জামায়াত-শিবির থাকলে আইএস লাগে না: ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

পোস্ট করা হয়েছে 19/06/2016-02:40pm:    কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদ্গাহের ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, যে দেশে জামায়াত শিবিরের মতো বর্বর ও হিংস্র সংগঠন রয়েছে সেখানে নাশকতার জন্য আইএস লাগে না। প্রখ্যাত এ আলেম বলেন, জামায়াত-শিবির কতো বর্বর ও হিংস্র তা আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেখেছি। যেখানে জামায়াতের মতো সংগঠন আছে সেখানে আইএস থাকার প্রয়োজন পড়ে না। জামায়াত, আলবদরওয়ালা নিজামী, মুজাহিদ ও কসাই কাদেরদের বর্বরতা আইএসকেও হার মানিয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর খিলগাঁওয়ের চৌধুরীপাড়া ঝিল মসজিদ সংলগ্ন ইকরা বাংলাদেশ ইসলামি গবেষণা পরিষদ কার্যালয়ে এ কথা বলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান। তিনি আরও উল্লেখ করেন ইসলাম অত্যন্ত উদার, অসাম্প্রদায়িক, সহিষ্ণু, শান্তিবাদী এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম প্রেম ও ভালবাসার শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছে। কিন্তু আমাদেরই উপমহাদেশে ইসলামের উগ্রবাদী ব্যাখ্যা দেন জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদী। তিনি কিন্তু আলেম ছিলেন না।আল্লামা মাসঊদ বলেন, ইসলাম সম্পর্কে মওদুদীর ফুলিয়ে ফাপিয়ে লেখার প্রবণতা ছিল। এ কারণে তার লেখাগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। তারপর তিনি পার্টি গঠন করেন। ঠিক এমনইভাবে মিসরের ইকুয়ানুল মুসলিমিন (পরে মুসলিম ব্রাদারহুড) এর ধারাবহিকতায় আইএস এর জন্ম। ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ইসলামের জেহাদকে অপব্যাখ্যা দেয় জামায়াত শিবির ও উগ্রবাদীরা। মৌলিকভাবে জেহাদ হলো ইসলামে কল্যাণময় ভাল কাজের জন্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার নিয়তে নিজের সর্বময় প্রয়াসকে নিয়োজিত করা। জেহাদ ও সন্ত্রাস এক জিনিস নয়। হাদিসে ও ইসলামে নারী-পুরুষ, সন্ন্যাসী, শিশু, অসুস্থ, বৃদ্ধকে নির্বিচারে হত্যা নিষেধ, এমনকি যুদ্ধের সময়েও। প্যাগোডা, মন্দির গির্জা ধ্বংস করা নিষেধ। আল্লাহ বলেছেন, ধর্মের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। জেহাদকে নিয়ে একটি গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়ায় শুধু নিজেদের কাজকে বৈধ করার জন্য। আর আত্মঘাতী হওয়া ইসলামে কবিরা গুণাহ। সবাই একযোগে কাজ করলে জঙ্গিদের নিশ্চিহ্ন করতে এক মাসও লাগবে না বলে মনে করেন শোলাকিয়া ঈদগাহ’র ইমাম। গত ৩০ বছর ধরে প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন বলেও জানান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ৭১’র রণাঙ্গণে পাকিদের হটিয়েছি। জামায়াতের সঙ্গে আমার আদর্শিক বিরোধ।আমি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক পদে ছিলাম প্রায় ১৪ বছর। ২০০১’র নির্বাচনে জামায়াত যখন বিএনপি’র অঙ্গ হয় তার ঠিক পরের বছরই আমি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করি। যখন দেখেছি নিজামী-মুজাহিদের গাড়িতে আমার ভালবাসা ও মর্যাদার পতাকা উড়ছে তখন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের অধীনে কাজ করতে আমার মন সায় দেয়নি।এ কারণে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছিলাম, ‘আমি একজন স্বাধীনতার কর্মী হিসেবে এবং আল্লাহ ও রাসুলের একজন আশেক হিসেবে দুশমনদের অধীনে কাজ করতে পারছি না।’

সর্বশেষ সংবাদ