শীর্ষ সংবাদ

যে শাক উচ্চ রক্তচাপ কমাবে

স্বর্ণালী প্রিয়া ডেক্স প্রতিবেদনঃ পুষ্টি গুণে ভরপুর সজনে ডাটা তরকারি হিসেবে আমরা খেয়ে থাকলেও সজনে পাতা আমরা অনেকেই খাই না। কারণ এই পাতার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা জানি না। বৈজ্ঞানিক ভাবে বিভিন্ন সময় প্রমাণিত যে এই শাকেও প্রচুর পুষ্টি গুণ রয়েছে। তাই সজনে শাক খেলে বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই শাক খুবই উপকারি। সজনে শাক ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। এছাড়া এক কাপ সজনে শাকে প্রোটিন, ভিটামিন বি ছিক্স, ভিটামিন সি, আয়রন, রিভোফ্লাভিন, ভিটামিন এ এবং ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। পশ্চিমা বিশ্বে এই পাতা শুকনো করে পাউডার বা ক্যাসপুল আকারে সাপ্লিমেন্ট হিসিবে বিক্রি করা হয়। যেভাবে উচ্চ রক্তচাপ কমাবে সজনে পাতায় থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উচ্চ রক্তচাপ কমায় ও রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।এ কারণে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। এছাড়া সজনে শাক সংক্রমণ বা আঘাতস্থল থেকে সৃষ্ট প্রদাহজনিত জটিলতা কমায়। রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। সজনে শাক রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি’ থাকায় এই সজনে শাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সূত্র : হেলথলাইন [প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-jugantorlifestyle@gmail.com-

চন্দ্রযানের ল্যান্ডার কেন সোনায় মোড়ানো?

স্বর্ণালী প্রিয়া ডেক্স প্রতিবেদনঃভারতের চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডারটি বানানো হয়েছে সোনায় মুড়িয়ে। ল্যান্ডারটিকে এভাবে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়ার পেছনে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ। মূলত মহাকাশে গেলে যে কোন ধরনের শক্তিশালী আলো কিংবা বিকিরণের হাত থেকে ল্যান্ডারকে রক্ষা করতেই এটিকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মহাকাশে গেলে যে কোনও মহাকাশযানকেই দুই ধরনের ধকল সামলাতে হয়। মহাকাশে গেলেই তাদের পিঠে আছড়ে পড়ে সূর্যের অসম্ভব জোরালো আলো, ক্ষতিকর বিকিরণ। মহাজাগতিক রশ্মির (কসমিক রে) ঝড়, ঝাপটাও সহ্য করে টিকে থাকতে হয় এসব মহাকাশযানকে। এই মহাজাগতিক রশ্মিগুলো অসম্ভব দ্রুত গতিতে এসে তাদের গায়ে আছড়ে পড়ে বলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মহাকাশযানে থাকা যন্ত্রগুলি অসম্ভব গরম হয়ে যায়। আর সেই খুব বেশি তাপমাত্রায় যন্ত্রগুলির পক্ষে আর কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। সেগুলি বিকল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আবার আবার মহাকাশযানের যে দিকটায় সূর্যের আলো একেবারে পড়ে না, বা পড়লেও তা নেহাতই হয় যৎসামান্য, সেই দিকটার যন্ত্রগুলিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে সমস্যাটা হয় ঠিক উল্টো। মহাকাশের হাড়জমানো ঠাণ্ডায় সেই দিকটার যন্ত্রগুলি দিয়ে আর কাজ চালানো যায় না। সেগুলি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। সোনা দিয়ে মোড়ানো থাকলে সেই ধরনের ঠাণ্ডার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে মহাকাশযান। পলিমাইডের সোনার সাজ না থাকলে সেই তাপ শক্তি মহাকাশে বেরিয়ে যেত। কিন্তু পলিমাইড সেই তাপ শক্তিতে মহাকাশে বেরিয়ে আসতে দেয় না। প্রতিফলিত করে সেই বিকিরণকে যন্ত্রের দিকেই পাঠিয়ে দেয়। ফলে যন্ত্রটির তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থাতেই থাকে। তা সচল ও কর্মক্ষম থাকে। মূলত এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয় এর বহির্ভাগ। কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স’-এর কর্মকর্তা, বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তীর মতে, মহাকাশযানের ওই সোনার সাজসজ্জা দু’রকমের সমস্যা মেটাতে ভূমিকা রাখে। পলিমাইড এমন এক ধরনের পদার্থ, যার পিঠে এসে আছড়ে পড়া মহাজাগতিক রশ্মি বা বিকিরণ অথবা সূর্যরশ্মির বেশির ভাগটাই প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়। পলিমাইডের মধ্যে দিয়ে সেই রশ্মি বা বিকিরণ গলে যেতে পারে না। ফলে মহাকাশযানের পিঠে পলিমাইডের ওই ‘সোনার সাজ’ থাকলে সূর্যরশ্মি বা ক্ষতিকর বিকিরণের জন্য তা সেই দিকের যন্ত্রগুলি অসম্ভব গরম হয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। একেবারে নিখাদ সোনা যেমন আমরা গায়ে পরতে পারি না, তেমনই চন্দ্রযান-২-এর গা মোড়ানো যে সোনায়, সেটাও সত্যিকারের সোনা নয়। আবার স্যাকরার দোকানের ‘সোনার জল’ বলতে যা বোঝানো হয়, তা-ও নয়। ইসরোর ‘মিশন চন্দ্রযান-২’-এর একজন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদের মতে, ওই সোনা আসলে ‘পলিমাইড’ (যা ‘পলিঅ্যামাইড’ বা ‘পলিইমিড’ও হয়) ও অ্যালুমিনিয়ামের একটি মিশ্র ধাতু বা সংকর ধাতু (অ্যামালগ্যামেট)। যার সামনের দিকটায় রয়েছে পলিমাইড পদার্থ। আর পিছনের দিকটায় রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম। বিজ্ঞানীরা জানান, অধুনা মহাকাশচারীদের হেলমেটেও ব্যবহৃত হচ্ছে সোনা। সূর্যরশ্মি, ক্ষতিকর বিকিরণ আর মহাজাগতিক রশ্মির ঝড়, ঝাপটা থেকে মহাকাশচারীদের বাঁচাতে।

ট্যাংকার আটকে ক্ষতিপূরণ চাইল ইরান

জিব্রাল্টার প্রণালীতে আটক ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারকে ছেড়ে দিলেই চলবে না বরং একে আটক রাখার জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে জানান ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ইব্রাহিম রাইসি। ট্যাংকারকে কেবল ছেড়ে দেয়াই যথেষ্ট নয় বরং যারা এ ট্যাংকার আটকের সঙ্গে জড়িত ছিলো তারা যেন ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয় সে ব্যবস্থাও নিতে হবে। তিনি বলেন, ট্যাংকারকে দীর্ঘ সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে এবং একে ছেড়ে দেয়া হলেই যথেষ্ট হবে না বরং এ আটক সময়ের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ছাড়া, ট্যাংকার আটক করে আন্তর্জাতিক নীতি ভঙ্গের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা যেন ভবিষ্যতে এমন কাজ করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে সে জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে হবে। ৪৫ দিন আটক থাকার পরে জিব্রাল্টার বন্দর ত্যাগ করে ইরানি সুপার তেল ট্যাংকার ‘আদরিয়ান দারিয়া-১’। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার সময় এটির নাম ছিল ‘গ্রেস-১’ যা পরবর্তীতে পরিবর্তন করে তেহরান। ব্রিটিশ নৌবাহিনী গত ৪ জুলাই জিব্রাল্টার প্রণালীর আন্তর্জাতিক পানিসীমা থেকে ২১ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ইরানি ট্যাংকার ‘গ্রেস-ওয়ান’ আটক করে। ট্যাংকারটি সিরিয়ায় যাচ্ছিল বলে দাবি করে ব্রিটেন জানায়, সিরিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গিয়ে ইরানি তেল ট্যাংকার আটক করা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো জানায়, ইরানের ওপর আরোপিত আমেরিকার একতরফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ওয়াশিংটনের অনুরোধে লন্ডন ওই জল দস্যুবৃত্তি করেছে।

একনেকে তথ্য ভান্ডার সুরক্ষাসহ ১২ প্রকল্পের অনুমোদন- প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) জাতীয় ডাটা সেন্টারে রক্ষিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার সাইবার আক্রমন থেকে সুরক্ষায় ‘বিজিডি ই-জিওভি সিআইআরটি এর সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পসহ ১২ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বাকী ৩০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে।আজ মঙ্গলবাররাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান,ডাটা সেন্টারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। প্রতিদিন তথ্যের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো রয়েছে। এগুলোকে সাইবার আক্রমন থেকে সুরক্ষা দেয়া জরুরী কাজ। এজন্য আমরা বিজিডি ই-জিওভি সিআইআরটি এর সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পটি অনুমোদন করেছি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) জুলাই,২০১৯ থেকে জুন,২০২৪ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন সন্তোষজনক উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ,টাকার অংকে যার পরিমাণ ৩ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল দশমিক ৫৭ শতাংশ।ওই সময়ে ব্যয় হয়ে ছিল ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে না গিয়ে প্রকল্পের টাকা সরাসরি প্রকল্প পরিচালকের কাছে দেয়ার যে বিধান করা হয়েছিল, তার সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। এ কারণে গতবছরের জুলাই মাসের তুলনায় এবছরের জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়ন প্রায় তিনগুন বেশি হয়েছে। একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হচ্ছে-জিএনএস করস এর নেটওয়ার্ক পরিধি সম্প্রসারণ এবং টাইডাল স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্প, যার খরচ ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। থানচি-রিমকীর-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৩ কোটি টাকা। সসুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়কের শাল্লা-জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণ প্রকল্প, এর জন্য ব্যয় হবে ৭৬৯ কোটি টাকা। রাঙ্গামটি সড়ক বিভাগের অধীন পাহাড় ভুমি ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন কিলোমিটারে ড্রেনসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক আরসিসি রিটেইনিংওয়াল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া খুলনা কর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদীপুন:খনন ড্রেজিংয়ে মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। মেঘনানদীর ভাঙ্গন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি হতে ধরাভাঙ্গা এমপি বাঁধ পর্যন্ত মেঘনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি টাকা। ভূউপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নাটোর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদফতর জোরদারকরণ প্রকল্প, এর খরচ হবে ১৬০ কোটি টাকা। উপকূলীয় জনগোষ্ঠির বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

আগামী অক্টোবরে ভারতের সফরে প্রধানমন্ত্রীকে মোদীর আমন্ত্রণ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী অক্টোবরে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। মঙ্গলবার আজ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাত করতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণ পত্র হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর শুভেচ্ছাও মোদীর নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য বলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় আসীন হয়েছে। তিনি বলেন, এই সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা এবং সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে জয়শংকর বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পরস্পরের দেশ ভ্রমনের ক্ষেত্রটিকে সহজ করার বিষয়ে বিশ্বাসী ভারত। জয়শংকর এ সময় বাংলাদেশের জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে জলবিদ্যুৎ খাতে কার্যকর সহযোগিতার সম্ভবনা রয়েছে, যেহেতু, এর খরচও কম।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাঁদের ব্যবসা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মোংলা এবং পায়রা বন্দর ব্যবহার করতে পারে।’ দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রসমূহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রেল, সড়ক এবং আকাশ পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক রুট ইতোমধ্যে উন্মুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে চমৎকার সহযাগিতা বিদ্যমান রয়েছে। দু’টি দেশ নিজেদের অনেক সমস্যাই দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষ করে দু’দেশের মধ্যকার সীমান্ত সমস্যা সমাধানের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী এর সমাধান বিশ্বে উদাহারণ সৃষ্টি করেছে। ভারতের সকল রাজনৈতিক দল তাদের সংসদে সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত বিলের প্রতি সর্বসম্মতভাবে সমর্থন জানায়। ভারতকে বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই নয়া দিল্লী বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহতভাবে সমর্থন জানিয়ে আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, দিল্লীতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেনের আমন্ত্রণে তিনদিনের সরকারি সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত রাতে বাংলাদেশে আসেন। গত ৩০ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রী সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর এটাই জয় শংকরের প্রথম বাংলাদেশ সফর।

২০ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি

রোববার (১৮ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে,পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ২০ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।। পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজিদের পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের ন্যস্ত করার পাশাপাশি পৃথক এক আদেশে তাদের নতুন করে পদায়নও করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নৌপুলিশের চলতি দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশেল উপপুলিশ কমিশনার তানভীর হায়দার চৌধুরীকে পদোন্নতি দিয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার এসএম ফজলুর রহমানকে একই ইউনিটে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি কামরুল আহসানকে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশের বিশেষ শাখা এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, এসবি’র বিশেষ পুলিশ সুপার আইনুল বারীকে এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার হাবিবুর রহমান খানকে খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি, পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদকে রংপুর পুলিশ ট্রোনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি, নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনকে রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার গোলাম রউফ খানকে পিবিআইয়ের অতিরক্ত ডিআইজি, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলামকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, পুলিশ হেড কোয়ার্টাসের এআইজি শামীম বেগমকে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সালমা বেগমকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরক্ত কমিশনার ও মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদকে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, নৌপুলিশের পুলিশ সুপার এ কে এম এহসান উল্লাহকে বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার, টিঅ্যান্ডআইএম-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তবারক উল্লাহকে একই শাখায় অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলামকে নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার এস এম মোস্তাক আহমেদকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরকে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে হাজার হাজার কন্টেইনার জমেছে চট্টগ্রাম বন্দরে

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দর ও আইসিডিতে তৈরি হয়েছে কন্টেইনার জট। যা স্বাভাবিক হতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে। অনেকদিন ধরেই প্রতি ঈদে একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটে আসছে। ফলে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়ে গোটা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। তাই একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চান সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম ব্যস্ত এনসিটি গেইট। যা দিয়ে সচরাচর দিনে ১২-১৩শ কন্টেইনার খালাস হয়ে থাকে। তবে শনিবার বের হয় মাত্র ৩শ। এক সপ্তাহ আগে যা নেমে আসে ১০-১২টিতে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে বন্দর আর আইসিডি থেকে পণ্য খালাসে নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়। ফলে কন্টেইনারের ধারণক্ষমতা ছুঁয়ে যায় বন্দরে। আর ছাড়িয়ে যায় আইসিডিতে। অপরদিকে, ঈদের পরের অনেক রফতানি পণ্যও পাঠানো হয় ঈদের আগেই। ফলে তৈরি হয় কন্টেইনার জট। কেবল খালাস বা আগে পাঠানো নয়, ট্রেইলর সংকটে আইসিডিগামী প্রায় ৫ হাজার কন্টেইনার জমেছে বন্দরে। আর প্রতি ঈদেই দানা বাঁধে এমন নানা সংকট। তাই দাবি উঠেছে, কার্যকর একটি সমন্বিত সেল করে পরিস্থিতি মোকাবেলার। শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৯ হাজার কন্টেইনার ধারণক্ষমতার বিপরীতে ছিল ৪৪ হাজার। জেটি এবং বহির্নোঙ্গর মিলে জাহাজ অবস্থান করছে ২৬টি। আর বেসরকারি আইসিডিগুলো কন্টেইনার ছিল প্রায় ৬৯ হাজার। যদিও ধারণক্ষমতা ৬৫ হাজার।

আজ অভিনেতা ফারুকের জন্মদিন

কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা ফারুকের জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তবে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণের পর আর কখনোই নিজের জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করেননি এই নায়ক। এমনকি ছোটবেলা থেকেই তার জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপিত হতো না। মাত্র আট বছর বয়সে ফারুক তার মা আফজালুন্নেসাকে হারিয়েছেন। মাকে হারানোর পর থেকেই যেন ফারুক জীবন সংগ্রামে পড়ে যান। তাই জন্মদিন নিয়ে কখনোই তার বিশেষ কোনো আগ্রহ ছিল না। তবে গত বছর জন্মদিনে দু’টি টেলিভিশন শোতে উপস্থিত ছিলেন মিঞা ভাই খ্যাত নায়ক ফারুক। জানা গেলো, এবারের জন্মদিনটা দেশের বাইরে কাটছে তাঁর। গত ২০ জুলাই লন্ডনে গিয়েছেন চিত্রনায়ক ফারুক। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। আগামী ২২ আগস্ট দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

অবশেষে ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

অবশেষে ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের পক্ষে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করতে রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার নুরুল আলম নেজামীর নেতৃত্বে প্রত্যাবাসন টাস্কফোর্সের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শুরু হচ্ছে। ওইদিন ৩ হাজার ৫৪০ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে স্থল ও নৌপথে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মিয়ানমার সরকার। গত জুলাই মাসে মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থুর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের ডেলিগেশন টিম উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে। এরপরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে দেশটি। কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্তি আরআরসি শামসুদৌজা নয়ন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম সরওয়ার কামালসহ সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে করণীয় বিষয়ে ঠিক করেন। বৈঠক সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার নুরুল আলম নেজামী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ প্রস্তুত। আগামী বৃহস্পতিবারের প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছি। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তো এ কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে। সূত্র জানায়, উখিয়া-টেকনাফে ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গার বাস। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা প্রাণ রক্ষায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। শরণার্থী হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা চালানো হচ্ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু এর সফলতা আসছিল না।গত জুলাই মাসে মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থুর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেশন টিম উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন। টিমের সদস্যরা দুদিনে কয়েক দফায় ক্যাম্পগুলোতে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় অংশ নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত যেতে অনুরোধ জানান। সে সময় সফরকারী টিমের সঙ্গে যুক্ত হন আসিয়ানের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তারা ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে তোড়জোড় শুরু করে মিয়ানমার। এদিকে নিজ দেশে ফিরে যেতে অধীর আগ্রহী অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী। ইতোমধ্যে অনেক রোহিঙ্গা নিজ উদ্যোগে রাখাইনে ফিরেও গেছেন। কিন্তু ক্যাম্পগুলোতে প্রত্যাবাসনবিরোধী উগ্রপন্থী ও উসকানিদাতাদের নিবৃত করা সম্ভব না হলে ফের হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১৪

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রাইভেটকার ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ নিহত হয় । এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সূত্রজানান দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বনপুকুর এলাকায় চুনতি মিডওয়ের রেস্তোরাঁর সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কক্সবাজারগামী প্রাইভেটকার (চট্ট মেট্রো-গ ১২-৯৮০৯) এর সঙ্গে লোহাগাড়া বটতলী স্টেশনগামী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।এতে নিহত আব্দুল মান্নান (৭০) নামের বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর সন্দ্বীপ পাড়ার বাসিন্দা। আহতরা হলেন- লামা উপজেলার আজিজনগর সন্দ্বীপ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. কাউছার (২৪), মানিক মিয়া (৬০), তার স্ত্রী বিবি ফাতেমা (৫০), আব্দুল মালেক (৬০), তার মেয়ে রুম্পা (২০) ও মাসুমা (১৭), একই এলাকার নুরুল কবির (৩৪)। বাকিরা হলেন- রাঙ্গামাটি জেলার পুরাতন বস্তি এলাকার মো. ফরিদের ছেলে শাহাবউদ্দিন (২১), চকরিয়া উত্তর হারবাং আজিজনগর এলাকার মো. হারুনের ছেলে মো. লোকমান (১৮), চট্টগ্রাম লালখান বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. ইয়াছিন (৪০), তার স্ত্রী সোমা আক্তার (৩০), কাজের মেয়ে ইসমত (১০) ও অটোরিকশা যাত্রী মো. রাশেদ (২০), মো. মামুন (২২)। স্থানীয়রা জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বনপুকুর এলাকায় কক্সবাজারগামী প্রাইভেটকার (চট্ট মেট্রো-গ ১২-৯৮০৯) এর সঙ্গে লোহাগাড়া বটতলী স্টেশনগামী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা যাত্রী আব্দুল মান্নান মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন-ডঃ মামবুবুল হক ০২ নভেম্বর ২০১৮ বিকেল ৪ টায় কোরবানীগঞ্জ কায়সার নিলুফার কলেজে আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গাউসিয়া কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ মাহবুবুল হক, আলহাজ্ব আবু তৈয়ব সিদ্দিকীর সঞ্চালনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নে সভাপতি কবি, সাংবাদিক নাজিমুদ্দিন শ্যামল, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, কায়সার নিলুফার কলেজ অধ্যক্ষ শেখ মোহাম্মদ ওমর ফারুক, জনাব মোফাজ্জল হোসেন, আবু তাহের সর্দারের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন রোখসানা সুলতানা বিউটি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব আমান উল্ল্যা, সিরাজুল হক, কুতুবুদ্দিন সেলিম, শ্রী অজয় দাস, বলুয়ার দিঘী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব ফরিদ আহমদ, লামাবাজার এ এ এস সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সাইদুল আরেফীন, সেলিম রেজা, রুমকি সেন গুপ্ত, আলী নেওয়াজ মামুন, সাবের আহমেদ, কাইয়ুম রেজা প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডঃ মাহবুবুল হক বলেন, আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন, প্রাক্তন শিক্ষক প্রসুন কুমার বড়ুয়া, আব্দুল জলিল সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সাকিবের ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৬ সালের এই দিনে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সাকিব আল হাসানের। তারপর থেকে শুধুই এগিয়ে যাওয়া। সাফল্য আর গৌরবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সাকিবের ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। এক যুগ পেরিয়ে ১৩ বছরে সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার। মনে হয় এইতো সেদিন ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে ওয়ানডে অভিষেক। ৮২তম টাইগার হিসেবে এক দিনের ম্যাচে ডেব্যু হওয়া ১৯ বছরের তরুণ আজ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দলের অন্যরা যখন নিজেদের হারিয়ে খুঁজেছে সেখানে উজ্জ্বল এক নাম সাকিব আল হাসান। ব্যাক টু ব্যাক দুই সেঞ্চুরি আর পাঁচ সেঞ্চুরিতে রান ছিলো ৬০৬। সাথে ১১ উইকেট নিয়ে ছিলেন টুর্নামেন্ট সেরার দৌড়েও। এক ইনিংসে সেঞ্চুরির সাথে ফাইফার, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এক আসরে সর্বোচ্চ রান সহ ভেঙ্গেছেন একের পর এক রেকর্ড। দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে সাপোর্ট কিংবা ব্রেক থ্রু, বাংলাদেশের ভরসার নাম সাকিব। শুধুই কি বল, ব্যাটে সাপোর্ট? মাঠে নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডারের বিচক্ষণতাও যে দলের বড় পাওয়া। ১৩ বছরের বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ওয়ানডে খেলেছেন ২০৬টা। এক দিনের ম্যাচে নামের পাশে রান ৬ হাজার ৬০০ তেইশ। সাদা পোষাকে ৫৫ ম্যাচে রান ৩৮০৭ আর শর্টার ফর্মারে প্রায় দেড় হাজার। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সাকিব আল হাসানের রান ১১ হাজার ৬০১। যা দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টেস্টে তার উইকেট সংখ্যা ২০৫, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৬০ যা বাংলাদেশে দ্বিতীয়। আর টি২০ ফরমেটে সাকিবের উইকেট সংখ্যা ৮৮ যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এবং বিশ্বক্রিকেটে তৃতীয়। দিন গড়ানোর সাথে সাকিব নিজেকে চেনাচ্ছেন নতুন করে। বর্তমান সময়ের সেরা অলরাউন্ডার তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে। সর্বকালের সেরা হওয়ার পথেও আছেন ভালোমতোই।

সর্বশেষ সংবাদ