চট্টগ্রামে প্রতিমা বিসর্জনে সমুদ্র সৈকত ও অভয়মিত্র ঘাটে মানুষের ঢল

পোস্ট করা হয়েছে 09/10/2019-08:23am:    এড,সুব্রত চৌধুরী ডেক্সঃ পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন মঙ্গলবার ছিল বিজয়া দশমী। উমার (দেবীদূর্গা) ফিরে যাওয়ার দিন। ‘অকাল বোধনে’কৈলাস থেকে শরতের পঞ্চম তিথিতে ঘোড়ায় চড়ে উমা আসেন পিতৃগৃহে । পাঁচ দিন পর দশমী তিথিতে আবার ফিরে যান কৈলাসে।এদিকে মঙ্গলবার দিন-শেষে দেবী দুর্গার বিদায়বেলায় আনন্দ-বেদনার মিশ্রণ অনুভূতিতে ‘মা দূর্গার ভক্তদের হৃদয় সিক্ত করে তোলে। দশমীতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁন্দুর খেলায় মেতে উঠেন ভক্তরা।নানান আয়োজনে মঙ্গরবার চট্টগ্রাম সহ সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে , শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যদায় নগরে ২৭০টি মণ্ডপে পূজা-অর্চনা, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে দেবী দূর্গা ভক্তরা পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব উদযাপন করেন।সার্বজনীন এই উৎসবের প্রত্যেক দিনই সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়র সকল বয়সের নারী-পুরুষ মণ্ডপে-মণ্ডপে গিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন। পাশাপাশি দূর্গতি নাশিনী দেবীদূর্গার কৃপা লাভের আশায় তারা আরাধনা করেন। মহালয়ায় দেবী দুর্গা পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন,বিজয়া দশমীর দিন আবার মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গলোকে প্রস্থান করেন। ভক্তরা বিষাদ ভুলে হাসিমুখে দেবী মাকে বিদায় জানাতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে-অপরকে সিঁদুরে রাঙান, নাচ-গান করেন, যেন সারা বছর এমন আনন্দে কাটে। চট্টগ্রাম নগরে ২৭০টি মণ্ডপে এবার পূজা অনুষ্ঠিত হয়, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ,প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও দুর্গাপূজা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিপুলসংখ্যক আনসার, ব্যাটালিয়ান পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর আগে (মঙ্গলবার) নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও অভয়মিত্র ঘাট। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে সববয়সী মানুষের ভিড়। শিশু থেকে বয়োঃবৃদ্ধ সবাই ভিড় জমান মাকে শেষ বারেরমত বিদায় জানাতে।বিকেল চারটার পরে কর্ণফুলীর পাড়ে সব বয়সী মানুষের ভিড় জমে ওঠে। কোথাও তিল ঠাঁইয়ের জায়গাও ছিল না। ট্রাকে করে মিউজিকের সুরে দুর্গাকে নিয়ে আনন্দ করতে করতে আসেন ভক্তরা। মুখে, গায়ে রঙ্গ মাখা ভক্তরা কিছুক্ষণ পরপরই উচ্চকণ্ঠে স্লোগান তুলছে ‘বল দুর্গা মা কি জয়’। কেউ শেষবারের মতো প্রণাম করছেন মাকে। মায়ের বিদায়কালে ভক্তদের চোখ ছলছল করছিল জলে।অভয়মিত্র ঘাট, পতেঙ্গা সৈকতের চিত্র ছিল এমনই। বেলা দুইটার পর থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। ঠেলাগাড়ি, রিকশ্ভ্যাান, ট্রাক, পিকআপে করে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা নিয়ে আসতে থাকেন তারা। এদিকে সকাল আটটা থেকে নগরীর ম-পে ম-পে বাজে দেবীর বিদায়ী সুর। ষোড়শ উপাচারে দশমীর বিহীত পূজা, শাস্ত্রীয় আচার, দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন, দেশ-জাতি, ব্যক্তিগত ও পরিবারের সুখ, শান্তি, মঙ্গল কামনায় ব্যস্ত ছিলেন পূজার্থীরা।মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার বলেন, এবার নগরে ২৭০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা সৈকতে ১২০ থেকে ১৩০টি প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মণ্ডপগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিমাও পতেঙ্গা সৈকতে বিসর্জন দেয়া হয়। এর বাইরে নগরীর সদরঘাট থানার ফিরিঙ্গিবাজারের অভয়মিত্র ঘাটে, পাহাড়তলী থানার কাট্টলী সৈকতে, পাহাড়তলীর বিভিন্ন পুকুর ও দীঘিতে, কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট অংশে বিগ্রহ বিসর্জন দেয়া হয়। চট্টগ্রামে প্রতিমা বিসর্জনের সবচেয়ে বড় আয়োজন চলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায়। গতকাল দুপুর থেকে সেখানে মানুষের ঢল নামে। ঠেলাগাড়ি, ট্রাক, ভ্যান ও পিকআপে করে নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা নিয়ে আসা হয় পতেঙ্গা অভিমুখে। বিকেল গড়ালে জনসমুদ্রে পরিণত হয় পতেঙ্গা সৈকত এলাকা। একই দুশ্য ছিল কাট্টলী সমুদ্র সৈকত ও ফিরিঙ্গিবাজার অভয়মিত্র ঘাট এলাকায়। প্রতিমা বিসর্জনের সময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। গতকাল সন্ধ্যার পরও বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ