেটে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ দল: শারমিন সুলতানা, মুরশিদা খাতুন, নিগার সুলতানা জোতি (অধিনায়ক), ফাহিমা খাতুন, ফারজানা হক, লতা মণ্ডল, নাহিদা আক্তার, রাবেয়া খাতুন, রিতু মনি, সালমা খাতুন ও শোভানা মোশতারি।

সর্বশেষ সংবাদ