জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে কেউ ছাড় পাবে না -সুধী সমাবেশে মেয়র

পোস্ট করা হয়েছে 01/08/2017-09:03am:    শতভাগ স্বচ্ছতা ও সততার সাথে সিটি কর্পোরেশন পরিচালনার দাবি করে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, ‘যদি দলীয়করণ ও দুর্নীতি করতে হয় তবে হাসিমুখে মেয়র পদ থেকে বিদায় নেব। আমি পাওয়ার জন্য আসিনি, দেয়ার জন্য এসেছি। জীবন দিয়ে হলেও নগরবাসীর জন্য কাজ করতে দ্বিধা করব না।’ তিনি বলেন, নগরবাসী যে তিনটি সেবা পাওয়ার জন্য কর দিয়ে থাকেন তা আমি শতভাগ নিশ্চিত করব। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার নগরবাসীর কাছে আবারো দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান সময় সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এটি প্রকৃতির সাথে জড়িত। নগরীর সকল খাল আরএস এর ভিত্তিতে ডিজিটাল সার্ভে করা হচ্ছে। জরিপ করার পর খাল থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে কেউ ছাড় পাবে না। আশা করি, আগামী তিন বছরের মধ্যে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারবো।’ মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির উদ্দীনের দায়িত্ব গ্রহণের দুবছর পূর্তিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে ২০১৬–১৭ অর্থবছরের উন্নয়ন কার্যক্রম অবহিতকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি একথা বলেন। মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন সময়সাপেক্ষ এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ। কারণ সিডিএ ১৯৯৫ সালে যে মাস্টারপ্ল্যান করেছিল তাতে বলা হয় ৫০ বছর পর (২০৪৫ সাল) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা হবে ৪ দশমিক ৮ মিটার। কিন্তু এবারই হলো ৪ দশমিক ৫৪ মিটার। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের কোনো অনুমান কাজে আসেনি। খাল–নালা দখল প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, কে খাল দখল করেছে আমার বলার দরকার নেই। যিনি দখল করেছেন তিনি তো জানেন। স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াতে পারেন। আরএসের ভিত্তিতে ডিজিটাল জরিপ করা হচ্ছে। কিছুটা সময় লাগবে। উচ্ছেদের সময় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সিডিএ’র সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ভুল করে থাকে, আর যেন ভুল না করে। এখন আমাদের উদ্ধার পেতে হবে। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় টার্মিনালের দিকের র‌্যাম্প শুরুতে বাদ দিয়েছিল, এখন নির্মাণ করছে। কিন্তু এই র‌্যাম্পের দুইটি বড় পিলার পড়েছে ক্রস নালার ওপর। কদমতলী ফলম–ির দশাও একই। কদমতলী ফ্লাইওভারের কারণে সেখানে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ সাধারণ মানুষ গালি দিচ্ছে সিটি কর্পোরেশনকে। উন্নয়নে সমন্বয় প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আমি সমন্বয় করতে চাই। জনগণ, নগরবাসী, মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি আমার জবাবদিহিতা আছে। কিছুদিন অন্তর সভা করি। সবাই আসেন। কিন্তু এরপর আর কন্টিনিউশন থাকে না। নিজের দায়িত্ব এবং প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তিনি সচেতন উল্লেখ করে বলেন, আমাদের কাজ অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জের। নগরবাসীর প্রত্যাশার চাপ বেশি। আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশা থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ এ নগরে যত সেবাদানকারী সংস্থা আছে তার মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আমি। অন্যরা সরকার বা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এটি আমি উপভোগ করি। সমালোচনাকে আমি ভয় পাই না। এটিও ঠিক আমি প্রথম নির্বাচিত মেয়র নই। প্রথম দুবছর অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করেছি, ক্রেডিট নিচ্ছি না। সিটি কর্পোরেশনে যারা আছেন তাদেরকে নিয়েই আমাকে কাজ করতে হচ্ছে। তাদের কাউকে সরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আর যদি সরিয়ে দিই তাহলে দেখা যাবে লোম বাছতে কম্বল উজাড়ের মতই হবে। তখন আমার আশপাশে কেউ থাকবে না। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে ঠিকাদাররা আন্দোলন করেছিল। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের কাজ করবে না বলে হুমকিও দিয়েছিল। দায়িত্ব নিয়ে ঠিকাদারদের সাথে বসে তাদের বুঝিয়েছি। আমি রেট শিডিউল পরিবর্তন করেছি। এখন মানসম্পন্ন কাজের জন্য ঠিকাদারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারি। তিনি বলেন, নগরবাসী যে তিনটি সেবা পাওয়ার জন্য কর দিয়ে থাকেন তা আমি শতভাগ নিশ্চিত করব। এ নগরের একটি এলাকাও অন্ধকারে ডুবে থাকবে না। পুরো শহর এলইডি বাতির আওতায় নিয়ে আসব। এক ইঞ্চি রাস্তাও কাঁচা বা ইটের থাকবে না। শতভাগ কার্পেটিং করবো। চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলছি, পরিচ্ছন্নতা কাজে আমূল পরিবর্তন এনেছি। এক্ষেত্রে শতভাগ সফলতা আনব। ঢালাও সমালোচনার সমালোচনা করে মেয়র বলেন, ঢালাও সমালোচনা করা ঠিক নয়। আমি পরচর্চা করি না। আমি দায়িত্ব নিয়ে কথা বলি। পেছনে কথা বলি না। পেছনে কথা বলা নীতিবান লোকের কাজ মনে করি না। তাড়াহুড়ো না থাকলে তিনি সবার কথা শুনেন উল্লেখ করে বলেন, জীর্ণ–শীর্ণ ভিক্ষুকের কথাও তিনি শুনেন। কিন্তু তিনি যা ভালো মনে করেন তাই করেন। ‘অনেক কাছের মানুষ বলেন নাছির ভাই কথা শুনেন না’ এমন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার দায়িত্ব দুটি। প্রথমত আমি দলের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক, দ্বিতীয়ত আমি মেয়র। বাকিগুলো বাদই দিলাম। দুটি দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়। আমার থেকে অনেক যোগ্য প্রার্থী মেয়র নির্বাচনের ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এখন অন্যদের পক্ষে যারা ছিল তাদের কি দূরে ঠেলে দিতে পারি। চসিকের দরপত্র নিয়ে কোনো অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে কেউ বলতে পারবে না। কারণ কে দরপত্র পাচ্ছে তা আমার কাছে বিবেচ্য নয়। আমি সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে চসিক পরিচালনা করব। এটি আমার অঙ্গীকার। সব কাউন্সিলর, ১০ হাজার কর্মকর্তা–কর্মী নিয়ে আমরা শতভাগ নাগরিকসেবা নিশ্চিত করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নগরবাসীর সহযোগিতায় আশা করি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে পারব। জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুর্ভোগের শিকার নগরবাসীর প্রতি দুঃখপ্রকাশ করে মেয়র বলেন, আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী চট্টগ্রাম এবং ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে আমাদেরকে ডেকেছেন। বিকাল ৩টায় বৈঠক হবে। বৈঠকে সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার পেছনে অপ্রত্যাশিত ভারী বৃষ্টি, পাহাড় ক্ষয়, সামুদ্রিক জোয়ার, কাপ্তাই বাঁধের পানি ছেড়ে দেয়া এবং ৩ পার্বত্য জেলার পানি কর্ণফুলি নদী দিয়ে নগরীতে প্রবেশের বিষয়গুলো জড়িত। ঢাকার ক্ষেত্রে এই সমস্যা নেই। সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবিহা মুসা এমপি, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স–এর সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দি চিটাগং টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক, বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মজিবুল হক খান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন আহমদ, নগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, মহিলা চেম্বার পরিচালক রেখা আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সামশুল হক হায়দরি, স্থপতি সোহেল মাহমুদ শাকুর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম।

সর্বশেষ সংবাদ
মজুতদার, সিন্ডিকেট এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র- কামরুল হাসান বাদল কবিও সাংবাদিক আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক ধর্মঘটের নামে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবেন না: সেতুমন্ত্রী আগামী জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম নগরীতে নামছে ১০০ শীতাতপ বাস চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি,প্রাইভেটকার চলাচলেও বাধা খেলাধূলা ছেলে-মেয়েদের মানসিক শক্তি জোগায়: প্রধানমন্ত্রী রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড দেশে চাল পর্যাপ্ত মজুদ আছে,দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা-খাদ্যমন্ত্রী মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ