পতেঙ্গা ও পারকি সৈকতে শীঘ্রই হোটেল-মোটেল সহ আধুনিক পর্যটন জোন

পোস্ট করা হয়েছে 12/02/2016-09:11am:    পতেঙ্গা ও পারকি সৈকতকে ঘিরে পর্যটন জোন গড়ে তোলার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় তিনি এ কথা জানান। জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হোসেন, আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার (ট্যুরিস্ট পুলিশ) নওরোজ হাসান তালুকদার, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি, পতেঙ্গা সৈকত দোকান মালিক সমিতির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক জানান, হোটেল-মোটেল নির্মাণ ও পর্যটকদের সুবিধা সম্বলিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পতেঙ্গা বিচ এলাকায় ৫ একর এবং পারকি বিচ এলাকায় ৩৮.০২ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। আগামী ২ মাসের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হবে। জেলা প্রশাসক আরো জানান, পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সহযোগিতায় ডুবুরি ইউনিট স্থাপন করা হবে। আর সিডিএ’র সহযোগিতায় পতেঙ্গা সৈকত ব্যবসায়ীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনর্বাসন করা হবে। বিচ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য সেবক নিয়োগ করা হবে। নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হবে ট্যুরিস্ট পুলিশ ক্যাম্প। বিচের গেজেটভুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । আর পারকি বিচ এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সিঙ্গেল ফেইজ হতে ত্রি-ফেইজে উন্নীতকরণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বৈঠকে বলেন- পারকি বিচ এলাকার কানেক্টিং রোড এর ৫.৪৫ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ শেষে এ দু’টি সী-বিচের আশপাশে পর্যটকদের জন্য ফাইভ স্টার সুবিধা সম্বলিত হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও মার্কেট গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। এদিকে, সিইউএফএল থেকে পারকি বিচ পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হচ্ছে এ মাসেই। সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি নির্মাণ ও সম্প্রসারণে ব্যয় হবে প্রায় কোটি টাকা (৯৯ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৯ টাকা)। যার পুরোটাই অর্থায়ন করছে বিশ্ব ব্যাংক। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। চূড়ান্ত করা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও। এ তথ্য নিশ্চিত করে চলতি মাসের শেষ কিংবা আগামী মাসের শুরুতেই সড়কটির কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন। আর কাজ শুরুর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যেই সড়কের সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ আগামী মে মাসের মধ্যেই (বর্ষা শুরুর আগেই) প্রকল্পের শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হবে। এমনটাই দাবি করেছেন এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী। অন্যদিকে, পারকি বিচকে ঘিরে পর্যটন জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে অনুমোদন পেয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ এবং নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার উপসচিব মঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ নির্দেশনা দেয়া হয়। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাঠানো চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। পরে তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পেশ করে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ। যা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন বলে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের উপসচিব মঈন উল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন- পারকি বিচকে পর্যটন জোন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রস্তাবটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের একটি চিঠি আমরা হাতে পেয়েছি। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আওতায় এরই মধ্যে নানামুখী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজও শুরু হয়ে গেছে। এ সৈকতকে ঘিরে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সৈকতটি আধুনিক পর্যটন জোনে পরিণত হবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। শহরের খুব নিকটে অবস্থান হওয়ায় এটি খুবই জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশা করি। তিনি জানান, পল্লী বিদ্যুতের তত্ত্বাবধানে এরই মধ্যে ওই এলাকায় বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে সিইউএফএল থেকে বিচ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছে। তাছাড়া এ পর্যটন জোনের জন্য ৩৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। যা শীঘ্রই শুরু হবে। পর্যটন কর্পোরেশন এ বিষয়ে আমাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। জমি অধিগ্রহন শেষ হলেই সেখানে হোটেল-মোটেল নির্মাণের কাজ শুরু করবে পর্যটন কর্পোরেশন। আর নিরাপত্তার জন্য বিচে একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন- সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। পাশাপাশি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির একটি অফিসও স্থাপন করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ
মজুতদার, সিন্ডিকেট এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র- কামরুল হাসান বাদল কবিও সাংবাদিক আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক ধর্মঘটের নামে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবেন না: সেতুমন্ত্রী আগামী জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম নগরীতে নামছে ১০০ শীতাতপ বাস চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি,প্রাইভেটকার চলাচলেও বাধা খেলাধূলা ছেলে-মেয়েদের মানসিক শক্তি জোগায়: প্রধানমন্ত্রী রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড দেশে চাল পর্যাপ্ত মজুদ আছে,দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা-খাদ্যমন্ত্রী মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ