নগরীর বায়েজিদে আরও একটি দৃষ্টিনন্দন সবুজ উদ্যানের’ উদ্বোধন হলো।

পোস্ট করা হয়েছে 09/10/2019-08:05am:    মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) নগরীতে আরও একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক হলো। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের প্রবেশ পথের পাশে বায়েজিদ সবুজ উদ্যান পার্কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান। ‘বায়েজিদ সবুজ উদ্যানের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগের অনেক বদনাম। দুর্নাম আছে, সুনামও আছে। আমি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঁচ বছর। আগে ছিলাম তিন বছর, আট বছর। কোনো কন্ট্রাকটরের সাথে আমার দেখা হত না। কোনো ঠিকাদারের সাথে দেখা হত না। তারা চেষ্টা করলেও আমার সাথে দেখা করতে পারত না। যে নিয়ম আছে সরকারের, সে অনুযায়ী যে লোয়েস্ট (বিডার) হবে, সেই কাজ পাবে। সে যেই হোক না কেন। এখানে আমার বা চিফ ইঞ্জিনিয়ারের কিছু করার নেই। আমি দেখব, যে আমার কাজটা ঠিক হচ্ছে কি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন প্রথম মন্ত্রী হই তখন গণপূর্ত ছয়তলা পর্যন্ত ভবন করত। বললাম- সব দশতলা হবে। আবার দ্বিতীয়বার যখন হলাম, তখন বললাম ১৬ কোটি মানুষ দেশে। ২০ তলার নিচে গণপূর্তের কোনো ভবন হবে না। এখন সব ১৮-২০ তলা হচ্ছে।’ গণপূর্তের সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণপূর্তের সক্ষমতা এখন অনেক বেড়েছে। রুপপূর পারমাণবিক প্রকল্পে মাত্র ১৩ মাসে ২০ তলা ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। সুতরাং আমাদের সক্ষমতা আছে। গণপূর্তের এখন সক্ষমতা বাড়ছে। অনেক বড় প্রকল্পও হাতে আছে। আজিমপুর কলোনিতে সব ভবন ২০ তলা হচ্ছে। মতিঝিল কলোনিতেও হচ্ছে। এছাড়াও উত্তরায় সবগুলো ১৮তলা বিল্ডিং। একটাও তো পড়ে যায়নি। ভূমিকম্পের হয়েছে, সব তো ঠিক আছে। উত্তরায় তৃতীয় পর্বে যে কোনো ভবনে যান, গিয়ে দেখেন কোয়ালিটি কী। একটা কোয়ালিটি যদি খারাপ হয় তাহলে রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করব।’ কেউ কেউ যে দুর্নীতি-অনিয়ম করেন—সে কথাও স্বীকার করে সাবেক মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেক অসাধু আছে। চিহ্নিত করতে হবে। করে এদের থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্যাসিনো বন্ধ হয়েছে। সাধুবাদ জানাই। যেন এসব আর না চলে সে পদক্ষেপ আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আমরা একটা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চাই।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে যে মেগা প্রকল্প, পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে সেটি পূর্ণাঙ্গ কিনা আমারও সন্দেহ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের পানি পর্যন্ত শহরে প্রবেশ করছে। এটা আরো পূর্ণাঙ্গভাবে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে যদি করা যায়। অন্যথায় এই টাকাগুলোর অপচয় হবে বলে আমিও মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদিও আমি কোন বিশেষজ্ঞ নই। আলোচনা করতে করতে যে জানাটুকু হয়েছে, সে কারণে এই কথাটা বললাম। মেগা প্রকল্পের টাকাগুলো জনগণের। এত টাকা ব্যয় করেও যদি জলাবদ্ধতা দূর করা না যায়, তাহলে এর চেয়ে কষ্টের কোন কিছু হবে না। তখন তো নগরবাসী আমাদেরকে ভুল বুঝবেন’- বলেন মেয়র নাছির। আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন সিটি করপোরেশন নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। এখানে কোন প্রবিধানমালা ছিল না। আমরা প্রয়োজনীয় লোকবলও নিয়োগ দিতে পারিনি। সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার দেনা নিয়ে শুরু করেছি। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব খুব বেশী জায়গা নেই। অতীতে গণপূর্ত বা অন্যান্য সংস্থা থেকে সিটি করপোরেশনের ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া হয়েছে। হয়তো দেখা গেছে একটা কাজে ব্যবহারের জন্য অনুমতি নিয়েছে, কিন্তু সেখানে হয়েছে অন্যকিছু। এগুলোর তো তথ্য-প্রমাণ আছে। এসব বলতে গেলে অনেকে অনেক কিছু মনে করবেন।’ জাসদের সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, ‘কারো কাছে দুই হাজার কোটি টাকা পেলে চারবার ক্রসফায়ার করেন, এটাই জনগণ দেখতে চায়। আপনাদের প্ল্যানিং এটিচিউটডকে স্ট্রংলি অ্যপ্রচ করি। কোনটা আগে করবেন আর কোনটা পরে করবেন, আর কোনটা করলে মানুষ উপকৃত হবে সে বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে।’ সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদলের কথার জবাবে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন,‘বাদল ভাই কিছুক্ষণ আগে বলেছেন, কেন ওদেরকে গুলি করা হবে না? এই সবুজ উদ্যান ১২ কোটি টাকার জায়গায় আট কোটিতে করেছে। চার কোটি ফেরত গেছে। আমি বলতে চাই, চার কোটি টাকা এটাও তো আত্মসাৎ করতে পারত। কিন্তু এটা তো ফেরত গেছে। ঠিকাদাররা সেটি ফেরত না দিয়ে রেখে দিতে পারতেন। এটা কি ভাল দিক নয়?’ প্রসঙ্গত, বায়েজিদের সেনানিবাস সড়কের পাশে দুই একরের বিশাল জায়গায় ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যায়ে ‘বায়েজিদ সবুজ উদ্যান’ নির্মাণ করেছে গণপূর্ত বিভাগ। আগ্রাবাদের জাম্বুরী র্পাকের পরে এই উদ্যানটি হবে প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্রের আরেকটি মনোরম পরিবেশ।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দুই একর জমিতে এ প্রকল্পের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও ব্যয় হয়েছে মাত্র আট কোটি ২৩ লাখ টাকা। বাকি টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। উদ্যানটিতে ৪১ প্রজাতির বৃক্ষরাজিতে পরিকল্পিত বনায়ন করা হয়েছে। রয়েছে বসার জন্য বেঞ্চ, হাঁটার জন্য ৪ হাজার ফুটের ওয়াকওয়ে। আছে শিশুদের রকমারি খেলনা, আলোর ফোয়ারা। পানির ঝরনাধারা। পতেঙ্গা সৈকত, আগ্রাবাদের জাম্বুরি পার্কের পর এটি হবে নগরবাসীর পছন্দের একটি প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র। ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং হবে উদ্যানটি। সকালে ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি ও শরীরচর্চার জন্য এবং বিকালে সপরিবারে বেড়ানোর জন্য উদ্যানটি খোলা রাখা হবে বলে জানান গণপূর্তের কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ সংবাদ