ভরাট হচ্ছে কর্ণফুলী -অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারে পানিবন্দি নগরী

পোস্ট করা হয়েছে 14/08/2016-09:01am:    বন্দরের ‘ড্রেজিংয়ের গল্প’ শেষ হয় না
উজান থেকে ও বিভিন্ন খালের মাধ্যমে আসা বর্জ্য জমে দিন দিন ভরাট হচ্ছে দেশের লাইফ লাইন খ্যাত কর্ণফুলী নদী। ভাটার সময় মাঝ নদী বরাবর চর জেগে উঠে, চলাচল করতে পারে না কোনো লাইটার জাহাজ। কিন’ এই অবস’া থেকে কর্ণফুলীকে বঁাঁচাতে ড্রেজিংয়ের বিকল্প না থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বার বার শুনাচ্ছে শিগগির শুরু হওয়ার গল্প।
একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মামলার কারণে কি দেশের লাইফ লাইন খ্যাত কর্ণফুলী ভরাট হয়ে যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে গত ৫ জানুয়ারি বন্দরের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বর্তমান নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই হতে দেয়া যাবে না। আমি জরিপের কাজ শেষ করেছি। এখন যে যে জায়গায় বালি বেশি রয়েছে সেসব জায়গাগুলোকে ব্লক করে বালি বিক্রি করে দেব। মামলাম জটিলতার কারণে কোনোভাবেই বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেয়া যাবে না।’
নিজাম উদ্দিন আহমেদ পদোন্নতি পেয়ে নৌ বাহিনীর প্রধান হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর বন্দর দিবস উপলক্ষে সংবাদ কর্মীদের সাথে এক আলোচনা সভায় কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটেল ড্রেজিং কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেছিলেন, ‘আমরা শিগগিরই জেটির পাশে মেইনটেনেন্স ড্রেজিং করে লাইটারেজ জাহাজ ভেড়ানোর উদ্যোগ নিবো।’
পরবর্তীতে গত ৭ মে বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সভায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ক্যাপিটেল ড্রেজিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, ‘আমি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের এক মাস আগে বন্দর চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানিয়েছি ক্যাপিটেল ড্রেজিংয়ের বিষয়টি উপদেষ্টা কমিটির সভায় এজেন্ডা হিসেবে রাখার জন্য বলেছি কিন’ এখন দেখছি তা নেই। তবে কর্ণফুলী না বাঁচলে চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচবে না।‘
একই সভায় পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ক্যাপিটেল ড্রেজিংয়ের অভাবে কর্ণফুলী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এই অবস’া চলতে থাকলে বন্দর অচল হয়ে পড়বে। তাই এখনই ক্যাপিটেল ড্রেজিং শুরু করা প্রয়োজন।’ চিটাগাং চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলমও ক্যাপিটেল ড্রেজিংয়ের কথা তুলেছিলেন। আর এর জবাবে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যার রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেছিলেন, ‘ক্যাপিটেল ড্রেজিং বিষয়ে আইনি ঝামেলা মিটে গেছে। আমরা নিজ উদ্যোগে এখন ক্যাপিটেল ড্রেজিংয়ের কার্যক্রম শুরু করবো। এছাড়া এতোদিন আমরা মেইনটেনেন্স ড্রেজিংয়ের কাজ করেছি।’ সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট সংবাদ কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় ক্যাপিটেল ড্রেজিং বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিগগিরই আমরা ক্যাপিটেল ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করবো। মন্ত্রণালয় থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করতে আইনি ঝামেলা নেই বলে আমাদের জানিয়েছে। তারপরও এই বিষয়ে আরো আইনি মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।’
এদিকে গতকাল দুপুরে কর্ণফুলী নদীর ফিরিঙ্গীবাজার ব্রিজঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদী পারাপারের সাম্পানগুলো মাঝ নদীতে গিয়ে যাত্রী উঠা-নামা করাচ্ছে। তীর থেকে পলি জমে তা বহুদূর পর্যন্ত চলে গেছে। শুধু সাম্পান নয়, লাইটার জাহাজ ভেড়ানোর জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ যেসব জেটি তৈরি করেছিল, সেসব জেটি থেকে নদীর ভেতরের দিকে প্রায় ৩০০ ফুট পর্যন্ত মাটির স্তূপ গড়ে উঠেছে।
সদরঘাট সাম্পান ঘাটের মোহাম্মদ আলী নামের এক মাঝি জানায়, নিজেদের উদ্যোগে আমরা যদি ১০ দিন ড্রেজিং না করি তাহলে সাম্পানও ভেড়াতে পারবো না। প্রতিদিন পলি জমে ভরাট হচ্ছে কর্ণফুলী।
চট্টগ্রামের পরিবেশ কর্মী শরীফ চৌহান কর্ণফুলী ভরাট প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্যাপিটেল ড্রেজিংয়ের নামের ফাঁদের কারণে ভরাট হচ্ছে কর্ণফুলী। আর এই জটিলতা নিরসনকে বিলম্বিত করে ভরাট কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।‘
এদিকে কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং না করানোর ফলে অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারে পানিবন্দি হচ্ছে দেশের অন্যতম পাইকারি আড়ত চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জ। গত কয়েক বছর ধরে শুরু হওয়া এই দুর্ভোগ এখন মারাত্নক রুপ নিয়েছে। তা নিরসনের দাবিতে গত ৬ আগস্ট চাক্তাই খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ান মেরিটাইম অ্যান্ড ড্রেজিং কর্পোরেশনকে ২২৯ কোটি টাকায় কর্ণফুলী নদীর নাব্য বাড়াতে ক্যাপিটেল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তারা এই কাজ পায়। ২০১১ সালের জুনে শুরু হওয়া এই কাজ ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় ২০১৪ সালের মাঝামাঝি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই স’বির সব কাজ। এটি সম্পন্ন হলে বর্তমানে হাতির ঝিল খ্যাত পার্কটির ব্রিজের নিচে ৬ মিটার গভীরতা থাকতো। মাঝিরঘাট থেকে লাইটারেজ জাহাজগুলো ভিড়বে এই এলাকায়। আর চাক্তাই খালের অপর পাড়ে কর্ণফুলী সেতুর অংশে ভিড়বে মাছ ধরার বোটগুলো। ফিশারি ঘাটও সেখানে গড়ে উঠার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ
মজুতদার, সিন্ডিকেট এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র- কামরুল হাসান বাদল কবিও সাংবাদিক আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক ধর্মঘটের নামে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবেন না: সেতুমন্ত্রী আগামী জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম নগরীতে নামছে ১০০ শীতাতপ বাস চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি,প্রাইভেটকার চলাচলেও বাধা খেলাধূলা ছেলে-মেয়েদের মানসিক শক্তি জোগায়: প্রধানমন্ত্রী রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড দেশে চাল পর্যাপ্ত মজুদ আছে,দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা-খাদ্যমন্ত্রী মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ