শীর্ষ সংবাদ

মজুতদার, সিন্ডিকেট এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র- কামরুল হাসান বাদল কবিও সাংবাদিক

১। সদ্য স্বাধীন দেশ। আমার তখন কিশোরকাল। দেয়ালে হাতে লেখা পোস্টারের একটি স্লোগান খুব মনোযোগ কাড়তো। তাতে লেখা, কালোবাজারি-মজুতদার হুঁশিয়ার-সাবধান। কালোবাজারির অর্থ সে সময় বুঝতাম না। মজুতদারের অর্থও বুঝতাম না। বড়দের কাছে জানতে চাইলে তারা বুঝিয়ে বলতেন। এখন অবশ্য কালোবাজারি কী আর মজুতদাররা কী কী করতে পারেন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। মজুত করা খারাপ কিছু নয়। প্রতিটি পরিবারই কোনো না কোনো কিছু মজুত করে। সামান্য কৃষক সারাবছরের খাদ্য ধান গোলায় মজুত করে। শুষ্ক অনেক খাদ্যও মজুত করে রাখা হয়। সরকারও অনেক ধরনের খাদ্য মজুত করে রাখে আপদকালীন প্রয়োজনে। অনেক ব্যবসায়ীও পণ্য মজুত করেন। মৌসুমের সময় সস্তায় কিনে মজুত করেন পরে তা বেশি দামে বিক্রি করার লক্ষ্যে। এমন মজুত নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। এটিই নিয়ম। মজুত কখন ক্ষতিকর হয়-তা বিশদ ব্যাখ্যা করা বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য প্রয়োজন বলে মনে করি না। বিশেষ করে এই সময়ে, যখন আমরা সবাই পেঁয়াজ নিয়ে মহা বিড়ম্বনায় আছি। মজুত যখন কোনো সরকার পতনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, মজুত যখন মানুষকে জিম্মি করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার লক্ষ্য হয়ে ওঠে তখন মজুত আইনত অপরাধ এবং মজুতদার অপরাধী হিসেবে সমাজ ও রাষ্ট্রে চিহ্নিত হয়। আজকাল ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটির বেশ প্রচলন হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালোবাজারি, মজুতদারি ইত্যাদি হচ্ছে। এইসব সিন্ডিকেটে অনেক সময় মন্ত্রী-এমপি, সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা, সরকারি বড় কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকে জড়িত থাকেন বলে শোনা যায়। ফলে এ ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে সরকারের। এরা অধিক ক্ষমতাশালী হলে এবং তাদের স্বার্থহানির আশঙ্কা দেখলে অনেক সময় সরকার পতনের মতো পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে। এই মুল্লুকে এর নজির আছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে এমন একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। সময়টি তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে। অবিভক্ত বাংলায় তখন মুসলিম লীগের প্রাদেশিক সরকার। খাজা নাজিমউদ্দিন মুখ্যমন্ত্রী। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি সিভিল সাপ্লাই মন্ত্রী। মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রায় প্রতিষ্ঠার পথে। সে সময়ের কথা বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘এই সময় বাংলায় মুসলিম লীগ সরকারের পতন হয়। গভর্নর শাসনক্ষমতা নিজের হাতে নেন। শহীদ সাহেব দেখলেন যুদ্ধের সময় অধিক লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা কালোবাজারে কাপড় বিক্রি করার জন্য গুদামজাত করতে শুরু করেছে। একদিকে খাদ্য সমস্যা ভয়াবহ। শহীদ সাহেব রাতদিন পরিশ্রম করছেন। আর অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শুরু করেছে। শহীদ সাহেব সমস্ত কর্মচারীদের হুকুম দিলেন, মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের আড্ডাখানা বড়বাজার ঘেরাও করতে। সমস্ত বড়বাজার ঘেরাও করা হলো। হাজার হাজার গজ কাপড় ধরা পড়ল। এমনকি দালানগুলোর নিচেও এক একটা গুদাম করে রেখেছিল তাও বাদ গেল না। এমনি করে সমস্ত শহরে চাউল গুদামজাতকারীদের ধরবার জন্য একইভাবে তল্লাশি শুরু করলেন। মাড়োয়ারিরাও কম পাত্র ছিল না। কয়েক লক্ষ টাকা তুলে লীগ মন্ত্রিসভাকে খতম করার জন্য কয়েকজন এমএলএকে কিনে ফেলল। ফলে এক ভোটে লীগ মন্ত্রিত্বকে পরাজয় বরণ করতে হল। যদিও এটা অনাস্থা প্রস্তাব ছিল না। খাজা নাজিমউদ্দিন সাহেব চ্যালেঞ্জ দিলেন এই কথা বলে যে, আগামীকাল আমি আস্থা ভোট নেব। যদি আস্থা ভোট না পাই তবে পদত্যাগ করব। স্পিকার ছিলেন নওশের আলী সাহেব। পরের দিন তিনি রুলিং দিলেন, মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়ে গেছে। আস্থা ভোটের দরকার নাই’।
‘আমি কিছু সংখ্যক ছাত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। খবর যখন রটে গেল লীগ মন্ত্রিত্ব নেই তখন দেখি টুপি ও পাগড়িপরা মাড়োয়ারিরা বাজি পোড়াতে শুরু করেছে এবং হৈ চৈ আরম্ভ করেছে। সহ্য করতে না পেরে আরও অনেক কর্মী ছিল, মাড়োয়ারিদের খুব মারপিট করলাম। ওরা ভাগতে শুরু করল।’
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই থেকে এই অংশটুকু উদ্ধৃতি দিলাম কয়েকটি কারণ বোঝাতে। প্রথমত মজুতদারদের সিন্ডিকেট কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং নিজেদের স্বার্থরক্ষার খাতিরে কীভাবে সরকারের পতন ঘটাতে পারে তার নজির তুলে ধরতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, এ ধরনের সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা কীভাবে হয় তা বোঝাতে। সেসময় প্রাদেশিক সরকারের পতনের জন্য মাড়োয়ারি মজুতদার সিন্ডিকেট এমএলএদের (মেম্বার অব লোয়ার অ্যাসেম্বলি বা প্রাদেশিক গণপরিষদের সদস্য) টাকা দিয়ে কিনে নেয় এবং এমএলএরা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিয়ে সরকারের পতন ঘটায়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিচক্ষণ ও দূরদর্শি রাজনীতিক। এ ধরনের ঘটনা থেকেই তিনি অভিজ্ঞতা সঞ্চার করেছিলেন। যেমন, স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়নের সময় তিনি একটি বিষয়ে খুব সতর্ক ছিলেন। কারণ তিনি এদেশের রাজনীতিবিদদের খুব ভালো করেই চিনতেন। আমি যে বই এবং যে অংশ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি সেখানেই তাঁর সে তিক্ত অভিজ্ঞতার বয়ান আছে, এদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কীভাবে টাকার কাছে বেচাকেনা হয়ে যেতেন। সে ধরনের পরিস্থিতি পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলেও ঘটেছিল। সে তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই বঙ্গবন্ধু সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ সংযোজন করেছিলেন। যাতে সংসদ সদস্যরা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে না পারে। ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে রাজনৈতিক সুশীল সমাজে বিতর্ক থাকলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় তার প্রয়োজন আছে বলে আমি এখনো মনে করি।
সে তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি স্বাধীনতার পর দেশে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এরমধ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), ন্যায্যমূল্যের দোকান কসকর, বিআরটিসি অন্যতম। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া ক্ষমতা খর্ব করতেই টিসিবি গঠন করেছিলেন। যে প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কাজ হলো প্রয়োজনে পণ্য আমদানি করে বাজারে পণ্যের চাহিদা স্থিতিশীল রাখা। ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেট, আমদানিকারক, আড়তদারদের কারসাজিতে বাজারে কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে টিসিবির মাধ্যমে সরকার যেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে সে লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু টিসিবি গঠন করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে নানা প্রকার অব্যবস্থাপনা থাকে। পণ্যের ঘাটতি থাকে। অভাব ও দারিদ্র্য থাকে। তাই ন্যায্যমূল্যে সাধারণ মানুষ যেন পণ্য ক্রয় করতে পারে সে লক্ষ্যে তিনি ন্যায্যমূল্যের দোকান ‘কসকর’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পেঁয়াজ সংকটে পড়ে বারবার বঙ্গবন্ধু এবং তার সিদ্ধান্তগুলোর কথা মনে পড়ছে। মনে হয় তিনি ত্রিকালদর্শী ছিলেন।
পুঁজির ইতিহাস মূলত লুণ্ঠনের ইতিহাস। একচেটিয়া পুঁজির পথ রুদ্ধ করতেই বঙ্গবন্ধু সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রচলন করেছিলেন। তাতে স্বার্থহানি ঘটেছিল বাঙালি নব্য পুঁজিপতিদের। তার দাম বঙ্গবন্ধুকে প্রাণ দিয়ে পরিশোধ করতে হয়েছিল। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু যত ভাষণ দিয়েছেন তার অধিকাংশের বক্তব্যই ছিল অসাধু ব্যবসায়ী, আমলা আর দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। চল্লিশ দশকের মধ্যভাগে ছাত্রাবস্থায় তিনি যে মজুতদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের প্রতিরোধ করেছিলেন সে মজুতদার শ্রেণির চক্রান্তের শিকার তিনি দেশ স্বাধীন করে, তা পরিচালনা করতে গিয়েও হয়েছিলেন। এখন তার কন্যা শেখ হাসিনাকেও দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে একই শক্তির সঙ্গে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
২। পেঁয়াজ নিয়ে বর্তমান সরকার একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে বলা যায়। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই আওয়ামী লীগ সরকার বারবারই ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে সবসময় সতর্ক ছিল। যে কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাজার পরিস্থিতি খুব বেশি খারাপ পর্যায়ে যায়নি। এমনকি ২০১৪ সালের বিএনপি ঘোষিত লাগাতার হরতাল-অবরোধ এবং চরম পেট্রোল বোমাবাজির সময়েও দেশের কোথাও পণ্য সরবরাহে ঘাটতি হতে দেয়নি। দাম বৃদ্ধি করার সুযোগ পায়নি ব্যবসায়ীরা। তবে কয়েক বছর পরপর পেঁয়াজ নিয়ে এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে। কাজেই এ বিষয়ে আগে থেকে বা শুরু থেকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল।
পেঁয়াজ যেহেতু একটি পচনশীল পণ্য কাজেই এটি বেশিদিন মজুত করে রাখাও সম্ভব নয়। অন্যদিকে চাহিদার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পেঁয়াজ যেহেতু আমদানি করতে হয় সেহেতু আমদানির জন্য শুধু ভারতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে রফতানিকারক অন্য দেশের খোঁজ রাখা দরকার। এবং সে সাথে দেশে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার ছিল। ভারত থেকে গরু আমদানি এক প্রকার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশে গরু বা গবাদিপশু উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কোরবান ঈদের মতো বড় চাহিদার যোগান এখন দেশের খামারিরাই দিচ্ছে গত দু-তিন বছর ধরে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মিঠাপানির মাছ, সবজি, ফল ইত্যাদি উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। কাজেই উন্নতমানের জাত, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং উৎপাদনের পর সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে চাহিদার পুরোটাই পেঁয়াজ উৎপাদন করা সম্ভব বাংলাদেশে। তবে পেঁয়াজের জন্য আলাদা কোল্ড স্টোরেজের প্রয়োজন। আলুর সঙ্গে তা রাখা যাবে না। পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজে আর্দ্রতা লাগবে ৬০%। তাপমাত্রা লাগবে ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি। আলুর ক্ষেত্রে এই মাত্রাটা ভিন্ন থাকে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় আলুর স্টোরেজের কিছু কিছু অংশকে এই ব্যবস্থায় এনে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় ও বোঝাপড়ারও দরকার আছে। দেশের উৎপাদক তথা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়েও সরকারের নজরদারি দরকার। দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের বা যে কোনো পণ্যের বাজার নিশ্চিত করার জন্য কোন সময়ে সে পণ্যের আমদানি সচল থাকবে, কোন সময়ে সাময়িক বন্ধ থাকবে, কোন সময়ে আমদানি শুল্ক বেশি থাকবে, কোন সময়ে আমদানি শুল্ক তুলে দিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে হবে সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন বর্তমানে সরকার পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক তুলে নিয়েছে। যে কোনোভাবে সরকার দেশে পেঁয়াজ আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে। মনে রাখতে হবে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আমাদের দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসবে। সে সময় শুল্কমুক্ত পেঁয়াজের কাছে দেশি পেঁয়াজ যেন বাজার না হারায়, কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
অনেক সময় কাগজে কলমে হিসাব ঠিক থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় দেশে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। এরমধ্যে ১৪ থেকে ১৬ হাজার মেট্রিক টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকিটুকু আমদানি করতে হয়। ধরে নিলাম বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হিসাবটি ঠিক রেখেছে। অর্থাৎ তারা হিসাব করে তথ্য যাচাই করে দেখেন যে, উৎপাদিত পেঁয়াজের সঙ্গে আর কত পরিমাণ আমদানি করতে হবে। হয়ত দেখা গেল যে আমদানির পরিমাণও ঠিক আছে। অর্থাৎ চাহিদার সমান পেঁয়াজ দেশে মজুত আছে। কিন্তু বাস্তবে এমন সুস্থ পরিস্থিতি নাও থাকতে পারে। কারণ ব্যবসায়ীদের অসাধুতা বা অতি মুনাফার লক্ষ্য। যেমন ধরুন, আমার কাছে পেঁয়াজ আছে ৫ কেজি। আমি তা ২৫ টাকা ধরে বিক্রি করলে পাব ১২৫ টাকা। প্রতি কেজিতে ৫ টাকা করে ধরলে লাভ হবে ২৫ টাকা। এখন আমি সে ৫ কেজি পেঁয়াজের মধ্যে তিন কেজি পচিয়ে ফেললাম বা ফেলে দিলাম কর্ণফুলীতে। বাকি দু কেজি বিক্রি করলাম ২০০ টাকা দরে। এখন কত পার্সেন্ট লাভ হলো। অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অপকর্মটি করতে পারে এবং রাতারাতি কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যেতে পারে। অতীতে এভাবেই অনেকে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন। এবং ভবিষ্যতেও হবেন।
সবসময় পুলিশ, ভ্রাম্যমাণ আদালত ইত্যাদি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তার নজির ১/১১ সরকারের সময়ে অস্থিতিশীল চালের বাজারের চিত্র থেকে বুঝেছি। এবার পেঁয়াজের বেলায়ও দেখেছি। বিষয়টি অনেকটা নির্ভর করে ব্যবসায়ীদের আন্তরিকতা ও ব্যবসায়িক সততার ওপর। বিশ্বে খাদ্যপণ্য ও ওষুধের ব্যবসা যারা করেন তারা ন্যূনতম একটি নীতি মান্য করেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশে ৯২ শতাংশ ঈমানদার ও প্রবল ধর্মীয় অনুভূতিসম্পন্ন মুসলমানের দেশে তার বিন্দুমাত্র বালাই নেই।
পুনশ্চ- পরিবহন আইন কার্যকর করার পরদিনই দেশের অনেক জেলায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছে। তাতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। এটি তাদের পুরোনো কৌশল। তবে এবার সরকারকে আইন প্রয়োগ ও তা মানায় বাধ্য করতে হবে। কয়েক লাখ পরিবহন শ্রমিকের গোয়ার্তুমির কাছে ১৬ কোটি মানুষ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। প্রথমদিন থেকেই আইনটির কঠোর প্রয়োগ বাঞ্ছনীয় ছিল। কিন্তু দেশের যোগাযোগ মন্ত্রী এক সপ্তাহের জন্য আইনটি শিথিল করেছিলেন। আইন প্রণীত হয়ে কার্যকর করার পর তা শিথিল করার এখতিয়ার করো আছে কি না সে প্রশ্ন রেখে বলতে চাই, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে হলে আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আবারও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে হয়। ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া আধিপত্য বা মনোপলিনেস খর্ব করতে তিনি যেভাবে টিসিবি গঠন করেছিলেন সেভাবে গড়ে তুলেছিলেন বিআরটিসি। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অবহেলা আর বেসরকারি বাস মালিকপক্ষের চক্রান্তে প্রতিষ্ঠানটিকে রুগ্ন করে ফেলা হয়েছে। এটি সক্রিয় ও সক্ষম থাকলে সড়ক পরিবহন সেক্টরে মাস্তানি, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য অনেক কমে যেত।
বিজ্ঞানী নিউটনকে স্মরণ করে লেখাটি শেষ করছি। নিউটনের তৃতীয় সূত্র মতে, ‘প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে’। শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান একটি ক্রিয়া। কাজেই তার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া সমাজে দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। জাতিকে, (যারা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চান) এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পেঁয়াজের পর এবার লবণ নিয়ে খেলা শুরু হয়েছে। লেখক : কবি ও সাংবাদিক

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জাকেরুল ইসলাম ঢাকা ঃ আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবস উদযাপিত হচ্ছে। ভোর থেকেই শুরু হয়েছে দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি। ।দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্ম উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ উপলক্ষ্যে দেশের সব সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোতে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিন বাহিনীর প্রধানরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানাবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ৯ সেনা, ২ নৌ এবং ৩ বিমানবাহিনী সদস্যকে ২০১৮-২০১৯ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করবেন। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজ বিকাল ৪টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক

নতুন সড়ক আইন সংশোধনসহ ৯ দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে থাকা বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকে করেন।বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসভবনে এ বৈঠক শুরু হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) শরীফ মাহমুদ অপু এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বৈঠকে বাস, ট্রাক ও পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক সমিতির নেতারা উপস্থিত হন।পরিবহন ধর্মঘটের তৃতীয় দিনেও দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। এর ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোথাও কোথাও চালকরা যান নিয়ে বের হলেও অন্য পরিবহন শ্রমিকদের ‘রোষে’ পড়তে হয়। এর আগে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকেও আইন কার্যকর না করার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। এরপর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড কার্যালয়ে ঐক্য পরিষদের নেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে পণ্য পরিবহনে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেন।

ধর্মঘটের নামে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবেন না: সেতুমন্ত্রী

ধর্মঘটের নামে জনগণকে দুর্ভোগে না ফেলতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেন, রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য, সড়ক পরিবহন আইন করা হয়েছে, কাউকে শাস্তি দেয়ার জন্য নয়। পেঁয়াজের ইস্যুতে ব্যর্থ হয়ে এবার সর্বশেষ সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানান জনগণকে শাস্তি দিবেন না, দুর্ভোগে ফেলবেন না। বুধবার ওবায়দুল কাদের নোয়াখলীর শহীদ ভুলু ষ্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহবান জানান। বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে মন্ত্রী বলেন, নেতিবাচক রাজনীতির কারণে, তারা সব ঘাঁটি হারাচ্ছে। নির্বাচনে এবং আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, বিএনপি দেশের জনগণের সাড়া না পেয়ে, বিদেশীদের কাছে নালিশ করছে। তারা বিদেশে ঘুরে ঘুরে আনুগত্য ভিক্ষা করছে। আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। উস্কানি দিয়ে লাভ হবে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতিতে ঝলক দেখিয়ে সফল হওয়া যায় না। রাজনীতিতে মডারেট ব্যক্তিরাই সফল হবে। শেখ হাসিনার সততা, পরিশ্রম ও কমিটমেন্ট তার সাফল্যের চাবিকাটি। বিশ্বের ১০ জন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে তিনি একজন।এ দেশে সবচেয়ে সাহসী, বিচক্ষণ, প্রশাসক, সফল কূটনীতিক ও সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা শেখ হাসিনা। ত্যাগ এবং পরিশ্রম করলে রাজনীতিতে স্বীকৃতি পাওয়া যায়। বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে প্রবৃদ্ধিতে সবার শীর্ষে রয়েছে। আমরা গরীব দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। এগুলো সম্ভব হয়েছে দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারণেই। এর আগে ওবায়দুল কাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।সম্মেলন শেষে ওবায়দুল কাদের আগামী তিন বছরের জন্য পুনরায় অধ্যক্ষ এএইচএম খায়রুল আনম সেলিমকে সভাপতি এবং একরামুল করিম চৌধুরী এমপিকে সাধারণ সম্পাদক করে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষনা করেন।

আগামী জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম নগরীতে নামছে ১০০ শীতাতপ বাস

আগামী জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম নগরীর তিনটি রুটে ১০০ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস নামানো হচ্ছে।আজ বুধবার থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) ৫২তম সাধারণ সভায় এ তথ্য জানান চট্রগ্রামের সিটি কর্পোশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। মেয়র বলেন, নগরীতে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য এই বাস চালু করবে সিসিসি। জানুয়ারিতে তিনটি সড়কে এই বাসগুলো চলাচল করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে তিন রুটে মোট ১০০টি এসি বাস রাস্তায় নামানো হবে। নগরীর কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা, ভাটিয়ারী থেকে লালদিঘী এবং নিউ মার্কেট থেকে ফতেয়াবাদ, এই তিন রুটে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হবে। আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে এগুলো চালানো হবে।” একেকটি রুটের বাসের একেক রং হবে জানিয়ে তিনি জানান, “এতে বিশৃঙ্খলা দূর হবে। নগরীর সৌন্দর্য অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।” এই প্রকল্পের আওতায় ২০০ বাস চালুর পরিকল্পনা জানিয়ে মেয়র বলেন, চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে বাসগুলো দেশে চলে আসবে।বিজয় দিবস ২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের গেজেটভুক্ত ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সিসিসি সংবর্ধনা দেবে বলে সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সিসিসি সচিব আবু শাহেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় ও সিটি মেয়রের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় সিসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস, সিটি মেয়রের একান্তসচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরীসহ বিভাগীগের প্রধান ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি,প্রাইভেটকার চলাচলেও বাধা

নতুন সড়ক পরিবহন আইনের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামেও পরিবহন ধর্মঘট করছেন শ্রমিকরা। ধর্মঘটের জন্য বিভিন্ন সড়কে পণ্যবাহী গাড়ি ও গণপরিবহন চলাচল করছে না। পাশাপাশি প্রাইভেটকার চলাচলেও বাধা দিচ্ছে পরিবহন শ্রমিকরা। আজ বুধবার থেকে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান চালাচ্ছেন না চালক ও শ্রমিকরা। এছাড়া বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবহন শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা রাস্তার অন্যান্য ছোট যানবাহনও চলতে দিচ্ছে না। চট্টগ্রাম শহরের মাদারবাড়ী, কদমতলী, নিমতলাসহ বিভিন্ন সড়কের আশপাশে, ট্রাক টার্মিনালে অলস বসে আছে পণ্যবাহী গাড়ি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধে অলংকার মোড় থেকে ওই রুটের সকল যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর, বড়পোল, ঈদগাঁও, মনসুরাবাদ, পোর্ট কানেক্টিং রোড এলাকায় শ্রমিকরা প্রাইভেট কার, টেম্পো, সিএনজি টেক্সি, জরুরী পণ্য পরিবহনের ছোট ভ্যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। গাড়ি না পেয়ে হেঁটে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যেতে দেখা গেছে যাত্রীদের।

খেলাধূলা ছেলে-মেয়েদের মানসিক শক্তি জোগায়: প্রধানমন্ত্রী

তরুণ প্রজন্মের শারিরীক ও মানসিক বিকাশে খেলাধূলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । সরকার ক্রিকেট এবং ফুটবলের পাশাপাশি টেনিসসহ অন্যান্য খেলার প্রসারেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি একইসঙ্গে ক্রিকেট এবং ফুটবলের পাশাপাশি টেনিস অনুশীলনের জন্যেও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রিকেট, ফুটবল নিয়েই আমরা সবসময় মেতে থাকি। তবে, টেনিসও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর খেলাধূলার প্রতি আমরা সবসময়ই গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ, খেলাধূলা আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে মানসিক শক্তি জোগায়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ অপরাহ্নে গণভবনে ‘শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টেনিস টুর্নামেন্ট-২০১৯-এ অংশগ্রগণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং কূটনিতিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে একথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ক্রিকেট এবং ফুটবল জনপ্রিয় খেলা হলেও এখন মানুষ টেনিসের সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছে। আর এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরে তরুণ প্রজন্ম আরো বেশি করে টেনিসের প্রতি আকৃষ্ট হবে বলে আমি মনে করি। টেনিস কোর্ট তৈরী এবং প্রশিক্ষণ প্রদানসহ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্যদিয়ে এই খেলাটির প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ছেলে-মেয়েদের এই খেলায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন এই খেলাধূলায় এগিয়ে আসে এবং তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খেলাধূলাকে আরো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি এইজন্য যে, তরুণ প্রজন্ম যত বেশি অংশ নেবে ততটাই তাদের মন মানসিকতা আরো ভাল হবে। শারিরীকভাবে সুস্থ হবে এবং নিজেদেরকে আরো বেশি তৈরী করতে পারবে। ’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলায় বিদেশিরা যখন অংশগ্রহণ করে তখন একে অপরের সঙ্গে ওঠা-বসার মাধ্যমে পরস্পরকে জানার একটি সুযোগ পাওয়া যায়। কাজেই সেইদিক থেকে আমি মনে করি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেব, যেটা খুব জরুরী। আমরা টেনিসের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেব।’ প্রধানমন্ত্রী খুলনায় শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টেনিস টুর্নামেন্ট-২০১৯’র মত একটি টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনে সকল আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষকরে এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং এক সময়কার দেশ বরেন্য ফুটবলার এবং বাফুফে সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্য অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় প্রধানমন্ত্রী সেখানে যেতে না পারার কারণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বিজয়ী এবং বিজিতসহ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১৯টি দেশের ২১টি ক্লাবের সকল সদস্যদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে এই টুর্নামেন্টটিকে গুরুত্ব প্রদান করে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনারদের প্রতিও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতার হোসেন প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনসি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহ্সান রাসেল এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী এবং শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল উপস্থিত ছিলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সহযোগিতায় ১৩ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনার শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক টেনিস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ‘শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টেনিস টুর্নামেন্ট-২০১৯’র আয়োজন করে খুলনা জেলা প্রশাসন। বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে এবং ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট কালরাতে পরিবারের অন্যসদস্যদের সঙ্গে ঘাতকের নির্মম বুলেটের শিকার। ১০ বছর বয়সের শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি গত ১৩ নভেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ভূটান, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, তিউনেশিয়া, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, ক্যামেরুন এবং বাংলাদেশের পুরুষ ও মহিলাসহ মোট ৭৪জন প্রতিযোগী এর তিনটি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রতিযোগিতার পুরুষ এককে ভারতের নিতিন কুমার সিনহা এবং মহিলা এককে মঙ্গোলিয়ার মারালোগো চগসোমজাত শিরোপা জয় করেন। আর পুরুষ দ্বৈতে থাইল্যান্ডের চায়ানন কেউসুতো ও উনশায়াট্রং চারোয়েন চাইকুল জুটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

টিকাটুলিতে অবস্থিত রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতের ঘটনা ঘটে।এতে অগ্নিকান্ড নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানা গেছে।আজ ধবার (২০ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। সূত্রে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোলরুমের অপারেটর শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বিকাল ৫টা ১৫মিনিটে ওই মার্কেটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে পর্যায়ক্রমে ইউনিট ঘটনাস্থলে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। বিস্তারিত আসছে...

দেশে চাল পর্যাপ্ত মজুদ আছে,দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা-খাদ্যমন্ত্রী

দেশে চাল রপ্তানির করার মতো পর্যাপ্ত মজুদ আছে, মূল্যবৃদ্ধির অপচেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। খাদ্যমন্ত্রী জানান ,দেশে চালের মজুদের কোনো ঘাটতি নেই, চাল আমদানীর কোনো প্রয়োজন নেই, বরং আমরা চাল রপ্তানীর কথা ভাবছি, তাই চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। কৃত্রিমভাবে যারা চালের দাম বাড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। তিনি আরও জানান, সরকারি গুদামে এখন চাল মজুদ আছে ১১ লাখ ১২ হাজার টন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া গম মজুদ আছে চার লাখের মত। চাল ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,এক সপ্তাহে চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ ছিল না, যদিও বাড়ানো হয়েছে, তাই সামনের দিনে এটা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কিছু অসাধু চাল ব্যবসায়ী খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃ্ষ্টি করেছে, কারা এটা করছে এটা মনিটর করার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া খুচরা বাজারে চালের দাম যাতে কৃত্রিমভাবে না বাড়ানো হয়, সে জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষনের কাছে তাদের নিজস্ব মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বৈঠকে। বৈঠকে চাল আড়তদাররা চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করলেও খাদ্যমন্ত্রী তা মানতে নারাজ, তিনি ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব অজুহাত করে চালের দাম বাড়ানো যাবে না। এছাড়া পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চালের দাম বাড়বে না জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দশ দিন ধর্মঘট হলেও ঢাকার চালের সঙ্কট হবে না, সে পরিমাণ মজুদ আছে চাল।

মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নারী মুক্তি ও মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত্ কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ । আজ বিভিন্ন সংগঠন নানান কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে জাতি স্মরণ করেছে। গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম এই ব্যক্তিত্ব একাধারে কবি, লেখিকা, শিক্ষিকা ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের এ দিনে বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ আবদুল বারী ও মা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।৮৯ বছর বয়সে ২০০০ সালের ২০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।। তিনি ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠেন এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন। ১৯১৮ সালে তিনি মায়ের সঙ্গে কলকাতায় যান, সেখানে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তার দেখা হয়। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন, নারী মুক্তির আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। বিংশ শতাব্দীর বাংলার নারী জাগরণ ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে কবি সুফিয়া কামালের নাম নিবিড়ভাবে জড়িত। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা না পেলেও কবি সুফিয়া কামাল তার বড় মামার বিশাল লাইব্রেরিতে মায়ের সাহায্য নিয়ে পড়াশোনা করতেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে বরিশাল থেকে প্রকাশিত ‘তরুণ’ পত্রিকায় ‘সৈনিক বধূ’ নামের গল্প প্রকাশের মাধ্যমে তার সাহিত্য জগতে প্রবেশ ঘটে। বরিশালের মাতৃমঙ্গল সেবাদানের মধ্য দিয়ে সুফিয়া কামালের সমাজসেবী কর্মজীবনের শুরু। তিনি ছিলেন একজন আপসহীন নেত্রী। ১৯২৫ সালে অবিভক্ত ভারতে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনের সময় গান্ধীজি বরিশাল এলে নিজে চরকায় সুতা কেটে গান্ধীজির হাতে তুলে দেন। ইন্ডিয়ান উইমেন্স ফেডারেশনে প্রথম মুসলিম মহিলা সদস্য মনোনীত হন। বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে তিনি কাজ করেন। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় কলকাতায় লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকায় মহিলাদের সংগঠিত করে মিছিলের আয়োজন ও মিছিলে নেতৃত্বসহ সামগ্রিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৫৪ সালে ওয়ারি মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা এবং এর প্রথম সভানেত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৬০ সালে তার নেতৃত্বে ঢাকায় ‘বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত স্মৃতি কমিটি’ গঠন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রীনিবাসের নাম ‘রোকেয়া হল’ করার প্রস্তাব পেশ করেন। ১৯৭০ সালে মহিলা পরিষদ গঠন এবং সভানেত্রীর দায়িত্ব শুরু করেন। ১৯৭১ সালে তিনি ঢাকা শহরেই অবরুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেন। সুফিয়া কামাল একজন মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব। এ দেশের অবহেলিত, নির্যাতিত, শোষিত নারীসমাজের জন্য তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। নারীদের সাহসী, সংগ্রামী ও আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। কবি সুফিয়া কামালের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হল সাঁঝের মায়া, একাত্তরের ডায়েরি, মায়া কাজল, উদাত্ত পৃথিবী, ইতল বিতল, কেয়ার কাঁটা, সোভিয়েত দিনগুলো ইত্যাদি। বেগম সুফিয়া কামাল জীবনে অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, রাশিয়ার লেনিন স্বর্ণপদক, একুশে পদক, নাসিরুদ্দীন পদক, শেরেবাংলা জাতীয় সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ৬৯টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আজ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে স্মরণসভা করেছে।

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী সমাজকর্মী, স্কাউট আন্দোলন এর কর্ণধার ও আলোর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শিশু কিশোর সংগঠন এর উপদেষ্টা আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, প্রিয় স্যারের প্রতি আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, বলেন আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

বিশ্বরেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের তরুণ তারকা বিশ্বরেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের তরুণ তারকা ক্রিকেটার তাওহিদ হৃদয়। শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হৃদয় আজও সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। যুব ক্রিকেট ইতিহাসে অতীতে হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির রেকর্ড কেউই গড়তে পারেননি। শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হৃদয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন আজও (১৯ নভেম্বর)। আর এতেই হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখান এই তরুণ তুর্কি। যুব ক্রিকেট ইতিহাসে যে রেকর্ড নেই আর কারোরই। এদিকে হৃদয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়ার দিনে ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচেও সহজ জয় পেয়েছে টাইগার যুবারা। ৫০ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে। আর এ জয়ে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিলো বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে পরিত্যক্ত হয়। পরের চার ম্যাচের প্রতিটিই জিতেছেন হৃদয়-আকবর আলিরা। যদিও মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের শুরুটা হয়নি মনের মতো। প্রথম ওভারেই সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া প্রিতম কুমার আউট হওয়ার পর বেশিদূর এগুতে পারেননি অপর ওপেনার সাজ্জাদ হোসেনও (২১)। তবে এরপরই শুরু হয় হৃদয়ের ইতিহাস রচনা। প্রান্তিক নাবিলকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে হৃদয় গড়েন দারুণ এক জুটি। তবে প্রান্তিক ৭৭ বলে ৬৫ রান করে ফিরলেও ১৮ বছর বয়সী হৃদয় ফিরেছেন ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরি পূর্ণ করেই। ১০২ বল খেলে ৩ চার ৫ ছয়ে ১১১ রানে আউট হয়েছেন বগুড়ার এই ক্রিকেটার। শেষ দিকে অভিষেক দাস ১২ বলে ২৪ করলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৩ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। পরে বড় রানের জবাব দিতে নেমে ৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। যদিও রাভিন্ডু রাসান্তা ও মোহাম্মদ শামাজ চেষ্টা করেন ঘুরে দাঁড়ানোর। তবে তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন টাইগার বোলাররা। যাতে ৪৪.৪ ওভারেই ২৩৩ রান তুলে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। যেখানে ৯২ বলে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন রাভিন্ডু। আর শামাজের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৮ বলে ৪০ রান। বাংলাদেশের হয়ে শাহিন আলম ৪৬ ও হাসান মুরাদ ৪৭ রানে দুটি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন অভিষেক দাস ও শামিম হোসেন। তবে ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন টাইগার তরুণ তুর্কি তৌহিদ হৃদয়ই। চার ম্যাচে ব্যাট করে তিন শতক আর এক অর্ধশতকে (৮২*, ১২৩*, ১১৫, ১১১) ২১৫.৫ গড়ে ৪৩১ রান। এদিকে চতুর্থ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির মাধ্যমে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আর আজকের সেঞ্চুরির মাধ্যমে যুব ক্রিকেট ইতিহাসে বিশ্বে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকার দ্বিতীয় স্থানে এখন তিনি। সর্বোচ্চ ৬ সেঞ্চুরি করে হৃদয়ের উপরে আছেন পাকিস্তানের সামি আসলাম।

সর্বশেষ সংবাদ
মজুতদার, সিন্ডিকেট এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র- কামরুল হাসান বাদল কবিও সাংবাদিক আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠক ধর্মঘটের নামে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবেন না: সেতুমন্ত্রী আগামী জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম নগরীতে নামছে ১০০ শীতাতপ বাস চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি,প্রাইভেটকার চলাচলেও বাধা খেলাধূলা ছেলে-মেয়েদের মানসিক শক্তি জোগায়: প্রধানমন্ত্রী রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড দেশে চাল পর্যাপ্ত মজুদ আছে,দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা-খাদ্যমন্ত্রী মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামালের ১০৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ