চসিকর ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা

পোস্ট করা হয়েছে 11/07/2018-10:13am:    ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জন্য ২ হাজার ৪শ ২৫ কোটি ৪২ লক্ষ ৮২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। মঙ্গলবার দুপুরে কর্পোরেশনের মিলনায়তনে তিনি এ বাজেট ঘোষণা করেন। প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট আগের অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বেশি। বাজেট অধিবেশনে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ৮৮৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও পেশ করা হয়।জলাবদ্ধতা সংশ্লিষ্ট দুটি খাতে মোট ৩০০ কোটি টাকা অনুদান প্রাপ্তি ও ব্যয়ের হিসেব দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক উন্নয়ন, নালার প্রতিরোধ দেয়াল, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ প্রকল্পে আড়াইশ কোটি টাকা এবং বাড়াইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খননে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।উন্নয়ন প্রকল্পের অনুদানের ওপর নির্ভর করে বাজেট ঘোষণা করা হলেও ‘নির্বাচনের বছর’ হওয়ায় বেশি অর্থ ছাড় পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে সিটি মেয়র বলেন, এর ‘সিংহভাগ’ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বাজেট বক্তৃতায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, গত দুই অর্থবছরের তুলনায় এটি অধিক বাস্তবানযোগ্য। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরাও যোগাযোগ করেছি। আর ব্যক্তিগত খাতের বকেয়া কর আদায়ে উদ্যোগ নিয়ে ফলও পেয়েছি। আশা করি, কর আদায় বাড়বে।উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ প্রাপ্তির বিষয়ে মেয়র বলেন, উন্নয়ন অনুদানে ১৬৮০ কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। এটা অস্বাভাবিক নয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুধু একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। কয়েকটি প্রকল্প অর্থ ছাড়ের অপেক্ষায় আছে। এটা নির্বাচনী বছর। অর্থছাড় বৃদ্ধি পাবে। গতবারের তুলনায় এবার অনেক বেশি পাব। টাকা প্রাপ্তির গতি এখন বেশি। মেয়র বলেন, এর বাইরে সিটি গভর্নমেন্ট প্রকল্প এবং জাইকার প্রকল্প থেকেও টাকা পাওয়া যাবে বিধায় এ বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব। জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে সিটি মেয়র বলেন, এ ধরনের কাজে ধারাবাহিকতা থাকা খুব জরুরি। সিডিএ ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৬ শ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। যেসব জায়গায় তারা কাজ করছে সেখানে আমরা দু-চারদিন আবর্জনা উত্তোলন না করলে কী অবস্থা হয়, গিয়ে দেখবেন। এর দুটি কারণ। বৃষ্টিতে পাহাড় থেকে নেমে আসা বালি এবং খাল-নালায় আর্বজনা নিক্ষেপ।সিটি মেয়র বলেন, যেহেতু মেগা প্রকল্প তাই প্রতিটি খালের মাটি উত্তোলন সিডিএর কাজ। সিটি কর্পোরেশনের সেই সুযোগ নেই। তারপরও নগরবাসীর ভোগান্তির কথা বিবেচনায় রেখে আমরা আর্বজনা উত্তোলন অব্যাহত রেখেছি। পরিকল্পিত পরিকল্পনার অভাব এবং নগরীর প্রধান সড়কের এক-চতুর্থাংশের পাশেই ড্রেন না থাকা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন মেয়র। মেয়র বলেন, সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় এয়ারপোর্ট রোড, জামাল খান, টাইগারপাস, লালখান বাজার, কাজির দেউড়ি ও আউটার স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী নগরকে নান্দনিক সাজে সাজানো হচ্ছে। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে নৌকার উপর জাতির জনকের দৃষ্টিনন্দন মুরাল তৈরি করা হয়েছে। তিলোত্তমা চট্টগ্রাম-এর সহযোগিতায় ‘ছাদ-বাগান’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ খাতে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সিটি মেয়র বলেন, কর্পোরেশনের পৌরকর অর্থাৎ (হোল্ডিং, কনজার্ভেন্সি ও লাইটিং ট্যাক্স) সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি নিয়মিত হালনাগাদকরণসহ বিভিন্ন চার্জ, ফি, কর, ভাড়া ইত্যাদি ‘অনলাইন ব্যাংকিং’ এর মাধ্যমে আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নাগরিকরা ঘরে বসে সকল তথ্য-উপাত্ত পাবেন। এতে হোল্ডিং কর, রেট, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য করাদি পরিশোধ সহজ হয়। শুধুমাত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে কর আদায় করা এর মূল উদ্দেশ্য। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বিগত ৩ বছরে নগরীর প্রতিটি সড়কের পাশে পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১টি মেগা প্রকল্প সিডিএ’কে অনুমোদন দিয়েছেন। যার বাস্তবায়ন দেশ প্রেমিক সেনা বাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এ ছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সরকারের প্রকল্প সহায়তায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামের পরিবেশ বদলে যাবে, দৃষ্টিনন্দন হবে আমাদের প্রিয় নগর চট্টগ্রাম। নগরের লালদিঘির দক্ষিণ পাড়ে সিটি গভার্নেন্স প্রকল্পের আওতায় জাইকার অর্থায়নে ১২ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮-তলা বিশিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সাইক্লোন সেল্টার ও পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণাধীন। নগরীর আলোকায়ন সম্পর্কে মেয়র বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি ছিল নগরীরকে শতভাগ আয়োকায়নের আওতায় আনা। এ লক্ষ্যে ১৫৫৬টি সুইসিং পয়েন্টের মাধ্যমে ৫১ (একান্ন) হাজার এনার্জি টিউব, হাই-প্রেসার সোডিয়াম, এলইডি ও অন্যান্য বাতি দ্বারা সড়ক আলোকায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নগরবাসীর রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ও চলাচলের সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রধান সড়কে ৪ কোটি ৭৪ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকায় প্রায় ৭০৫টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং ২ কোটি ৩৭ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকায় আরো ৩৮১টি এলইডি বাতি স্থাপনের জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জনসাধারণ ও যানবাহনের চলাচলের সুবিধার্থে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উন্নতমানের এলইডি লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন অনুদান খাতে সর্বোচ্চ ১৬৮০ কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে থোক বরাদ্দ থেকে সর্বোচ্চ তিনশ কোটি টাকা পাওয়ার হিসাব ধরা হয়েছে। অন্যদিকে নগরীতে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন, নালার প্রতিরোধ দেয়াল, ব্রিজ ও কালভার্ট এর নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ প্রকল্পে আড়াইশ’ কোটি টাকা, জাইকা প্রস্তাবিত প্রকল্পে দুইশ’ কোটি টাকা এবং সড়ক নেটওয়ার্ক ও বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে দুইশ’ কোটি টাকা আয় ধরা হয়। এর বাইরে বকেয়া ও অভিকর খাতে ১৯১ কোটি টাকা আয় ধরা হয়। যদিও গত অর্থ বছরে এ খাতে ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এছাড়া হালকর ও অভিকর খাতে আয় ধরা হয়েছে ১৪৪ কোচটি ৩৪ লাখ টাকা। অন্যান্য কর থেকে ১৩৩ কোটি এবং ফি বাবদ ৯৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা আয় ধরা হয়। অপরদিকে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে উন্নয়ন প্রকল্পে। এ খাতে ১৩৫৫ কোটি টাকা খরচের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; যদিও বিদায়ী অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের খাত সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পারিশ্রামিক বাবদ ২৭২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। গত অর্থ বছরে এ খাতে ব্যয় হয় ২২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি উন্নয়ন রাজস্ব তহবিল ও অন্যান্য খাতে ১৯৩ কোটি টাকা এবং বকেয়া দেনা পরিশোধে ১৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অধিবেশনে বাজেটের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অর্থ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শফিউল আলম। সভাপতিত্ব করেন সিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা।

সর্বশেষ সংবাদ
মজুতদার, সিন্ডিকেট এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র- কামরুল হাসান বাদল কবিও সাংবাদিক আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক ধর্মঘটের নামে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবেন না: সেতুমন্ত্রী আগামী জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম নগরীতে নামছে ১০০ শীতাতপ বাস চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি,প্রাইভেটকার চলাচলেও বাধা খেলাধূলা ছেলে-মেয়েদের মানসিক শক্তি জোগায়: প্রধানমন্ত্রী রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড দেশে চাল পর্যাপ্ত মজুদ আছে,দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা-খাদ্যমন্ত্রী মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ