বছর ঘুরে আবার ফিরে এলো মাহে রমযানুল মুবারক।

পোস্ট করা হয়েছে 07/06/2016-07:44am:    আল্হামদুলিল্লাহ্, বছর ঘুরে আবার আমাদের কাছে ফিরে এলো মাহে রমযানুল মুবারক। ১৪৩৭ হিজরী সনের মাহে মুবারক, তোমায় স্বাগত। জংধরা আত্মায় জং ছাড়িয়ে আবারো নূরের প্লাবন বইয়ে দিতে মুমিন সমাজে বহুল প্রতীক্ষিত তোমার আগমন পুনরায় আমাদেরকে ধন্য করেছে। পুণ্যের শিহরণ এনেছো আমাদের মননে, মস্তিষ্কে। হৃদয়ের বরণডালা দিয়ে তোমায় বরণ করি। এসো হে পুণ্যের মাস। সার্থক করো এ জীবন।
মাহে রমযান, মাহে কুরআন, এ মাসে এসেছে আল্ কুরআন। মহান আল্লাহ্র ফরমান, ‘শাহরু রমাদ্বান আল্লাযী উনযিলা ফীহিল কুরআন। আহলান, সাহ্লান, মারহাবা হে মাহে কুরআন। পুণ্যের জোয়ারে হবো আমরা প্লাবিত, তাই মুমিন মাত্রই পুলকিত। প্রিয় নবীর ফরমান মতে এর প্রথম দশক রহমত, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত, আর তৃতীয় দশক হল নাজাতের। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে যে পবিত্র মাস এলে, হৃদয়ের গালিচা বিছিয়ে ডাকছি তোমায়, এসো হে বিধাতার বরেণ্য মেহমান, আমাদের ভুবনে তোমায় স্বাগতম! এক ফালি চাঁদের হাসিতে আত্মপ্রকাশ করে এ মহিমান্বিত মাসটি। কী এক অনির্বচনীয় স্নিগ্ধতায় আচ্ছন্ন করে হৃদয় মন। একটি মাসের সি’তিকে তার উদয় অস্ত দিয়ে করে সীমায়িত। তাই চাঁদ দেখতে হয়। চাঁদ দেখা সুন্নত। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজন আমাদের প্রিয়নবী চাঁদ দেখেছেন, চাঁদের খবর নিয়েছেন। তাঁর ইরশাদ হলো, ‘তোমরা চাঁদ না দেখে রোযা রেখো না, আর (পরবর্তী শাওয়ালের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযায় ক্ষান্ত দিওনা।’ (মিশকাতুল মাসাবীহ) নবীজি শুধু চাঁদ দেখতেন, তাই নয়, চাঁদ দেখে সৃষ্টিকুলের শুভ বিধাতার কাছে আবেগঘন প্রার্থনাও জানাতেন। এ প্রক্রিয়ায় আন্তরিক অভ্যর্থনা জানাতেন মহিমান্বিত মাস এ মাহে রমযানকে। তিনি উম্মতের নিরুদ্বেগ জীবন যাত্রার জন্য আস’া, বিশ্বাস, শান্তি-স্বস্তি আর তাদের আরোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন শান্তির সহায়ক সুস্বাসে’্যর জন্য দুআ করতেন। তিনি কী অপরিমেয় আবেগ উদ্দীপনা নিয়ে মাহে মুবারক এ রমযানের মাসটির প্রতীক্ষায় উদগ্রীব থাকতেন তাঁর পবিত্র মুখে প্রার্থনার আকুতি থেকে তা বুঝা যায়। সেই গত রজব মাসের চাঁদ উদিত হলেই তিনি ফরিয়াদ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শা’বান, ওয়া বাল্লিগনা শাহগরা রমাদ্বান’- অর্থাৎ হে আল্লাহ্ রজব ও শাবান মাসে আমাদের জন্য বরকত দান করো, আর এ ধারায় আমাদেরকে মাহে রমযান অবধি পৌঁছে দিও। মাহে রমযান রোযার মাস। মাসভর রোযা রাখা ফরয। সুরা বাকারার ১৮৩ ও ১৮৫ তম আয়াতে এ নির্দেশনা বিদ্যমান। হযরত আবু হুরায়রা (রাদি.) থেকে বর্ণিত, হুযূর আকরাম (দ.) ইরশাদ করেন, মাহে রমযান‘র আগমন হল, এটি বরকতময় মাস। আল্লাহ তা’লা এর রোযা তোমাদের ওপর ফরয করেছেন। এ মাসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, শয়তানকে বেড়ী লাগানো হয়। এ মাসের মধ্যে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি এ মাসের ফযীলত থেকে বঞ্চিত থাকবে, সে বাস্তবিকই হতভাগা। (আহমদ, নাসাঈ) অসংখ্য ফযীলতে ভরপুর এক মহান মাস আমাদের মাঝে উপসি’ত হল, রোযা, তেলাওয়াত, তারাভীহ্ ইত্যাদি ইবাদত সযত্নে পালন করার পাশাপাশি আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশনা পরিপন’ী সকল মন্দ কাজকে পরিহার করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাই হবে এ মাসকে বরণ করার সত্যিকার প্রয়াস।
লেখক : আরবী প্রভাষক, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা। খতিব : হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (র.) মাজার জামে মসজিদ।

সর্বশেষ সংবাদ